ভূগোল ২য় পত্র • মানচিত্র অভিক্ষেপ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে গবেষণার জন্য একটি দল ৫০° থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলের একটি মানচিত্র তৈরি করতে চায়। মানচিত্রের কেন্দ্রে মেরুবিন্দু রেখে অক্ষরেখাগুলো সমব্যবধানে আঁকা হবে। দলনেতা প্রতিভূ অনুপাত ১ : ১০০,০০০,০০০ এবং ১৫° ব্যবধান নির্ধারণ করলেন। পৃথিবীর প্রকৃত গড় ব্যাসার্ধ ২৫০,০০০,০০০ ইঞ্চি এবং π=3.14\pi = 3.14 ধরা হলো।

  1. ক)

    শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মেরুদেশীয় সমদূরবর্তী শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ দিয়ে নিরক্ষীয় অঞ্চলের মানচিত্র আঁকা যায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মানচিত্রের জন্য মেরুদেশীয় সমদূরবর্তী শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ কতটা উপযোগী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী মানচিত্রে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ এবং ১৫° ব্যবধানে অক্ষরেখার রৈখিক ব্যবধান নির্ণয় করো। এরপর ৬০° অক্ষরেখার বৃত্তের ব্যাসার্ধ বের করে অভিক্ষেপ অঙ্কনের পদ্ধতি বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শঙ্কু বা বেলনের পরিবর্তে গোলক যখন কোনো সমতল ক্ষেত্রের একটি বিন্দুতে স্পর্শ করে এবং ওই তলের ওপর অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখার ছায়াপাত করে অভিক্ষেপের ছক আঁকা হয়, তখন তাকে শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর এই অভিক্ষেপে অক্ষরেখার স্কেলের ত্রুটি কেন্দ্রের দিকে কম এবং পরিধির দিকে ক্রমশ বেশি হয়। নিরক্ষীয় অঞ্চল মেরুবিন্দু থেকে সবচেয়ে দূরে, অর্থাৎ অভিক্ষেপের প্রান্তভাগে পড়ে। প্রান্তভাগ অধিক প্রসারিত হওয়ায় সেখানে মানচিত্রের আকার ও আয়তন ঠিক থাকে না। তাই এর দ্বারা নিরক্ষীয় অঞ্চলের মানচিত্র আঁকা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দলটি ৫০° থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশের আর্কটিক অঞ্চলের মানচিত্র তৈরি করতে চায় এবং মেরুবিন্দুকে কেন্দ্রে রেখে অক্ষরেখাগুলো সমব্যবধানে আঁকতে চায়। এটি মেরুদেশীয় সমদূরবর্তী শীর্ষদেশীয় অভিক্ষেপের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়।
    উপযোগিতা: এই অভিক্ষেপে মেরুবিন্দু কেন্দ্রে থাকে এবং কেন্দ্রের দিকে স্কেলের ত্রুটি কম হয়। মেরু অঞ্চলের দিকে অক্ষ ও দ্রাঘিমারেখার স্কেল ঠিক থাকায় মেরুর সন্নিকটস্থ স্বল্প পরিসর স্থানের (যেমন—গ্রিনল্যান্ড) মানচিত্র নির্ভুলভাবে দেখানো যায়। দ্রাঘিমারেখা বরাবর স্কেল নির্ভুল থাকায় কেন্দ্র থেকে অন্যান্য দিকে দূরত্ব ও দিকও নির্ভুল হয়। সাধারণত ৫০° থেকে ৯০° অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলের মানচিত্র আঁকতে এই অভিক্ষেপ ব্যবহৃত হয়।
    সীমাবদ্ধতা: পরিধির দিকে অক্ষরেখা বরাবর স্কেলের ত্রুটি ক্রমশ বাড়ে এবং প্রান্তভাগ অধিক প্রসারিত হয়, তাই নিম্ন অক্ষাংশ বা নিরক্ষীয় অঞ্চলের মানচিত্রের জন্য এটি উপযোগী নয়।
    অতএব, আর্কটিক অঞ্চলের মানচিত্রের জন্য অভিক্ষেপটি যথেষ্ট উপযোগী।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানচিত্রে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ, r=250,000,000′′100,000,000=2.5′′r = \frac{250{,}000{,}000''}{100{,}000{,}000} = 2.5''
    পৃথিবীর পরিধি =2πr=2×3.14×2.5′′=15.7′′= 2\pi r = 2 \times 3.14 \times 2.5'' = 15.7''
    ১৫° ব্যবধানে রৈখিক ব্যবধান =15.7′′360∘×15∘=0.654′′≈0.65′′= \frac{15.7''}{360^\circ} \times 15^\circ = 0.654'' \approx 0.65''
    মেরু (৯০°) থেকে ৬০° অক্ষরেখা ৩০° দূরে, অর্থাৎ ২টি ব্যবধান দূরে। তাই ৬০° অক্ষরেখার বৃত্তের ব্যাসার্ধ =2×0.654′′=1.31′′= 2 \times 0.654'' = 1.31'' (প্রায়)।
    অঙ্কন পদ্ধতি:
    প্রথম চিত্রে ২.৫ ইঞ্চি ব্যাসার্ধ নিয়ে একটি বৃত্তাংশ আঁকতে হবে এবং চাঁদার সাহায্যে ০°, ১৫° ও ৯০° চিহ্নিত করতে হবে। ৯০° বিন্দুতে একটি স্পর্শক টেনে মেরু থেকে ০.৬৫ ইঞ্চি করে ছয়টি অংশে ৭৫°, ৬০°, ৪৫°, ৩০°, ১৫°, ০° অবস্থান চিহ্নিত করতে হবে। এগুলো অক্ষরেখার বৃত্তের ব্যাসার্ধ নির্দেশ করবে।
    দ্বিতীয় চিত্রে একটি উল্লম্ব রেখা টেনে তার মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে প্রথম চিত্রের মাপ অনুযায়ী সমকেন্দ্রিক বৃত্তগুলো আঁকতে হবে। চাঁদার সাহায্যে ১৫° সমব্যবধানে কোণ এঁকে কেন্দ্র থেকে বিচ্ছুরিত দ্রাঘিমারেখাগুলো আঁকতে হবে এবং মূল মধ্যরেখাকে ০° ধরে পূর্ব ও পশ্চিমে ১৮০° পর্যন্ত মান লিখতে হবে। সবশেষে অভিক্ষেপের নাম ও নিচে প্র. অ. ১ : ১০০,০০০,০০০ লিখতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও