সাহিত্য পাঠ • বিলাসী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

বাজারে দুই ভাই কাদের ও জমির ভেষজ ওষুধের দোকান চালান। জমির ভেজাল ও নকল জিনিস ভালো ওষুধ বলে বিক্রি করে বেশি লাভ করেন। কাদের বারবার নিষেধ করে বলেন, ‘আমাদের তো খাবার ভাবনা নেই, মিছামিছি মানুষ ঠকাব কেন?’ জমির হেসে উত্তর দেন, ‘সবাই তো করে, এতে দোষ কী?’ কিছুদিন পর ক্রেতাদের অভিযোগে জমিরের দোকানে অভিযান চালানো হয় এবং তাঁকে জরিমানা করা হয়।

  1. ক)

    সাপুড়েদের সবচেয়ে লাভের ব্যবসা কী?

    (1)
  2. খ)

    বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে ‘এমন করে মানুষ ঠকায়ো না’ বলেছিল কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কাদেরের মধ্য দিয়ে বিলাসীর যে বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের জমির ও ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের মনোভাবের মধ্যে মিল ও অমিল বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাপুড়েদের সবচেয়ে লাভের ব্যবসা হলো শিকড় বিক্রি করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাপুড়েরা শিকড় বিক্রির আগে সাপের মুখে পোড়া লোহার শিকের ছ্যাঁকা দিত, ফলে সাপ শিকড় দেখলেই পালাতে চাইত। এটি আসলে মানুষকে ঠকানোর কৌশল, কারণ শিকড়ের কোনো ক্ষমতাই নেই। বিলাসী ছিল সৎ ও বিবেকবান। সে মনে করত তাদের খাওয়া-পরার অভাব নেই, তাই মিছামিছি সরল মানুষকে ঠকানোর কোনো যুক্তি নেই। এ কারণেই সে মৃত্যুঞ্জয়কে এমন প্রতারণা করতে নিষেধ করেছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কাদেরের মধ্য দিয়ে বিলাসীর সততা ও বিবেকবোধ ফুটে উঠেছে। কাদের নকল জিনিস বিক্রি করে অন্যায় লাভ করতে রাজি নন; তিনি ভাইকেও নিষেধ করেন এবং বলেন তাঁদের খাবারের অভাব নেই। ‘বিলাসী’ গল্পে সাপের মুখে লোহার শিক পুড়িয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে শিকড় বিক্রির প্রতারণা বিলাসীর মোটেই পছন্দ ছিল না। সে মৃত্যুঞ্জয়কে বলত, ‘আমাদের তো খাবার ভাবনা নেই, আমরা কেন মিছামিছি লোক ঠকাতে যাই।’ সাপুড়ের মেয়ে হয়েও সে নীতিতে অবিচল ছিল। কাদেরের মতোই বিলাসী অভাবের মধ্যেও লোভকে প্রশ্রয় দেয়নি। তাই কাদেরের চরিত্রে বিলাসীর সততা ও নৈতিক দৃঢ়তা প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জমির ও মৃত্যুঞ্জয়ের মনোভাবে মিল ও অমিল দুই-ই আছে। মিলের দিকটি হলো, দুজনেই অন্যায় কাজের পক্ষে ‘সবাই করে, এতে দোষ কী’ জাতীয় যুক্তি দাঁড় করান। উদ্দীপকে জমির বলেন, ‘সবাই তো করে, এতে দোষ কী?’ আর গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ঠিক একই কথা বলে শিকড় বিক্রির প্রতারণাকে সমর্থন করেছে। উভয়েই অর্থের লোভ সামলাতে পারেননি। বিলাসী বাধা দিলেও নগদ টাকার লোভে মৃত্যুঞ্জয় সাপ ধরতে যেত, আর জমির বেশি লাভের আশায় ভেজাল বিক্রি করতেন। অমিলের দিকটি হলো, জমির কেবল লাভের জন্যই অন্যায় করেন এবং ধরা পড়ে শাস্তি পান। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় ছিল সরল ও হৃদয়বান মানুষ। বিলাসীর সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা, সমাজের নিন্দা উপেক্ষা করে বিলাসীকে গ্রহণ করার সাহস তাকে সাধারণ প্রতারকদের থেকে আলাদা করেছে। তার পরিণতিও ভিন্ন, কারণ সাপের কামড়ে সে প্রাণ হারায়, আইনের হাতে শাস্তি পায়নি। সুতরাং মনোভাবে সাদৃশ্য থাকলেও চরিত্র ও পরিণতির দিক থেকে দুজনের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও