জীববিজ্ঞান • জীবে পরিবহন

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

নবম শ্রেণির ছাত্রী নুসরাত রান্নাঘরে লক্ষ করল, চুপসে থাকা কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রাখার কিছুক্ষণ পর ফুলে টসটসে হয়ে উঠেছে। ফুলে ওঠা কিশমিশগুলো সে ঘন চিনির দ্রবণে রাখার পর আবার চুপসে গেল। অন্যদিকে বর্ষাকালে তাদের ঘরের শুকনা কাঠের দরজাটি বাতাসের আর্দ্রতা শুষে ফুলে গিয়ে বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

  1. ক)

    ব্যাপন কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যাপন চাপ ঘাটতি বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ফুলে ওঠা কিশমিশ ঘন চিনির দ্রবণে রাখলে আবার চুপসে যায় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের কাঠের দরজা ফুলে যাওয়া এবং কিশমিশ ফুলে ওঠা একই প্রক্রিয়ায় ঘটে না— বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে প্রক্রিয়ায় কোনো দ্রব্যের অণু বেশি ঘনত্বের এলাকা থেকে কম ঘনত্বের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, তাকে ব্যাপন বলে। এটি একটি ভৌত প্রক্রিয়া।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর একই বায়ুচাপে কোনো দ্রবণ ও তার দ্রাবকের ব্যাপন চাপের পার্থক্যকে ব্যাপন চাপ ঘাটতি (Diffusion pressure deficit) বলে। কোনো কোষে পানির ঘাটতি হলে সেখানে ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয়। এর ফলে ঐ কোষ পাশের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়। উদ্ভিদের পানি শোষণে এই ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কিশমিশের কোষঝিল্লি একটি বৈষম্যভেদ্য পর্দা। পানিতে রাখলে কিশমিশের ভেতরের দ্রবণের ঘনত্ব বাইরের পানির চেয়ে বেশি থাকায় দ্রাবক (পানি) অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় নিম্ন ঘনত্বের পানি থেকে কিশমিশের ভেতরে ঢোকে, ফলে সেটি ফুলে ওঠে।

    ফুলে ওঠা কিশমিশ ঘন চিনির দ্রবণে রাখলে অবস্থা উল্টে যায়। তখন বাইরের চিনির দ্রবণের ঘনত্ব কিশমিশের ভেতরের দ্রবণের চেয়ে বেশি হয়। অভিস্রবণের নিয়মে দ্রাবক নিম্ন ঘনত্বের দ্রবণ (কিশমিশের ভেতর) থেকে উচ্চ ঘনত্বের দ্রবণের (বাইরের চিনির দ্রবণ) দিকে পর্দা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। দ্রব বৈষম্যভেদ্য পর্দা পার হতে পারে না। ভেতর থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ায় কিশমিশ আবার চুপসে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কাঠের দরজা ফুলে যাওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো ইমবাইবিশন এবং পানিতে কিশমিশ ফুলে ওঠার প্রক্রিয়াটি হলো অভিস্রবণ। দুটি প্রক্রিয়ার পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. পদার্থের প্রকৃতি: ইমবাইবিশন ঘটে সেলুলোজ, স্টার্চ, জিলাটিনের মতো হাইড্রোফিলিক কলয়েডধর্মী শুকনা বা আধা শুকনা পদার্থে। কাঠের প্রধান উপাদান সেলুলোজ হওয়ায় সেটি বাতাসের জলীয়বাষ্প বা পানি শুষে নেয়। অভিস্রবণে কিশমিশের মতো জীবন্ত বা কৃত্রিম কোষ ও বৈষম্যভেদ্য পর্দা প্রয়োজন হয়।

    ২. বৈষম্যভেদ্য পর্দার প্রয়োজনীয়তা: অভিস্রবণ ঘটে দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ বৈষম্যভেদ্য পর্দা দিয়ে আলাদা থাকলে, যেখানে দ্রাবক কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে যায়। কাঠের ক্ষেত্রে এমন কোনো পর্দা বা ঘনত্বের পার্থক্য কাজ করে না। পানি সরাসরি কলয়েড পদার্থের প্রতি আকর্ষণের কারণে শোষিত হয়।

    ৩. প্রক্রিয়ার ফল: কাঠ ইমবাইবিশনে পানি শুষে আয়তনে ফুলে যায় এবং পানি না পেলে আবার সংকুচিত হয়। কিশমিশ পানিতে অভিস্রবণে ফুলে ওঠে, আবার ঘন দ্রবণে রাখলে ঘনত্বের পার্থক্যের কারণে পানি হারিয়ে চুপসে যায়।

    ৪. উদ্ভিদে ভূমিকা: ইমবাইবিশনে কোষপ্রাচীর ও প্রোটোপ্লাজম ফুলে ওঠে এবং এটি পানি শোষণের প্রথম ধাপ হিসেবে কাজ করে। অভিস্রবণে মূলরোম মাটি থেকে এবং কোষ থেকে কোষে পানি গ্রহণ করে।

    অতএব, দুটি ঘটনা দৃশ্যত একই রকম মনে হলেও কারণ ও প্রক্রিয়া ভিন্ন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও