ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমী খিলাফত (৯০৯-১১৭১ খ্রি.)

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব আনিস 'ক' রাজ্যের শাসক। রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এক সেনাপতি একটি উগ্র গোষ্ঠীর সাথে জোট বেঁধে রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর থেকে রাজকর্মচারীদের তাড়িয়ে দেন এবং রাজধানী আক্রমণের পরিকল্পনা করেন। অন্যদিকে রাজ্যের একটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি আনিসের আস্থা না থাকায় তিনি বিদেশি ক্রীতদাসদের মুক্তি দিয়ে একটি দেহরক্ষী বাহিনী গঠন করেন। এতে ওই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অসন্তোষ আরও বাড়ে।

  1. ক)

    আল-আজিজ কত খ্রিষ্টাব্দে ফাতেমীয় সিংহাসনে আরোহণ করেন?

    (1)
  2. খ)

    আল-আজিজ বারবারদের পরিবর্তে তুর্কিদের নিয়ে দেহরক্ষী বাহিনী গঠন করেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সীমান্তবর্তী সেনাপতির সৃষ্ট সংকটে আল-আজিজ কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'ফাতেমীয় খিলাফতের পতনের জন্য আল-আজিজই দায়ী' - উদ্দীপকের আনিসের পদক্ষেপ ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আল-আজিজ ৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে (৩৬৫ হিজরি) ফাতেমীয় সিংহাসনে আরোহণ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আল-আজিজের রাজত্বকালে বারবারদের অসন্তোষ বৃদ্ধি পায় এবং তাদের প্রতি খলিফার কোনো আস্থা ছিল না। বিদ্রোহী বারবারদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি বারবারদের পরিবর্তে তুর্কি ক্রীতদাসদের মুক্তি দিয়ে তাদের সাহায্যে একটি দেহরক্ষী বাহিনী গঠন করেন। বীরশ্রেষ্ঠ হাফতকীনকে তিনি এ বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত সংকটটি আল-আজিজের শাসনামলে সিরিয়ায় হাফতকীনের বিদ্রোহের সংকটের সাথে সম্পর্কিত। আল-আজিজ এ সংকটে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন:

    হাফতকীন সিরিয়ায় ফিরে এসে দামেস্ক থেকে ফাতেমীয় শাসকদের বিতাড়িত করেন এবং কারামাথীদের সাথে জোট বেঁধে মিশরের দরজায় হানা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ফাতেমীয়দের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্নে আল-আজিজ তখন সেনাপতি জওহরকে হাফতকীনের বিরুদ্ধে এক বিশাল সেনাবাহিনী সহ প্রেরণ করেন। জওহরের বাহিনী আসছে জেনে কারামাথীরা রামলা থেকে পালিয়ে যায়। হাফতকীন তুর্কি বাহিনী নিয়ে তিবিরিয়ানে ঘাঁটি করলে যুদ্ধ শুরু হয়। খলিফার সাহায্য পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় জওহর ক্ষতিপূরণ দিয়ে সন্ধি করতে বাধ্য হন। পরবর্তী এক যুদ্ধের পর হাফতকীন পালিয়ে যান, কিন্তু ধৃত হয়ে কায়রোতে আনীত হন এবং মর্যাদার সাথে বসবাসের সুযোগ পান।

    এছাড়া আল-আজিজ বারবারদের দমনের জন্য তুর্কি ক্রীতদাসদের নিয়ে দেহরক্ষী বাহিনী গঠন করেন, যা উদ্দীপকের আনিসের পদক্ষেপের সাথে মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আল-আজিজ ফাতেমীয় খিলাফতের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের শাসক হলেও তাঁর কিছু পদক্ষেপ পরবর্তী সময়ে খিলাফতের জন্য ক্ষতিকর হয়েছিল। উদ্দীপকে আনিসের বিদেশি দাসদের দেহরক্ষী বাহিনী গঠনের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অসন্তোষ বাড়ার বিষয়টি এর ইঙ্গিত দেয়। তবে আমি মনে করি, উক্তিটি আংশিক সত্য; কেবল আল-আজিজকে একা দায়ী করা যায় না।

    যেসব কারণে তাঁকে দায়ী করা যায়:
    ১. ইসমাইলীয় মতবাদে অতিরিক্ত গুরুত্ব: ইসমাইলীয় মতবাদে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সুন্নি মুসলমানরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
    ২. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি সহনশীল নীতি: এ নীতি পরবর্তী শাসনের জন্য কল্যাণকর হয়নি।
    ৩. তুর্কি দাসদের দেহরক্ষী বাহিনী: বারবারদের অবিশ্বাস করে তুর্কি দাসদের ওপর নির্ভর করায় অন্যদের মধ্যে বৈরীভাব তৈরি হয়, যা উদ্দীপকের আনিসের ক্ষেত্রেও দেখা যায়।

    যেসব কারণে তাঁকে একা দায়ী করা যায় না:
    ১. তিনি সুদক্ষ শাসক ছিলেন; জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যোগ্য লোকদের নিয়োগ দিয়ে প্রায় বাইশ বছর শাসন করে দেশে সমৃদ্ধি আনেন।
    ২. রাজস্ব সংস্কার ও উৎকোচ বন্ধ করে রাজস্ব বহুগুণে বৃদ্ধি করেন এবং সেনা ও নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করেন; তাঁর সময়কে ফাতেমীয়দের সোনালি যুগ বলা যায়।
    ৩. স্থাপত্য, বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জ্ঞানচর্চার পৃষ্ঠপোষকতায়ও তিনি অবদান রাখেন।

    উপসংহার: আল-আজিজের কিছু নীতির সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পতনের পটভূমি তৈরি করেছিল, তবে তাঁর শাসনামল ছিল সমৃদ্ধির। পরবর্তী দুর্বল উত্তরাধিকারীদের ব্যর্থতাও পতনের জন্য সমানভাবে দায়ী, তাই তাঁকে একমাত্র দায়ী করা সমীচীন নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও