সাহিত্য পাঠ • শিক্ষাচিন্তা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

“মুক্তচিন্তা পাঠচক্র” নামের একটি সংগঠনের সদস্য কলেজশিক্ষক নাসির সাহেব বহু বছর আগের এক বিখ্যাত পণ্ডিতের লেখা হুবহু অনুসরণ করে ক্লাসে পড়ান। সেই পণ্ডিত যে সময়ে বাস করতেন তার সমস্যা আজকের থেকে ভিন্ন ছিল, কিন্তু নাসির সাহেব তা বিচার করেন না। এতে তাঁর শিক্ষার্থীরা বর্তমান জীবনের সঙ্গে শিক্ষাকে মেলাতে পারে না। সংগঠনের তরুণ সদস্য শিমুল তাঁকে বলে, “পণ্ডিতকে শ্রদ্ধা করা ভালো, কিন্তু নিজের বিচারবুদ্ধিকে খাটাতে হবে।”

  1. ক)

    ‘ধ্রুব’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “এই যুগের মহাপুরুষের অনুবর্তিতা অন্য যুগের লোকদের করতে হয় যথেষ্ট সচেতন হয়ে।”—কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নাসির সাহেবের সমস্যাটি ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “শিমুলের বক্তব্যে ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধের লেখকের জীবনদৃষ্টিরই প্রতিফলন ঘটেছে।”—লেখক-পরিচিতি ও প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ধ্রুব’ শব্দের অর্থ চিরন্তন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মহাপুরুষ প্রতিভাবান ও শক্তিমান হলেও তিনি বিশেষ যুগের প্রভাবে গঠিত। তাঁর চিন্তা ও কাজের বিশেষত্ব তাঁর যুগ-ধর্মের ফল। তাই অন্য যুগের মানুষ যদি সচেতন না হয়ে তাঁকে হুবহু অনুসরণ করে, তবে নিজের যুগের উপযোগী করে জীবনকে সার্থক করতে পারে না। এজন্যই লেখক সচেতন অনুসরণের কথা বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নাসির সাহেবের সমস্যাটি ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধে বর্ণিত চিন্তাশীলদের প্রভাবজনিত বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত।

    প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, পাশ্চাত্য প্রভাব ও দারিদ্র্যের চেয়েও বেশি বিশৃঙ্খলা এনেছে একালের চিন্তাশীলদের প্রভাব। মহাপুরুষ তাঁর যুগ-ধর্মের প্রভাবে গঠিত। তাই তাঁর অনুসরণ অন্য যুগের লোকদের সচেতন হয়ে করতে হয়; নইলে নিজের যুগে জীবনকে সার্থক করার সুযোগ থেকে তাঁরা বঞ্চিত হন। উদ্দীপকে নাসির সাহেব বহু আগের পণ্ডিতের লেখা হুবহু অনুসরণ করেন, তাঁর যুগের সঙ্গে বর্তমান যুগের পার্থক্য বিচার করেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা বর্তমান জীবনের সঙ্গে শিক্ষাকে মেলাতে পারে না। এটি প্রবন্ধে উল্লিখিত সমস্যারই বাস্তব রূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। শিমুল পণ্ডিতকে শ্রদ্ধা করলেও নিজের বিচারবুদ্ধি খাটানোর কথা বলেছে। এটি ‘শিক্ষাচিন্তা’ প্রবন্ধের লেখক কাজী আবদুল ওদুদের জীবনদৃষ্টির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

    প্রবন্ধে লেখক মহাপুরুষের অনুসরণ সচেতনভাবে করার কথা বলেছেন এবং শিক্ষককে প্রথমত বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। লেখকের জীবনও তার প্রতিফলন। তিনি ঢাকার ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর সদস্য ছিলেন এবং ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন। এই আন্দোলনের মূল কথা ছিল অন্ধ অনুসরণ নয়, যুক্তি ও বুদ্ধির স্বাধীন প্রয়োগ। তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন; এই প্রবন্ধটিও তিনি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের অধিবেশনে পাঠ করেন।

    উদ্দীপকের শিমুলও অন্ধ অনুকরণের পরিবর্তে বিচারবুদ্ধির ব্যবহারকে গুরুত্ব দিয়েছে। আর নাসির সাহেব সেই বিচারবুদ্ধির অভাবে আক্রান্ত। সুতরাং শিমুলের বক্তব্য লেখকের মুক্তবুদ্ধির জীবনদৃষ্টিরই প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও