ভূগোল ২য় পত্র • বাণিজ্য

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

'A' ও 'B' দুটি সার্বভৌম দেশ। 'A' দেশের জলবায়ু ও মাটি চা-চাষের জন্য উপযোগী এবং দেশটি উদ্বৃত্ত চা উৎপাদন করে। 'B' দেশ উন্নত যন্ত্রপাতি শিল্পে দক্ষ, কিন্তু সেখানে চা উৎপাদন সম্ভব নয়। দুই দেশের মুদ্রা, ভাষা, ক্রেতাদের রুচি, কর ব্যবস্থা ও আর্থিক নীতি ভিন্ন। তবুও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত পণ্য বিনিময় হয়।

  1. ক)

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ভৌগোলিক পরিবেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'A' ও 'B' দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মুদ্রা, ক্রেতার রুচি ও আর্থিক নীতির পার্থক্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃতিকে কীভাবে প্রভাবিত করে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো দেশ যখন তার ভৌগোলিক সীমারেখার বাইরে অবস্থিত এক বা একাধিক দেশের সাথে দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকার্যের আদান-প্রদান করে, তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি ভৌগোলিক পরিবেশের পার্থক্যের কারণে বিশেষ কোনো দেশ বিশেষ দ্রব্য উৎপাদনে আপেক্ষিক সুবিধা লাভ করে। যেমন- বাংলাদেশে পাটশিল্প। ফলে সব দেশে সব পণ্য উৎপাদন সম্ভব হয় না। এই ভৌগোলিক ভিন্নতা ও আন্তর্জাতিক শ্রমবিভাগই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে 'A' ও 'B' দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংঘটিত হওয়ার প্রধান কারণ হলো প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক পরিবেশের বিভিন্নতা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ভৌগোলিক পরিবেশ ভিন্ন হওয়ায় কোনো দেশ কৃষিজাত উৎপাদনে দক্ষ হয়, আবার কোনো দেশ শিল্পজাত উৎপাদনে দক্ষ হয়। উদ্দীপকের 'A' দেশের অনুকূল জলবায়ু ও মাটির কারণে সেখানে চা-চাষ হয় এবং উদ্বৃত্ত চা উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে 'B' দেশ যন্ত্রপাতি শিল্পে দক্ষ, কিন্তু চা উৎপাদনে অক্ষম। ফলে 'B' দেশ 'A' দেশ থেকে চা আমদানি করে এবং 'A' দেশ 'B' দেশ থেকে যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে। এভাবে উভয় দেশের পণ্যের বিনিময় ঘটে, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে 'A' ও 'B' দেশের মুদ্রা, ভাষা, ক্রেতার রুচি, কর ব্যবস্থা ও আর্থিক নীতি ভিন্ন, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃতি নির্ধারণ করে। ১. পৃথক মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থা: প্রতিটি দেশে মুদ্রা ও ব্যাংক ব্যবস্থা আলাদা। তাই প্রতিটি দেশ অধিক লাভের আশায় নিজের অনুকূলে বাণিজ্যের শর্ত চায়; দুই দেশ একই শর্তে রাজি হলেই বাণিজ্য সংঘটিত হয়। ২. পৃথক বাজার ব্যবস্থা: ক্রেতাদের রুচি, পছন্দ, অভ্যাস ও ভাষার পার্থক্যের কারণে বাজার আলাদা হয়, ফলে একে অপরের বাজারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাণিজ্য গড়ে ওঠে। ৩. অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: কর ব্যবস্থা, রাজস্ব নীতি, আর্থিক নীতি ও শ্রম নীতির পার্থক্যের কারণে উৎপাদন ব্যয় ও পণ্যের দাম ভিন্ন হয়, যা বাণিজ্যে গতিশীলতা সৃষ্টি করে। ৪. উপাদানের গতিশীলতা: ভাষা, দূরত্ব ও সামাজিক রীতিনীতির পার্থক্যের কারণে শ্রম, মূলধন ও উদ্যোক্তার গতিশীলতা কমে, ফলে উপাদান নিয়ে না গিয়ে পণ্য বিনিময় করা হয়। এসব কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য থেকে ব্যাপক ও জটিল প্রকৃতির এবং বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যনীতি অনুযায়ী ভিন্নরূপ হয়ে থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও