‍ইতিহাস ২য় পত্র • স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব

‍ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন

‘ক’ রাষ্ট্রের প্রভাবাধীন ‘খ’ দেশে বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ ব্যক্তিস্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। জনপ্রিয় নেতা হামিদ ক্ষমতায় এসে জোটনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করেন, ‘ক’ রাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ত্যাগ করেন এবং ‘ক’-বিরোধী এক নেতাকে মুক্তি দেন। এতে ‘ক’ রাষ্ট্র সেনা পাঠিয়ে তাকে সরিয়ে একজন অনুগত নেতাকে ক্ষমতায় বসায়। বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থায় উত্থাপিত হলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

  1. ক)

    হাঙ্গেরিতে সোভিয়েত সমর্থনে কোন কমিউনিস্ট নেতা প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার স্থাপন করেন?

    (1)
  2. খ)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা হাঙ্গেরির সোভিয়েতবিরোধী গণজাগরণে মদদ দিয়েছিল কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনা হাঙ্গেরির কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘উদ্দীপকের শেষ বাক্যে ইঙ্গিতকৃত পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার দুর্বলতাই দায়ী’— হাঙ্গেরির আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাঙ্গেরিতে সোভিয়েত সমর্থনে কমিউনিস্ট নেতা জানেস কাদার প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার স্থাপন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সোভিয়েত প্রভাববলয়ে থাকার কারণে হাঙ্গেরিসহ পূর্ব ইউরোপের উর্বর অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা (ফ্রান্স, ইংল্যান্ড) শোষণের সুযোগ পায়নি। এ অঞ্চল তাদের কাছে সব সময় প্রলোভনের বস্তু ছিল। তারা বুঝেছিল, সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণমুক্ত না হলে এখান থেকে স্বার্থ উদ্ধার সম্ভব নয়। তাই তারা অতি সূক্ষ্মভাবে সোভিয়েতবিরোধী গণজাগরণে মদদ দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনা ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে হাঙ্গেরির সোভিয়েতবিরোধী গণআন্দোলন ও ইমের নেগি সরকারের পতনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    কমিউনিস্ট শাসন থেকে মুক্তি ও সোভিয়েত বিরোধিতার লক্ষ্যে হাঙ্গেরিতে আন্দোলন শুরু হয়, যাতে বুদ্ধিজীবীরাও ব্যক্তিস্বাধীনতার দাবিতে যোগ দেন। স্টালিনবাদ উচ্ছেদের ফলে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে বিতাড়িত ইমের নেগির নেতৃত্বে জনপ্রিয় সরকার ক্ষমতায় বসে। নেগি সরকার জোটনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করে, ওয়ারশ চুক্তি পরিত্যাগ করে এবং সোভিয়েতবিরোধী ‘মেনডিসে’কে মুক্তি দেয়। উদ্দীপকের হামিদের কার্যক্রম এর সাথে মেলে। এরপর সোভিয়েত ইন্ধনে নেগি সরকারের পতন হয় এবং সোভিয়েত সেনাবাহিনী প্রবেশ করে কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। জানেস কাদার ক্ষমতায় আসেন। উদ্দীপকে ‘ক’ রাষ্ট্রের সেনা পাঠিয়ে অনুগত নেতাকে বসানো ঠিক এ ঘটনারই প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শেষ বাক্যে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলতে জাতিসংঘকে বোঝানো হয়েছে। হাঙ্গেরির ক্ষেত্রে জাতিসংঘ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারায় এ সংস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করা হলেও কেবল তা-ই একমাত্র কারণ নয়। আমি মনে করি, মন্তব্যটি আংশিক যথার্থ।

    জাতিসংঘের দুর্বলতার দিক:
    ১. হাঙ্গেরির ঘটনা নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো ক্ষমতা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পথে বাধা ছিল।
    ২. ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে সাধারণ পরিষদে গঠিত ছয় সদস্যের তথ্য অনুসন্ধানী দল রিপোর্টে বলে, কাদার সরকার সামরিক হস্তক্ষেপের ফলেই ক্ষমতা পেয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার মতো বৃহৎ শক্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ শাস্তিমূলক কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
    ৩. অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে নেগি প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত হন, জাতিসংঘ তা রোধ করতে পারেনি।

    অন্যান্য কারণ:
    ১. একই সময়ের সুয়েজ সংকটের কারণে বিশ্ব মনোযোগ বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে হাঙ্গেরির বিষয়ে সুরাহা হয়নি।
    ২. স্নায়ুযুদ্ধের পরিবেশে পরাশক্তির প্রভাববলয়ে হস্তক্ষেপ করার সামর্থ্য বা ইচ্ছা পশ্চিমা শক্তিগুলোরও সীমিত ছিল।

    সুতরাং জাতিসংঘের কাঠামোগত দুর্বলতা বিশেষ করে বৃহৎ শক্তির ওপর শাস্তি আরোপের অক্ষমতা এর প্রধান কারণ হলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও সমানভাবে দায়ী ছিল। তাই মন্তব্যটি আংশিক যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও