সাহিত্য পাঠ • সোনার তরী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

কথাসাহিত্যিক আবদুস সালাম ষাট বছর ধরে নিরলসভাবে গল্প-উপন্যাস লিখে গেছেন। তাঁর বইগুলো আজও পাঠকের হাতে হাতে ঘোরে, স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়েও তাঁর লেখা স্থান পেয়েছে। কিন্তু জীবনসায়াহ্নে তিনি গ্রামের জীর্ণ বাড়িতে একা কাটিয়েছেন, তাঁর খোঁজ নেওয়ার কেউ ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর লেখা বই বহুদিন পাঠকের প্রিয় হয়ে থাকলেও তিনি ক্রমে বিস্মৃত হয়ে যান।

  1. ক)

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?

    (1)
  2. খ)

    “শূন্য নদীর তীরে রহিনু পড়ি”— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাহিত্যিকের পরিণতি ‘সোনার তরী’ কবিতার কোন অংশের সাথে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের সাহিত্যিককে ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকের সাথে তুলনা করা যথার্থ”— কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর চরণটিতে কৃষকের শূন্য নদীতীরে একা পড়ে থাকার কথা বলা হয়েছে। কৃষক তার সব সোনার ধান নৌকায় তুলে দিয়েছে, কিন্তু নৌকায় তার নিজের স্থান হয়নি। প্রতীকী অর্থে, শিল্পস্রষ্টার সৃষ্টি মহাকালের তরীতে স্থান পায়, কিন্তু স্রষ্টার ব্যক্তিসত্তা বিস্মৃতি ও অবহেলার মধ্যে পড়ে থাকে। এর মধ্য দিয়ে নিঃসঙ্গ অপূর্ণতার বেদনা এবং আসন্ন মৃত্যুর ইঙ্গিত প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সাহিত্যিক আবদুস সালামের পরিণতি ‘সোনার তরী’ কবিতার শেষ স্তবকের সাথে সংগতিপূর্ণ। শেষ স্তবকে দেখা যায়, কৃষকের সব সোনার ধানে ছোট তরী ভরে যায় এবং কৃষকের জন্য ঠাঁই থাকে না। সে শূন্য নদীর তীরে পড়ে থাকে, আর সোনার তরী তার যা ছিল সব নিয়ে চলে যায়। উদ্দীপকে সাহিত্যিক সারা জীবনের সৃষ্টিসম্ভার রেখে গেছেন, সেই সৃষ্টি পাঠকের হাতে হাতে বেঁচে আছে, কিন্তু তিনি নিজে নিঃসঙ্গ ও বিস্মৃত। অর্থাৎ কবিতার কৃষকের মতো তাঁর সৃষ্টি টিকে আছে, স্রষ্টা হারিয়ে গেছেন। এভাবে কবিতার ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই’ ও ‘রহিনু পড়ি’ অংশের ভাব উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সাহিত্যিককে ‘সোনার তরী’ কবিতার কৃষকের সাথে তুলনা করা যথার্থ। কবিতায় কৃষক প্রতীকী অর্থে শিল্পস্রষ্টা কবি। তাঁর ছোট খেতে ফলানো সোনার ধান হলো তাঁর সৃষ্টিসম্ভার। কৃষক সবটুকু ফসল নৌকায় তুলে দেয়, অর্থাৎ স্রষ্টা তাঁর সমগ্র সৃষ্টি মহাকালের হাতে সমর্পণ করেন, এবং সেই সৃষ্টি চিরায়ত শিল্পলোকে স্থান পায়। কিন্তু মহাকালের তরীতে স্রষ্টার নিজের ঠাঁই হয় না; তাঁর ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্ব কালগ্রাসের শিকার হয়। উদ্দীপকের আবদুস সালামও ষাট বছর ধরে নিরলস সাধনায় সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, তাঁর সৃষ্টি পাঠকের মনে ও পাঠ্যবইয়ে স্থায়ী আসন পেয়েছে। অথচ তিনি নিজে জীবনের শেষে একাকী ও উপেক্ষিত, মৃত্যুর পর বিস্মৃত। কবিতার কৃষকের সাথে তাঁর মিল স্পষ্ট: দুজনেই স্রষ্টা, দুজনের সৃষ্টি বেঁচে থাকে এবং দুজনেই নিজে ব্যক্তিগতভাবে মহাকালের আশ্রয় পান না। তবে কবিতায় পরিস্থিতি প্রতীকের আবরণে প্রকাশিত, আর উদ্দীপকে তা বাস্তব জীবনের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপিত। এই পার্থক্য সত্ত্বেও মূলভাবে মিল থাকায় তুলনাটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও