বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
হাইওয়ে পুলিশের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছর একটি জেলার মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২৫০ জন ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৪% এর বয়স ১৫ বছরের নিচে, ৩৮% এর বয়স ১৬ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং বাকিদের বয়স ৫০ বছরের বেশি। নিহতদের মধ্যে করিম সাহেব ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে।
- ক)(1)
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান শিকার কারা?
- খ)(2)
সড়ক দুর্ঘটনায় উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আহত বা নিহত হলে তার পরিবারের শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী ১৫ বছরের নিচের, ১৬-৫০ বছর বয়সী এবং ৫০ বছরের বেশি বয়সী হতাহতের সংখ্যা নির্ণয় করো এবং তথ্যটি কী নির্দেশ করে তা লেখো।
- ঘ)(4)
করিম সাহেবের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও সমাজে কী কী প্রভাব পড়তে পারে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান শিকার উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই সাধারণত পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। দুর্ঘটনায় তিনি আহত বা নিহত হলে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যায় অথবা চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার খরচ চালানো কঠিন হয়ে ওঠে এবং অনেক শিশুকে পড়াশোনা বন্ধ করে উপার্জনের চেষ্টা করতে হয়। এভাবে শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মোট হতাহত ২৫০ জন।
১৫ বছরের নিচে: জন।
১৬-৫০ বছর বয়সী: জন।
৫০ বছরের বেশি: শতকরা হার , অর্থাৎ জন। (যাচাই: জন।)
এই তথ্য নির্দেশ করে যে, সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু-কিশোর (৬০ জন), কর্মক্ষম বয়সী (৯৫ জন) এবং প্রবীণ (৯৫ জন) প্রায় সব বয়সের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ১৬-৫০ বছর বয়সী উপার্জনক্ষম মানুষের হতাহতের সংখ্যা অনেক, যা পরিবারগুলোর জন্য মারাত্মক অর্থনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। আবার শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য, যা তাদের অসতর্ক চলাচল ও ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে পরিবার ও সমাজে বহুমুখী প্রভাব পড়ে। করিম সাহেবের পরিবারেও তা পড়তে পারে।
পারিবারিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব: তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে যাবে এবং সদস্যদের দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হবে। শিশুদের শিক্ষা ব্যাহত হবে।
মানসিক প্রভাব: পরিবারের সদস্যরা তীব্র শোক ও হতাশায় ভুগবে। মানসিক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে, যা কখনো কখনো আত্মহত্যার দিকেও নিয়ে যায়।
সামাজিক প্রভাব: আয়ের উৎস না থাকলে কেউ কেউ ভিক্ষাবৃত্তির মতো পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হতে পারে, কেউ জীবন নির্বাহের জন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, আবার কেউ হতাশা থেকে মাদকাসক্ত হয়ে যায়। অল্পবয়সী সন্তানরা শিশুশ্রম বা কিশোর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।
রাষ্ট্রীয় প্রভাব: দুর্ঘটনার পর ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়, কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, পণ্য পরিবহন বিলম্বিত হয়ে দ্রব্যমূল্য বাড়ে এবং জরুরি চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হয়।
সুতরাং করিম সাহেবের মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারকেই নয়, আর্থ-সামাজিক ও মানসিক জীবনকেও বিপর্যস্ত করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও