রসায়ন • খনিজ সম্পদ: জীবাশ্ম (Mineral Resources: Fossils)

রসায়ন প্রশ্ন

দর্শনার একটি চিনিকলে চিনি তৈরির পর উপজাত হিসেবে প্রচুর চিটাগুড় জমে থাকে। কারখানার রসায়নবিদ জানালেন, এই চিটাগুড়ে এনজাইম যোগ করে গাঁজন করালে একটি জৈব যৌগ X পাওয়া যায়, যার 95.6% জলীয় দ্রবণ ওষুধ ও পারফিউম শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ব্রাজিলে এই যৌগটি মোটর ইঞ্জিনে পেট্রোলের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

  1. ক)

    রেকটিফাইড স্পিরিট কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মিথিলেটেড স্পিরিট বিষাক্ত হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চিটাগুড় থেকে X যৌগ প্রস্তুতির প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে বাংলাদেশে X যৌগটিকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইথানলের 95.6% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য পরিমাণ মিথানল মিশিয়ে মিথিলেটেড স্পিরিট তৈরি করা হয়। মিথানল একটি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। তাই এই মিশ্রণ পান করার অযোগ্য হয়ে যায়। ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ছাড়া অন্য শিল্পে, যেমন বার্নিশ করার কাজে, একে ব্যবহার করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের X যৌগটি ইথানল (CH3CH2OH\text{CH}_3\text{CH}_2\text{OH})।

    চাল, গম, আলু ও ভুট্টার স্টার্চ কিংবা চিনি শিল্পের উপজাত চিটাগুড় থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় ইথানল প্রস্তুত করা হয়। চিটাগুড়ে থাকা শর্করা এনজাইমের উপস্থিতিতে গ্লুকোজে পরিণত হয়। এরপর গ্লুকোজের ওপর জাইমেজ এনজাইমের ক্রিয়ায় ইথানল উৎপন্ন হয়। স্টার্চের ক্ষেত্রে প্রথমে ডায়াসটেজ ও ম্যালটেজ এনজাইম দ্বারা গ্লুকোজ হয়, পরে জাইমেজ দ্বারা ইথানল পাওয়া যায়। উৎপন্ন মিশ্রণ থেকে পাতন করে ইথানল আলাদা করা হয় এবং বিশুদ্ধ করে রেকটিফাইড স্পিরিট পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জীবাশ্ম জ্বালানি সীমিত এবং পোড়ালে বায়ু দূষিত হয়। অন্যদিকে ইথানল (X) নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাওয়া যায়।

    সম্ভাবনা: (১) বাংলাদেশে চাল, গম, আলু, ভুট্টা ও চিনি শিল্পের উপজাত চিটাগুড় প্রচুর পাওয়া যায়, যা থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় ইথানল তৈরি সম্ভব। দর্শনার কেরু এন্ড কোং ইতিমধ্যে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করছে। (২) ইথানল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর চাপ কমে। (৩) এটি পরিবেশকে ধুমমুক্ত রাখে, তাই পরিবেশবান্ধব। (৪) ব্রাজিলে ইথানল মোটর ইঞ্জিনে ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে। এ দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা যায়।

    সীমাবদ্ধতা: জ্বালানির জন্য ইথানলের উৎপাদন বাড়াতে হলে প্রচুর কাঁচামাল ও কারখানা দরকার হবে, আবার খাদ্যশস্যের ঘাটতিও হতে পারে। তাই উদ্বৃত্ত শস্য ও চিটাগুড়ের মতো উপজাত ব্যবহার করলে সম্ভাবনা বেশি। সুতরাং পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন করলে বাংলাদেশে ইথানলকে জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও