ভূগোল ২য় পত্র • দূষণ ও দুর্যোগ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

নারায়ণগঞ্জের একটি শিল্পাঞ্চলে রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার ও রং তৈরির বেশ কয়েকটি কারখানা রয়েছে। কারখানাগুলো থেকে নির্গত একটি উদ্বায়ী গ্যাস বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে পৌঁছে একটি সুরক্ষা স্তরকে ক্রমশ পাতলা করে ফেলছে। পরিবেশকর্মী মিজান সাহেব এলাকার মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

  1. ক)

    CFC-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    ওজোনস্তর ছিদ্র হলে প্রাণিকুলের ক্ষতি হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্যাসটি কোন প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডলের সুরক্ষা স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মিজান সাহেবের সচেতনতামূলক উদ্যোগ ছাড়াও উদ্দীপকের দূষণ নিয়ন্ত্রণে আর কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর CFC-এর পূর্ণরূপ হলো Chloro-Fluoro Carbon (ক্লোরোফ্লুরো কার্বন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ওজোনস্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মিকে পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা দেয়। এই স্তরে ছিদ্র হলে অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে এসে পড়ে। এর ফলে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য গাছপালা ধ্বংস হয় এবং খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষসহ প্রাণীদের মধ্যে ক্যান্সার ও অন্যান্য রোগের প্রকোপ বাড়ে। তাই ওজোনস্তর ছিদ্র হলে প্রাণিকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত গ্যাসটি হলো ক্লোরোফ্লুরো কার্বন (CFC), আর ক্ষতিগ্রস্ত সুরক্ষা স্তরটি হলো ওজোনস্তর।
    CFC ফ্লোরিন, ক্লোরিন ও কার্বনের একটি উদ্বায়ী যৌগ। রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার, প্লাস্টিক ও রং তৈরির কারখানা থেকে এই গ্যাস বায়ুতে নির্গত হয়। উদ্দীপকের শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোও একই ধরনের পণ্য তৈরি করে। নির্গত CFC বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে পৌঁছালে সেখান থেকে বিমুক্ত ক্লোরিন অণুঘটক (catalyst) হিসেবে কাজ করে ওজোন অণুকে ভেঙে ফেলে। গড়ে এক অণু CFC থেকে বিমুক্ত ক্লোরিন প্রায় ১,০০,০০০ ওজোন অণুকে ধ্বংস করতে পারে। এভাবে ওজোনস্তর ক্রমশ পাতলা হয়ে যায় এবং কোথাও কোথাও ছিদ্র সৃষ্টি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্ণিত দূষণটি হলো CFC-জনিত বায়ুদূষণ। মানুষের সচেতনতা এই দূষণ প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। এর পাশাপাশি আরও যেসব ব্যবস্থা নেওয়া যায় তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
    ১. নির্দিষ্ট স্থানে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা: কারখানা আবাসিক এলাকা থেকে দূরে নির্দিষ্ট শিল্পাঞ্চলে স্থাপন করতে হবে, চিমনি উঁচু করতে হবে এবং কারখানার চারদিকে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। এতে দূষণের প্রভাব কমে।
    ২. বৃক্ষরোপণ বৃদ্ধি: গাছ কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং বায়ু শোধন করে। ফলে বায়ুর ভারসাম্য রক্ষা পায়।
    ৩. বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার: কয়লা, খনিজ তেল ও গ্যাসের বদলে সৌর, বায়ু ও জৈব গ্যাস ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ কমে।
    ৪. বায়ুর গুণগত মান পর্যবেক্ষণ: সরকার নিয়মিত বায়ুর মান পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।
    উপরের ব্যবস্থাগুলো সচেতনতার সাথে একযোগে বাস্তবায়ন করলে CFC-সহ সব ধরনের বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও