সাহিত্য পাঠ • নবান্ন

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

তানভীর তিন বছর রাত জেগে নিজের প্রথম উপন্যাসটি লিখেছেন। প্রতিটি চরিত্রকে তিনি সন্তানের মতো যত্নে গড়েছেন। বইটি প্রকাশের পর বইমেলায় প্রথম সমালোচনায় এক সমালোচক এটিকে ‘অপরিপক্ক’ বলে উড়িয়ে দেন, বেশিরভাগ পাঠকও বইটি নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি। বন্ধুদের আসরে এ নিয়ে কথা তুলতেই কেউ কেউ প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলে। তানভীরের মনে হয়, নিজের হাতে গড়া সৃষ্টিটাই তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

  1. ক)

    যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “লক্ষ্মী বোধ হয় বাণিজ্য ত্যাজি’ এবার নিবসে চাষে।”— কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের তানভীরের সঙ্গে ‘নবান্ন’ কবিতার কবির অনুভূতির সংযোগ প্রতীকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “‘নবান্ন’ কবিতার কৃষকের ছদ্মবেশে কবির নিজের কথাই বলা হয়েছে।”— উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘মরীচিকা’।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রচলিত প্রবাদ হলো ‘বাণিজ্যে লক্ষ্মী’, অর্থাৎ ব্যবসায়-বাণিজ্যেই সম্পদ আসে। কবিতায় কবি এই প্রবাদটি উল্টে দিয়েছেন। এবার কৃষকের মাঠে এত বেশি ফসল ফলেছে যে তাঁর মনে হচ্ছে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মী বাণিজ্য ছেড়ে চাষির ঘরে এসে বসেছেন। এর মাধ্যমে কৃষকের প্রাচুর্যের স্বপ্ন এবং আসন্ন সুদিনের আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নবান্ন’ কবিতায় ‘কৃষক’ ও ‘পাকা ধান’ প্রতীকের আড়ালে কবি নিজের সৃষ্টির ধ্বংস হওয়ার বেদনা প্রকাশ করেছেন। এখানে কৃষক হলেন স্বয়ং কবি আর মাসের পর মাস রক্তজল করা শ্রমে ফলানো পাকা ধান হলো তাঁর সৃষ্টিকর্ম। সেই সৃষ্টি যখন সমালোচিত হয়, সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয় না, তখন কবি পাকা ধান হারানো কৃষকের মতোই বেদনাহত হন। উদ্দীপকে তানভীর তিন বছর ধরে যত্ন নিয়ে উপন্যাস রচনা করেছেন, যা কবিতার কৃষকের ফসল ফলানোর শ্রমের সমতুল্য। সমালোচকের তাচ্ছিল্য এবং পাঠকের অনাগ্রহে তাঁর সৃষ্টির মূল্য না পাওয়ার বেদনা কবিতার ‘পাকা ধানে মই পড়া’র প্রতীকী তাৎপর্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। কবির মতো তানভীরও নিজের সৃষ্টিকে হারানোর কষ্ট অনুভব করেছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “‘নবান্ন’ কবিতার কৃষকের ছদ্মবেশে কবির নিজের কথাই বলা হয়েছে”— মন্তব্যটি যথার্থ। ‘নবান্ন’ কবিতার পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ‘পাকা ধান’-এর প্রতীকে, কৃষকের রূপকল্পে কবি যতীন্দ্রনাথ আপন সৃষ্টিকে আরও নিজের করে পেতে চান। কবিতায় কৃষক মাসের পর মাস দুর্যোগ ঠেকিয়ে, রক্ত জল করে চারা সেচে ফসল ফলিয়েছেন এবং আসন্ন সুদিনের স্বপ্ন দেখেছেন। কিন্তু এক রাতে সেই পাকা ধানে মই পড়ে যায়। এই ঘটনার আড়ালে লুকিয়ে আছে কবির আপন সৃষ্টির সঠিক মূল্যায়ন না হওয়া বা সমালোচনায় বিদ্ধ হওয়ার বেদনা। কবিতার শেষে বন্ধুর অসহিষ্ণুতার কারণে কবির কথা অসমাপ্ত থাকে; অর্থাৎ কবির কষ্টের কথা শোনার মতো সহমর্মীও নেই। উদ্দীপকের তানভীরও তিন বছরের শ্রমে গড়া সৃষ্টির প্রতি অবহেলার মুখোমুখি হয়েছেন। সমালোচকের কটাক্ষ, পাঠকের অনাগ্রহ এবং বন্ধুদের প্রসঙ্গ পাল্টানো কবিতার কৃষকের বেদনা ও বন্ধুর উদাসীনতার সঙ্গে মিলে যায়। তাঁর ‘সৃষ্টিটাই কেড়ে নেওয়া হয়েছে’ ভাবনা কবিতার প্রতীকী ব্যঞ্জনাকে স্পষ্ট করে। সুতরাং কবিতায় কৃষকের কাহিনির মধ্য দিয়ে কবিরই আত্মবেদনা প্রকাশিত হয়েছে, এ কথা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও