জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

সিলেটের একটি হাওর অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের তুলনামূলক তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

বিষয়২০০০ সাল২০২৪ সাল
জলাভূমির আয়তন৮০০ হেক্টর৪৫০ হেক্টর
পরিযায়ী পাখি১২০০টি৩০০টি
দেশি মাছের প্রজাতি৬০টি৩৮টি

স্থানীয়রা জানায়, জলাভূমির একটি বড় অংশ ভরাট করে বসতি ও রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। আশপাশের জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে এবং অতিরিক্ত মাছ আহরণ চলছে।

  1. ক)

    গণবিলুপ্তি কী?

    (1)
  2. খ)

    খাদ্যশৃঙ্খলে উপরের স্তরের জীব সহজে বিলুপ্ত হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত হাওর অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য হ্রাসের জন্য দায়ী মানবসৃষ্ট কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের হাওর অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় এবং কেন তা জরুরি? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হঠাৎ করে পৃথিবীব্যাপী বিপুল সংখ্যক প্রজাতি একসাথে বিলুপ্ত হওয়াকে গণবিলুপ্তি (mass extinction) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর খাদ্যশৃঙ্খলে যে জীবের অবস্থান যত উপরে, তার দেহ তত বড় এবং সংখ্যা তত কম হয়। এদের বেঁচে থাকার জন্য নিচের স্তরের অনেক জীবের ওপর নির্ভর করতে হয়। নিচের স্তরের কোনো জীবের সংখ্যা কমে গেলে বা পরিবেশের সামান্য পরিবর্তন হলে এরা খাদ্য সংকটে পড়ে। এছাড়া এদের বংশবৃদ্ধির হারও কম। তাই খাদ্যশৃঙ্খলের উপরের স্তরের জীবের বিলুপ্তির সম্ভাবনা বেশি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে জলাভূমির আয়তন ৮০০ হেক্টর থেকে ৪৫০ হেক্টরে নেমে এসেছে এবং পরিযায়ী পাখি ও দেশি মাছের প্রজাতি কমেছে। এর জন্য দায়ী মানবসৃষ্ট কারণগুলো হলো: ১. বাসস্থান ধ্বংস: জলাভূমি ভরাট করে বসতি ও রাস্তা নির্মাণ করায় জলজ জীব ও পাখির আবাস নষ্ট হয়েছে। জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির সবচেয়ে বড় কারণ বাসস্থান ধ্বংস; জলাভূমি ভরাট জলজ প্রজাতি বিলুপ্তির প্রধান কারণ। ২. এক্সপ্লয়টেশন: অতিরিক্ত মাছ আহরণের ফলে মাছের প্রজাতি ও সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ৩. পরিবেশ দূষণ ও পলিনেটর ধ্বংস: অতিমাত্রায় কীটনাশক পানি ও মাটি দূষিত করে এবং মৌমাছিসহ পরাগায়নকারী কীটপতঙ্গ কমিয়ে দেয়। ফলে জলজ ও স্থলজ উভয় প্রকার জীব ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের হাওরে জলাভূমির আয়তন ও জীবের প্রজাতি দ্রুত কমছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বলতে সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, সহনীয় মাত্রায় ব্যবহার ও পুনরুদ্ধারের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা বোঝায়। এ অঞ্চলের জন্য গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা: ১. জলাভূমি ভরাট বন্ধ করে ভরাট হওয়া অংশ পুনরুদ্ধার করতে হবে, কারণ বাসস্থান ধ্বংস বিলুপ্তির প্রধান কারণ। ২. মাছ আহরণে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে, যাতে আহরণ হয় পরিমিত ও বিজ্ঞানসম্মত। ৩. কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে পরাগায়নকারী কীটপতঙ্গ ও জলজ প্রাণী রক্ষা করতে হবে। ৪. স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং প্রয়োজনে অভয়ারণ্য ঘোষণা করে ইন-সিটু সংরক্ষণ করতে হবে। কেন জরুরি: প্রকৃতিতে প্রতিটি প্রজাতির ভিন্ন ভূমিকা আছে এবং একটি প্রজাতির বিলুপ্তিও পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা সম্মিলিতভাবে পরিবেশের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটাতে পারে। একবার বিলুপ্ত হলে প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনা যায় না। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির জিন ভবিষ্যতে কৃষি ও চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে। তাছাড়া বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনও পূরণ করতে হলে এখনই সংরক্ষণ করা আবশ্যক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও