সাহিত্য পাঠ • ভুলের মূল্য

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

অধ্যাপক ফারুক আহমেদ পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হয়েও সাহিত্য ও সংগীত নিয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ লেখেন। সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি আবেগ নয়, যুক্তি দিয়ে কথা বলেন এবং জটিল বিষয়কেও সহজ ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি একটি মুক্তচিন্তার সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তুলেছেন এবং তার মুখপত্রের সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন।

  1. ক)

    কাজী মোতাহার হোসেন কত সালে ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে ভূষিত হন?

    (1)
  2. খ)

    ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের অধ্যাপক ফারুক আহমেদের মধ্যে কাজী মোতাহার হোসেনের কোন কোন পরিচয়ের প্রতিফলন ঘটেছে? আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের অধ্যাপকের লেখার বৈশিষ্ট্যের সাথে ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধের রচনারীতি সংগতিপূর্ণ।”—প্রবন্ধটির আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কাজী মোতাহার হোসেন ১৯৭৫ সালে ‘জাতীয় অধ্যাপক’ পদে ভূষিত হন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিশ ও ত্রিশের দশকে মুসলিম সমাজে কুসংস্কার ও অন্ধ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুক্তি ও মুক্তচিন্তার চর্চা করার যে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাকেই ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ বলা হয়। এই আন্দোলনের মুখপত্র ছিল বিখ্যাত ‘শিখা’ পত্রিকা। কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন এই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং ‘শিখা’ পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক। আন্দোলনটি বাঙালি মুসলমান সমাজে যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের অধ্যাপক ফারুক আহমেদের মধ্যে কাজী মোতাহার হোসেনের বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক পরিচয় এবং সংগঠক ও সম্পাদক পরিচয়ের প্রতিফলন ঘটেছে।

    কাজী মোতাহার হোসেন পদার্থবিজ্ঞানের কৃতী ছাত্র ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিজ্ঞান, ধর্ম, ইতিহাস, সাহিত্য ও সঙ্গীত নিয়ে মননশীল প্রবন্ধ লিখেছেন। উদ্দীপকের ফারুক আহমেদও পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হয়ে সাহিত্য ও সংগীত নিয়ে প্রবন্ধ লেখেন। এতে লেখকের একাধারে বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক পরিচয়টি স্পষ্ট হয়।

    আবার লেখক ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’-এর অন্যতম সংগঠক এবং তার মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক ছিলেন। উদ্দীপকের অধ্যাপক শিক্ষার্থীদের নিয়ে মুক্তচিন্তার সংগঠন গড়েছেন এবং তার মুখপত্র সম্পাদনা করেন। সুতরাং এই দুটি দিকেই তিনি লেখকের পরিচয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের অধ্যাপক যুক্তিনির্ভর ও সহজবোধ্য ভাষায় লেখেন। কাজী মোতাহার হোসেনের গদ্যরচনার অন্যতম বৈশিষ্ট্যও যুক্তিশীলতা ও স্বচ্ছতা। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

    ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধে লেখক ভুলকে মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক ও অপরিহার্য বলেছেন এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন, মানুষ দুর্বল ও তার জ্ঞান সংকীর্ণ, তাই ভুল অনিবার্য। জ্ঞানের অসম্পূর্ণতার প্রমাণ হিসেবে তিনি ইতিহাস, বিজ্ঞান, দর্শন ইত্যাদি ক্ষেত্রের বাস্তব দৃষ্টান্তের কথা বলেছেন। জটিল বিষয় বোঝাতে তিনি সহজ উপমা ব্যবহার করেছেন; যেমন শিশুকে আগুনের শিখা বা ছুরির ধার থেকে বাঁচানো যায় না, ফুলকে নানা দিক থেকে দেখলে নতুন সৌন্দর্য চোখে পড়ে, সত্যকেও তেমনি নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পরখ করতে হয়। এতে বক্তব্য স্বচ্ছ ও সহজবোধ্য হয়েছে।

    উদ্দীপকের অধ্যাপক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আবেগের বদলে যুক্তি দেন এবং জটিল বিষয়কে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেন। লেখকের রচনারীতির সাথে এটি মিলে যায়। তবে উদ্দীপকে শুধু রচনারীতির দিকটি এসেছে; ভুলের গুরুত্ব বা মানবজীবনের উপলব্ধির কথা আসেনি। তাই রচনারীতির দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও