সাহিত্য পাঠ • গন্তব্য কাবুল

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ঢাকার ছাত্র সুমন বন্ধু রনির সঙ্গে সিলেটের একটি গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিল। রনির বাবা আবদুল গনি সুমনকে কোনোদিন দেখেননি, অথচ দেখামাত্র দুহাতে জড়িয়ে ধরে ঘরে নিয়ে গেলেন। সুমনের মনে খটকা লাগল, “এত আপ্যায়ন কি আন্তরিক, নাকি নিছক লৌকিকতা?” তিনদিন থাকার পর সুমন বুঝল, অতিথি আপ্যায়নই গ্রামটির সবচেয়ে বড় আনন্দ। বিদায়ের দিন গনি সাহেব নিজে এসে সুমনকে গাড়িতে তুলে দিলেন।

  1. ক)

    আহমদ আলী কোন ভাষায় লেখকের সঙ্গে কথা বললেন?

    (1)
  2. খ)

    “আজ বলতে পারি পাঠানের অভ্যর্থনা সম্পূর্ণ নির্জলা আন্তরিক।”- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আহমদ আলীর আচরণে অতিথিবৎসলতার যে রূপ ফুটেছে, উদ্দীপকের আলোকে তা আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “অতিথিবৎসলতার প্রশ্নে লেখকের প্রথম ধারণা শেষ পর্যন্ত বদলে গিয়েছিল।”- উদ্দীপক ও রচনার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আহমদ আলী লেখকের সঙ্গে উত্তম উর্দুতে কথা বললেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পেশোয়ার স্টেশনে আহমদ আলী অচেনা লেখককে দুহাতে হাত ধরে সংবর্ধনা জানিয়ে টাঙ্গায় তুলে নিলে লেখকের সন্দেহ হয়েছিল, এই আপ্যায়ন কতটা আন্তরিক আর কতটা লৌকিকতা। কিন্তু পরবর্তী অভিজ্ঞতায় লেখক বুঝতে পারেন, অতিথিকে বাড়িতে ডেকে নেওয়ার মতো আনন্দ পাঠান অন্য কিছুতে পায় না, বিশেষত অতিথি বিদেশি হলে। তাঁদের অভ্যর্থনায় কোনো কৃত্রিমতা বা মেকি ভাব নেই। এজন্যই লেখক একে ‘নির্জলা’, অর্থাৎ ভেজালহীন আন্তরিকতা বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘গন্তব্য কাবুল’ রচনায় আহমদ আলীর আচরণে একটি অকৃত্রিম, হৃদয়স্পর্শী অতিথিবৎসলতার রূপ ফুটে উঠেছে।

    পেশোয়ার স্টেশনে ছ-ফুট পাঠানদের চেয়েও একমাথা উঁচু আহমদ আলী লেখককে অচেনা হওয়া সত্ত্বেও এগিয়ে এসে উত্তম উর্দুতে নিজের নাম বলেন। লেখক হাত বাড়ালে তিনি দুহাতে সেটি লুফে নেন, পরম উৎসাহে ও গরম সংবর্ধনায়। তারপর কোলে-পিঠে, টেনে-হিঁচড়ে তিনি লেখককে টাঙ্গায় বসান। সাতদিন নিজের বাড়িতে রেখে আটদিনের দিন তিনি নিজে লেখককে বাসে ড্রাইভারের পাশে বসিয়ে ড্রাইভারকে লেখকের জান-মাল বাঁচানোর জন্য বিস্তর দিব্যি দিয়ে বিদায় জানান।

    উদ্দীপকে গনি সাহেবও অচেনা সুমনকে দুহাতে জড়িয়ে ধরেন, বাড়িতে আপ্যায়ন করেন এবং বিদায়ের সময় নিজে গাড়িতে তুলে দেন। দুজনের আচরণেই আছে অচেনা অতিথির প্রতি নিঃস্বার্থ আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আহমদ আলীকে প্রথম দেখে লেখকের যে ধারণা জন্মেছিল পরে তা সম্পূর্ণ বদলে যায়। উক্তিটি যথার্থ।

    শুরুতে লেখক ভেবেছিলেন, আহমদ আলী তাঁকে চেনেন না, জানেন না, তিনি বাঙালি আর আহমদ আলী পাঠান। তাহলে এত সংবর্ধনার মানে কী? এর কতটা আন্তরিক আর কতটা নিছক লৌকিকতা? বিদেশি ও অজানা পরিবেশে এসে লেখকের মনে অবিশ্বাস ও সন্দেহের জন্ম হওয়া স্বাভাবিক। উদ্দীপকের সুমনও গনি সাহেবের আপ্যায়ন দেখে একই প্রশ্ন করেছিল।

    কিন্তু পাঠানদের সঙ্গে মেলামেশার অভিজ্ঞতা সেই ধারণা পাল্টে দেয়। আহমদ আলীর উঠোন পেরোতে লেখকের সাতদিন লেগে যায়, আর বিদায়ের সময় আহমদ আলী লেখকের নিরাপত্তার জন্য ড্রাইভারকে বিস্তর দিব্যি দেন। এ থেকে লেখক বুঝতে পারেন, পাঠান অতিথিকে বাড়িতে ডেকে নেওয়ার মতো আনন্দ অন্য কিছুতে পায় না। তাই তিনি নির্দ্বিধায় বলেন, পাঠানের অভ্যর্থনা সম্পূর্ণ নির্জলা আন্তরিক। সুমনও তিনদিনে বুঝতে পারে, অতিথি আপ্যায়নই গ্রামটির সবচেয়ে বড় আনন্দ।

    এই পরিবর্তন প্রমাণ করে, মানুষকে চিনতে হলে তার সঙ্গে মিশতে হয়। লেখকের মতো সুমনের ধারণাও বদলে যায় বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে। সুতরাং মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও