জীববিজ্ঞান • জীবপ্রযুক্তি

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

গবেষক ড. মিজান একটি বিরল অর্কিডের শীর্ষমুকুল থেকে মাত্র কয়েকটি কোষ আলাদা করলেন। তিনি অ্যাগার, সুক্রোজ, ভিটামিন, খনিজ ও ফাইটোহরমোন মিশ্রিত জীবাণুমুক্ত মাধ্যমে কোষগুলো রাখলেন। কিছুদিন পর কোষগুলো বিভাজিত হয়ে কোষপুঞ্জ তৈরি করল এবং ক্রমে পূর্ণাঙ্গ চারায় রূপ নিল। তিনি বললেন, ‘গাছের প্রতিটি অংশের কোষের মধ্যেই আস্ত একটি গাছ তৈরির ক্ষমতা লুকিয়ে আছে।’

  1. ক)

    টোটিপোটেন্ট কোষ কী?

    (1)
  2. খ)

    টিস্যু কালচারের মূলনীতি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ড. মিজানের ব্যবহৃত কালচার মাধ্যমের উপাদানগুলোর কাজ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘ড. মিজানের গবেষণার সাফল্য টোটিপোটেন্সি, মাতৃ উদ্ভিদ নির্বাচন ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল’— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে কোষ বিভাজিত ও রূপান্তরিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জীব সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে, তাকে টোটিপোটেন্ট (Totipotent) কোষ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে টোটিপোটেন্ট স্টেম কোষ থাকে। এই কোষগুলো উপযুক্ত পরিবেশ ও পুষ্টি পেলে বিভাজিত হয়ে পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ গঠন করতে পারে। তাই উদ্ভিদের প্রায় যেকোনো অংশ থেকে হুবহু আরেকটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ জন্মানো সম্ভব। এটিই টিস্যু কালচারের মূলনীতি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কালচার মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান সরবরাহ করা হয়। উদ্দীপকের উপাদানগুলোর কাজ হলো:
    ১. খনিজ পুষ্টি ও ভিটামিন: কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি জোগায়।
    ২. সুক্রোজ: শক্তি ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে।
    ৩. ফাইটোহরমোন: কোষ বিভাজন এবং ক্যাল্লাস, বিটপ ও মূল সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
    ৪. অ্যাগার: জমাট বাঁধার উপাদান হিসেবে মাধ্যমকে প্রায় কঠিন (semi-solid) করে, যাতে এক্সপ্লান্ট স্থির থাকতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ড. মিজানের পদ্ধতিটি টিস্যু কালচার। এর সাফল্য নিম্নোক্ত বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল:
    ১. টোটিপোটেন্সি: শীর্ষমুকুলের কোষে টোটিপোটেন্ট ক্ষমতা আছে বলেই কোষগুলো বিভাজিত হয়ে ক্যাল্লাস ও পরে অণুচারা সৃষ্টি করতে পেরেছে। এই ক্ষমতা না থাকলে পূর্ণাঙ্গ চারা সৃষ্টি হতো না।
    ২. মাতৃ উদ্ভিদ নির্বাচন: স্বাস্থ্যবান ও রোগমুক্ত মাতৃ উদ্ভিদ নির্বাচন করলে সৃষ্ট চারা একই উন্নত বৈশিষ্ট্য ও রোগমুক্ত অবস্থা পায়। রোগাক্রান্ত গাছ থেকে নিলে সব চারা রোগাক্রান্ত হতো।
    ৩. জীবাণুমুক্ত মাধ্যম: মাধ্যমে পুষ্টি ও সুক্রোজ থাকায় ছত্রাক-ব্যাকটেরিয়া সহজে জন্মাতে পারে এবং এক্সপ্লান্ট নষ্ট করে। তাই ১২১° সে. তাপমাত্রা ও ১৫ lb/sq. inch চাপে ২০ মিনিট অটোক্লেভ করে জীবাণুমুক্ত করা আবশ্যক।
    ৪. উপযুক্ত পরিবেশ ও খাপ খাওয়ানো: নিয়ন্ত্রিত আলো-তাপমাত্রা (২৫±২° সে.) এবং পরে প্রাকৃতিক পরিবেশে ধীরে ধীরে খাপ খাওয়ানো জরুরি।
    সুতরাং টোটিপোটেন্সি মূল ভিত্তি হলেও সঠিক মাতৃ উদ্ভিদ ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ ছাড়া সফল চারা পাওয়া সম্ভব নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও