সাহিত্য পাঠ • জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতিতে সাহিত্য, গান ও স্লোগান

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

কয়েক মাস ধরে একটি মফস্বল শহরের দেয়ালে রাতের আঁধারে কারা যেন বিষণ্ন এক তরুণের ছবি এঁকে যাচ্ছে। ছবির পাশে লেখা থাকে ‘আমরা কবে মুক্ত হব?’। কে আঁকছে কেউ জানে না, কারও অনুমতিও নেওয়া হয়নি। ছবিগুলোতে বাকস্বাধীনতার সংকোচন ও শুভবোধের অভাবের কথা ফুটে উঠেছে। শহরের মানুষ থমকে দাঁড়িয়ে ছবিগুলো দেখে এবং নিজেদের মনের কথার প্রতিফলন খুঁজে পায়।

  1. ক)

    বাংলাদেশে গ্রাফিতি বিষয়টি কোন সময়ে আলোচনায় আসে?

    (1)
  2. খ)

    “দেয়ালের লেখা কিংবা চিত্র মানেই কিন্তু গ্রাফিতি নয়”—কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতিতে সাহিত্য, গান ও স্লোগান’ রচনার কোন দিকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের কর্মকাণ্ডকে গ্রাফিতি বলা যায়”—‘দেয়াল লিখন’ ও গ্রাফিতির পার্থক্যের আলোকে উক্তিটি বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশে গ্রাফিতি বিষয়টি ২০১৬-২০১৭ সালের দিকে আলোচনায় আসে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর গ্রাফিতি কেবল প্রতিবাদের অনুষঙ্গ। দেয়ালে যা-ই লেখা বা আঁকা হোক তা গ্রাফিতি হয়ে ওঠে না। কারও অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে দেয়ালে বা প্রদর্শনযোগ্য স্থানে যা লেখা বা আঁকা হয়, কেবল তাকেই গ্রাফিতি বলা যায়। বিজ্ঞাপন বা সাধারণ সাজসজ্জার দেয়ালচিত্রে এ বৈশিষ্ট্য থাকে না। তাই দেয়ালের সব লেখা বা চিত্র গ্রাফিতি নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঘটনাটি রচনায় বর্ণিত ‘সুবোধ’ নামক কল্পিত চরিত্রের গ্রাফিতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রচনা অনুযায়ী ২০১৬-২০১৭ সালের দিকে রাতের বেলা সবার অলক্ষ্যে দেয়ালে বিক্ষুব্ধ-বিভ্রান্ত এক তরুণের বিমূর্ত ছবি আঁকা হতো, পাশে লেখা থাকত ‘সুবোধ তুই পালিয়ে যা’, ‘সুবোধ কবে হবে ভোর?’। এর মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয়, শুভবোধের অভাব ও বাকস্বাধীনতার সংকোচনের কথা তুলে ধরা হতো। উদ্দীপকেও অচেনা কেউ রাতের আঁধারে বিষণ্ন তরুণের ছবি এঁকে ‘আমরা কবে মুক্ত হব?’ লিখছে এবং ছবিগুলোতে বাকস্বাধীনতার সংকোচন ও শুভবোধের অভাব ফুটে উঠেছে। দুই ক্ষেত্রেই আঁকিয়ে অজ্ঞাত, অনুমতিহীন এবং ছবির মাধ্যমে সমাজের অবরুদ্ধ অবস্থার প্রতিবাদ প্রকাশ পেয়েছে। তাই উদ্দীপকটি সুবোধ গ্রাফিতির দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রচনা অনুযায়ী ‘দেয়াল লিখন’ বা ‘চিকা মারা’ বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত। দেয়াল লিখনে সাধারণত স্লোগান-জাতীয় কথা লেখা হয়, আর গ্রাফিতিতে থাকে কথা ও চিত্র দুটোই। তা ছাড়া গ্রাফিতি কেবল প্রতিবাদের অনুষঙ্গ; কারও অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে দেয়ালে যা আঁকা হয়, তাই গ্রাফিতি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, দেয়ালে কেবল স্লোগান নয়, বিষণ্ন তরুণের ছবির পাশে ‘আমরা কবে মুক্ত হব?’ লেখা হচ্ছে। অর্থাৎ এখানে কথা ও চিত্র দুটোই আছে, যা দেয়াল লিখনের চেয়ে গ্রাফিতির বৈশিষ্ট্য। এর উদ্দেশ্য সাধারণ প্রচার নয়, বরং বাকস্বাধীনতার সংকোচন ও শুভবোধের অভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। আঁকিয়েরা কারও অনুমতি নেয়নি এবং শহরের মানুষ ছবিগুলোতে নিজেদের মনের কথার প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছে; এটি জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর শর্ত পূরণ করে।

    সুতরাং প্রতিবাদী উদ্দেশ্য, চিত্র ও ভাষার সমন্বয়, অনুমোদনহীনতা এবং জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন—সব বিচারেই উদ্দীপকের কর্মকাণ্ড গ্রাফিতি। উক্তিটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও