বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

নিচের সারণিতে বাংলাদেশের কয়েকটি শহর ও তাদের পাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম দেওয়া হলো:

শহরনদী
ঢাকাবুড়িগঙ্গা
চট্টগ্রামকর্ণফুলী
সিলেটসুরমা
কুমিল্লাগোমতী

নবম শ্রেণির ছাত্রী মেহজাবিন লক্ষ করল, তার নানাবাড়ির গ্রামটিও একটি নদীর তীরে অবস্থিত। সেখানকার বেশির ভাগ মানুষ চাষাবাদ ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি নদীটি ভরাট হতে শুরু করায় গ্রামের অনেকেই চিন্তিত।

  1. ক)

    নারায়ণগঞ্জ শহর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

    (1)
  2. খ)

    প্রাচীনকালে মানুষ নদীর তীরে বসতি স্থাপন করত কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সারণিতে উল্লিখিত শহরগুলো নদীর তীরে গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মেহজাবিনের গ্রামের নদীটি ভরাট হয়ে গেলে গ্রামের মানুষের জীবনে কী প্রভাব পড়বে? নদ-নদী ও জনবসতির সম্পর্কের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নারায়ণগঞ্জ শহর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নদী থেকে মানুষ প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য পানি পেত। নদীর তীরের সমতল ভূমিতে কৃষিকাজের জন্য সেচের পানি সহজে পাওয়া যেত। এছাড়া মাছ শিকার ছিল খাদ্য ও আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। নদীপথে যাতায়াত ও পণ্য আদান-প্রদানও সহজ ছিল। এসব কারণে প্রাচীনকালে মানুষ নদীর তীরে বসতি স্থাপন করত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা শহর যথাক্রমে বুড়িগঙ্গা, কর্ণফুলী, সুরমা ও গোমতী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে।

    নদীকে কেন্দ্র করে মানুষ খাদ্যোৎপাদন, মাছ শিকার, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসায়-বাণিজ্য গড়ে তুলেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নদীর তীরে স্থায়ী বসতি হিসেবে প্রথমে গ্রাম ও গঞ্জ এবং পরে শহর গড়ে ওঠে। নদী থেকে পানীয় ও শিল্প-কারখানার পানি পাওয়া যায়। নদীপথে পণ্য আনা-নেওয়া সহজ হওয়ায় বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠে। তাছাড়া বাংলাদেশে জনসংখ্যার বিস্তার সবচেয়ে বেশি ঘটেছে নদীগুলোর তীরে। এসব কারণেই উদ্দীপকের শহরগুলো নদীর তীরে গড়ে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নদ-নদী ও জনবসতির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। উদ্দীপকের গ্রামের মানুষ চাষাবাদ ও মাছ ধরার জন্য নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদী ভরাট হয়ে গেলে নিচের প্রভাবগুলো পড়বে।

    ১. কৃষির ক্ষতি: নদী থেকে সেচের পানি না পেলে ফসল উৎপাদন কমে যাবে। এতে কৃষকের আয় কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

    ২. মাছের অভাব: নদী শুকিয়ে গেলে মাছ কমে যায়। ফলে জেলেদের জীবিকা বন্ধ হবে এবং আমিষের অভাবে পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে।

    ৩. যাতায়াত ও বাণিজ্য: নৌপথে চলাচল ও পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    ৪. পানির সংকট: দৈনন্দিন ব্যবহারের পানি পেতে মানুষের কষ্ট বাড়বে।

    ৫. বসতি ত্যাগ: নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পেশাগুলো বিলুপ্ত হওয়ায় মানুষ জীবিকার সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হবে।

    অতএব, গ্রামটির জনজীবন ও অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে নদী খনন করে এর নাব্যতা রক্ষা করা জরুরি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও