বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
'ক' ও 'খ' নামের দুটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে একটি নদীর পানি নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি প্রথমে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সকল সদস্য রাষ্ট্রের সভায় আলোচিত হয়। পরে ১৫ সদস্যের একটি অঙ্গে সমাধানের প্রস্তাব ওঠে, কিন্তু স্থায়ী পাঁচ সদস্যের একটি রাষ্ট্র আপত্তি জানানোয় প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। অবশেষে নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত একটি অঙ্গে আইনগতভাবে বিরোধটি মীমাংসা করা হয়।
- ক)(1)
জাতিসংঘের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
- খ)(2)
নিরাপত্তা পরিষদকে জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৫ সদস্যের অঙ্গটির গঠন ও প্রস্তাব বাতিল হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের তিনটি অঙ্গ কীভাবে ভূমিকা রেখেছে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নিরাপত্তা পরিষদ জাতিসংঘের সবচেয়ে কার্যকরী পরিষদ। এটি ৫টি স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী মোট ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব মূলত এই পরিষদের। স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভেটো ক্ষমতা থাকায় যেকোনো সিদ্ধান্তে এর প্রভাব অত্যন্ত বেশি। এসব কারণে একে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ১৫ সদস্যের অঙ্গটি হলো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
গঠন: এ পরিষদে মোট ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র আছে। এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী সদস্য, যথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য, যারা আঞ্চলিক ভিত্তিতে দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়।
প্রস্তাব বাতিলের কারণ: স্থায়ী পাঁচ সদস্যের প্রত্যেকের ভেটো বা কোনো প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার ক্ষমতা আছে। উদ্দীপকে স্থায়ী সদস্যদের একটি রাষ্ট্র আপত্তি জানিয়ে এই ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। ফলে অন্য সদস্যরা সমর্থন করলেও প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে গেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক বিচারালয় ভূমিকা রেখেছে।
১. সাধারণ পরিষদ: জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে এটি গঠিত। একে বিতর্ক সভা বলা হয়। বিরোধটি এখানে প্রথম আলোচিত হয়েছে, যা সব রাষ্ট্রকে মত প্রকাশের সুযোগ দিয়ে বিষয়টিকে বিশ্ববাসীর সামনে এনেছে।
২. নিরাপত্তা পরিষদ: শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান অঙ্গ হিসেবে এখানে সমাধানের প্রস্তাব ওঠে। কিন্তু একটি স্থায়ী সদস্যের ভেটোর কারণে প্রস্তাব বাতিল হয়, ফলে এখানে সমাধান হয়নি। এতে বোঝা যায় এ অঙ্গের ক্ষমতা প্রবল হলেও ভেটো এর কার্যকারিতা সীমিত করতে পারে।
৩. আন্তর্জাতিক বিচারালয়: আন্তর্জাতিক বিবাদ মীমাংসা এর কাজ। হেগে অবস্থিত এ আদালতের ১৫ জন বিচারক আইনের ভিত্তিতে বিরোধটি মীমাংসা করেছেন।অতএব, তিনটি অঙ্গ পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে। রাজনৈতিক পথে সমাধান না হলে আইনগত পথে সমাধান সম্ভব হয়েছে, যা জাতিসংঘের গঠন কাঠামোর কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও