সাহিত্য পাঠ • কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
রহিম মিয়া নিজের হাল-বলদ নিয়ে গ্রামের চৌধুরী বাড়ির জমি চাষ করেন। বীজ, সার ও শ্রমের পুরো খরচ তাঁকেই বহন করতে হয়, অথচ ফসল উঠলে অর্ধেকই চলে যায় চৌধুরীর গোলায়। চৌধুরী সাহেব রহিমকে বসতভিটা ও ধার-কর্জ দেন বলে প্রতিবেশী কয়েকজন বলে, ‘তাঁর বিরুদ্ধে যাওয়া ঠিক হবে না।’ আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তোলে, ‘সারা বছর পেটের ভাত কি তিনি জোগান?’
- ক)(1)
আধিয়ার কাদের বলা হয়?
- খ)(2)
‘মুর্মু’ শব্দটি সাঁওতালদের কাছে কীভাবে গোত্র-চিহ্ন হয়ে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চৌধুরী ও রহিম মিয়ার সম্পর্ক ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের কোন দুটি সামাজিক শ্রেণির সম্পর্কের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের রহিমের প্রতিবেশীদের দোটানা এবং গল্পে সাঁওতাল বস্তার দ্বিধা একই উৎস থেকে জন্ম নিয়েছে।”—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যারা একটি নির্দিষ্ট শর্তে অন্যের মালিকানাধীন জমিতে হাল চাষ করে এবং উৎপাদিত ফসলের অংশ শর্ত অনুযায়ী মালিককে দেয়, তাদের আধিয়ার বা বর্গাদার বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুর্মু সাঁওতালদের একটি গোত্রের নাম, যার অর্থ নীল গাভি। এই নীল গাভি তাদের গোত্র-চিহ্ন বা টোটেম। কথিত আছে, এক অরণ্যে বিশ্রামরত দলের সর্দারকে একটি হিংস্র নীল গাভি পায়ে চেপে মেরে ফেলে। লোকেরা পরে গাভিটিকে হত্যা করে। সেই থেকে মৃত ব্যক্তির গোত্রের নাম বা পদবি হয় মুর্মু। এভাবেই নীল গাভি এই গোত্রের পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের চৌধুরী ও রহিম মিয়ার সম্পর্ক গল্পের জোতদার ও আধিয়ারের সম্পর্কের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। গল্পের শব্দার্থ ও টীকা অনুযায়ী ব্রিটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সূত্রে জমিদার ও কৃষকের মাঝখানে মধ্যস্বত্বভোগী জোতদার শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। এরা জমি ইজারা নিয়ে চাষ তদারকি ও খাজনা আদায় করত। আধিয়ার বা বর্গাদার জোতদারের জমিতে চাষ করত এবং উৎপাদনের সম্পূর্ণ খরচ বহন করলেও ফসলের অর্ধেক জোতদারের হাতে চলে যেত। উদ্দীপকে রহিম মিয়া একইভাবে নিজের খরচে চাষ করে অর্ধেক ফসল চৌধুরীকে দিতে বাধ্য হন। তাই চৌধুরী জোতদারের এবং রহিম আধিয়ারের প্রতিনিধিত্ব করছে। এভাবে উদ্দীপকের সম্পর্কটি গল্পে বর্ণিত জোতদার-আধিয়ার সম্পর্কের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রতিবেশীদের দোটানা ও গল্পের সাঁওতালদের দ্বিধার মূলে রয়েছে মহাজনের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা—মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে চৌধুরী বসতভিটা ও ধার-কর্জ দেন বলে কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে যেতে ভয় পায়, আবার কেউ প্রশ্ন তোলে, সারা বছর পেটের ভাত কি তিনি জোগান? গল্পে আধিয়ার ও জোতদারের বিরোধের সময় সাঁওতাল বস্তা একই সংকটে পড়ে। তারা বলাবলি করে, মহাজন বসত করার জায়গা, আবাদের জমি ও গিরস্তির কাজ দেয়, তাই তার বিপক্ষে যাওয়া কঠিন। আবার প্রশ্ন ওঠে, মহাজন কি সারা বছর পেটের ভাত দেয়? ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের ভয়ও তাদের দোটানায় ফেলে। দুই ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নিপীড়ক শ্রেণিই আশ্রয় ও জীবিকার উৎস হওয়ায় নিপীড়িতরা প্রতিবাদে সংকুচিত হয়। তবে গল্পে ভিড়ের মধ্য থেকে একজন সাহসের সঙ্গে বলে ওঠে, হামরা মহাজনের সঙ্গে নাই, আধিয়ার কিশানের সঙ্গে হামরা। উদ্দীপকে এমন চূড়ান্ত অবস্থান দেখানো হয়নি, শুধু প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ পার্থক্য থাকলেও দ্বিধার উৎস উভয় ক্ষেত্রে অভিন্ন। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও