বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
রিয়া তার ভারতে থাকা মামার কাছ থেকে জানল, জুলাই মাসে সেখানে সমুদ্রের দিক থেকে আসা আর্দ্র বায়ু প্রচুর বৃষ্টি ঘটায় এবং বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এ সময়েই হয়। অন্যদিকে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে আকাশ থাকে পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত, বাতাস শুষ্ক ও শীতল। মামা আরও বললেন, গ্রীষ্মে রাজস্থানের মরু অঞ্চলে ভীষণ গরম পড়ে।
- ক)(1)
ভারতে বর্ষাকাল কোন মাস থেকে কোন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়?
- খ)(2)
হিমালয় পর্বতমালা ভারতকে শীতের কবল থেকে রক্ষা করে কীভাবে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বৃষ্টিপাত কীভাবে সৃষ্টি হয় তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ভারতের জুলাই মাস এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসের আবহাওয়ার ভিন্নতার কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভারতে বর্ষাকাল জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শীতকালে হিমমণ্ডল থেকে নির্গত শুষ্ক ও শীতল বায়ু স্থলভাগের ওপর দিয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়। হিমালয় পর্বতমালা ভারতের উত্তরে প্রাচীরের ন্যায় দণ্ডায়মান থাকে। ফলে এ শুষ্ক ও শীতল বায়ু সরাসরি ভারতে প্রবেশ করতে পারে না। এভাবে হিমালয় ভারতকে তীব্র শীতের কবল থেকে রক্ষা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ভারতের বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাতের কথা বলা হয়েছে। এ বৃষ্টিপাতের প্রক্রিয়া নিম্নরূপ।
জুন মাসের শেষে সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থান করায় উত্তর ভারতে উত্তাপ অত্যন্ত বেড়ে যায় এবং পাঞ্জাব অঞ্চলে একটি প্রবল শক্তিশালী নিম্নচাপ বলয় সৃষ্টি হয়। এ সময় দক্ষিণ গোলার্ধের মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ে না গিয়ে পাঞ্জাবের শক্তিশালী নিম্নচাপের টানে সরাসরি সেদিকে অগ্রসর হয়। এ বায়ু সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে বলে এতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে। হিমালয় ও অন্যান্য উচ্চ পর্বতগাত্রে বাধা পেয়ে এ বায়ু ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরব সাগরীয় ও বঙ্গোপসাগরীয় দুই শাখায় ভারতে প্রবেশ করে। এভাবে ভারতের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫% এ ঋতুতে হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে জুলাই মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত ও আর্দ্র আবহাওয়া এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে মেঘমুক্ত, শুষ্ক ও শীতল আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ভিন্নতার মূল কারণ মৌসুমি বায়ুর দিক ও উৎস পরিবর্তন।
জুলাই মাসে (বর্ষাকাল): সূর্য কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর অবস্থান করায় উত্তর ভারতে প্রবল উত্তাপে পাঞ্জাব অঞ্চলে শক্তিশালী নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। সেই টানে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু হিসেবে ভারতে প্রবেশ করে। এতে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে। হিমালয় ও অন্যান্য পর্বতগাত্রে বাধা পেয়ে এ বায়ু প্রচুর বৃষ্টি ঘটায় এবং মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫% এ সময় হয়।
ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে (শীতকাল): সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করায় ভারতে উত্তাপ যথেষ্ট কমে যায়। এ সময় হিমমণ্ডল থেকে নির্গত এবং স্থলভাগের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পূর্ব মৌসুমি বায়ু শুষ্ক ও শীতল থাকে। বাতাসে জলীয় বাষ্প কম থাকায় আকাশ স্বচ্ছ ও মেঘমুক্ত থাকে। হিমালয় উত্তর দিকে প্রাচীরের মতো থাকায় শীতল বায়ু সরাসরি ঢুকতে পারে না, তাই আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে।
অতএব, সূর্যের অবস্থান, বায়ুর উৎস (সমুদ্র বা স্থলভাগ) ও তাতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণের পার্থক্যের কারণেই উদ্দীপকের দুই সময়ের আবহাওয়া এত ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও