জীববিজ্ঞান • জীবে পরিবহন
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
বৈশাখ মাসের দুপুরে ছাদবাগানে একই প্রজাতির দুটি টবের চারা X ও Y নিয়ে রুমানা পর্যবেক্ষণ করল।
| অবস্থা | চারা X | চারা Y |
|---|---|---|
| সময় | দুপুর ১২টা | সন্ধ্যা ৬টা |
| তাপমাত্রা | ৩৮°C | ২৬°C |
| বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা | কম | বেশি |
| বায়ুপ্রবাহ | জোরালো | প্রায় নেই |
| পরদিন X চারাটির পাতাগুলো ঝিমিয়ে পড়ল, অথচ টবের মাটিতে পানি কম ছিল। |
- ক)(1)
লেন্টিসেল কী?
- খ)(2)
কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কোন চারায় প্রস্বেদনের হার বেশি হবে? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের X চারার ঘটনা প্রস্বেদনকে ‘প্রয়োজনীয় অমঙ্গল’ বলার যথার্থতা প্রমাণ করে— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্ভিদে গৌণ বৃদ্ধির ফলে কাণ্ডের বাকল ফেটে যে ছিদ্রের সৃষ্টি হয় এবং যার মাধ্যমে কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়, তাকে লেন্টিসেল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্ভিদের বহিঃত্বকে বিশেষ করে পাতার উপরে ও নিচে কিউটিন নামক পদার্থের একটি আবরণ থাকে, একে কিউটিকল বলে। এই কিউটিকল ভেদ করে যে সামান্য পানি বাষ্পাকারে বাইরে বেরিয়ে যায়, তাকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে। কচি পাতায় এর পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হয়। মোট প্রস্বেদনের বেশিরভাগ ঘটে পত্ররন্ধ্র দিয়ে, কিউটিকুলার প্রস্বেদন তার তুলনায় কম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের X চারায় প্রস্বেদনের হার বেশি হবে। কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো।
১. তাপমাত্রা: X চারার পরিবেশে তাপমাত্রা ৩৮°C, যা Y এর ২৬°C এর চেয়ে বেশি। অধিক তাপে পানি সহজে বাষ্পে পরিণত হয় এবং বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা বাড়ে, ফলে প্রস্বেদন দ্রুত হয়।
২. আপেক্ষিক আর্দ্রতা: X এর চারপাশের বায়ুতে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম, তাই বায়ু অসম্পৃক্ত থাকে ও আরও জলীয়বাষ্প গ্রহণ করতে পারে। Y এর আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় বায়ু সম্পৃক্ত হয়ে প্রস্বেদন কমায়।
৩. বায়ুপ্রবাহ: X এর কাছে জোরালো বাতাস সম্পৃক্ত বায়ুকে সরিয়ে দেয়, ফলে প্রস্বেদন চলতেই থাকে। Y এর কাছে বায়ু স্থির থাকায় চারপাশ জলীয়বাষ্পে ভরে প্রস্বেদন কমে যায়।
৪. আলো: দুপুরে আলো বেশি থাকায় পত্ররন্ধ্র খোলা থাকে, কিন্তু সন্ধ্যায় আলো কমলে রন্ধ্র ছোট হয় বা বন্ধ হয়ে যায়।
এই চারটি কারণে X চারায় প্রস্বেদনের হার বেশি হবে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিজ্ঞানী কার্টিস প্রস্বেদনকে প্রয়োজনীয় অমঙ্গল (Necessary Evil) বলেছেন, কারণ এটি উদ্ভিদের জন্য উপকারী ও ক্ষতিকর দুই ভূমিকাই রাখে। উদ্দীপকের X চারার ঘটনা প্রধানত ক্ষতিকর দিকটি দেখায়।
ক্ষতিকর দিক (উদ্দীপকের সাথে সম্পর্কিত): পানি শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে উদ্ভিদে পানি ও খনিজের ঘাটতি দেখা দেয়। X চারার মাটিতে পানি কম থাকায় শোষণ কম, কিন্তু উচ্চ তাপ, কম আর্দ্রতা ও বাতাসের কারণে প্রস্বেদন আগের মতোই বেশি চলছে। ফলে পাতা ঝিমিয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে চারাটির মৃত্যুও হতে পারে। এ কারণেই প্রকৃতি শীত মৌসুমে বহু উদ্ভিদের পাতা ঝরিয়ে দেয়।
উপকারী দিক:
১. প্রস্বেদনে জাইলেম বাহিকায় টান পড়ে, ফলে মূলরোমের শোষিত পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পৌঁছায়।
২. পাতার মেসোফিলে ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয়ে পানি শোষণে সাহায্য করে।
৩. পানির বাষ্পীভবনে পাতার শোষিত তাপ কমে, ফলে কোষের তাপমাত্রা সহনীয় থাকে।
৪. এটি না থাকলে খাদ্য প্রস্তুতসহ বিপাকীয় কাজ শ্লথ হয়ে যায়।সার্বিক বিচারে প্রস্বেদন উদ্ভিদকে টিকে থাকতে সুবিধা দেয়, আবার অতিরিক্ত পানি হারানোর ক্ষতিও করে। তাই X চারার ঘটনা প্রস্বেদনকে প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলার যথার্থতা প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও