তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • ওয়েব ডিজাইন পরিচিতি এবং HTML
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
ড. কবির একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। আগে তাঁদের ৩০০ পৃষ্ঠার গবেষণা প্রতিবেদন একসাথে পুরোটা ডাউনলোড করতে হতো, ফলে অনেক সময় লাগত। এখন প্রতিটি পৃষ্ঠা আলাদাভাবে রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পৃষ্ঠার সংযোগ দেওয়া আছে। পাঠক মাউস ক্লিক করে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠাটি খুলতে পারেন। প্রতিবেদনের কিছু পৃষ্ঠায় ছবি ও ভিডিও-ও যুক্ত করা হয়েছে।
- ক)(1)
হাইপারটেক্সট কাকে বলে?
- খ)(2)
ওয়েব ব্যবস্থায় আইপি অ্যাড্রেস প্রয়োজন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যবস্থার পেছনের ধারণাটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ব্যবস্থাটি সফলভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে হাইপারটেক্সট, হাইপারলিঙ্ক, হাইপারমিডিয়া ও ওয়েব ব্রাউজারের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইন্টারনেট ব্যবহার করে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে পাঠানো লিখিত তথ্যকে হাইপারটেক্সট বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইন্টারনেটে সংযুক্ত প্রতিটি যন্ত্র, যেমন কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন, একটি বিশেষ নম্বর দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত হয়, যাকে আইপি অ্যাড্রেস বলে। এটি ইন্টারনেটে একটি নির্দিষ্ট যন্ত্রের ঠিকানা। টিম বার্নার্স-লি-র প্রস্তাবিত ওয়েবে আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করেই এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডকুমেন্ট পাঠানো হয়। আইপি অ্যাড্রেস না থাকলে কোন যন্ত্র থেকে কোন যন্ত্রে তথ্য যাবে তা নির্ধারণ করা সম্ভব হতো না। তাই ওয়েব ব্যবস্থায় আইপি অ্যাড্রেস প্রয়োজন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন একসাথে ডাউনলোডের বদলে পৃষ্ঠা আলাদা করে লিঙ্কের মাধ্যমে সংযুক্ত করার যে ব্যবস্থা আছে, তা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের মূল ধারণার সাথে মিলে যায়।
প্রথম যুগে কম্পিউটার ছিল শুধু বড় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে। পরে এক কম্পিউটারকে অন্যটির সাথে যুক্ত করার প্রয়োজনে ইন্টারনেট তৈরি হয় এবং এক কম্পিউটার থেকে অন্যটিতে ডকুমেন্ট পাঠানোর চাহিদা দেখা দেয়। এই চাহিদা থেকে সুইজারল্যান্ডের CERN গবেষণাগারে কর্মরত টিম বার্নার্স-লি ১৯৮৯ সালে ওয়েবের ধারণা প্রস্তাব করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা নিজ দেশে বসেই CERN-এর কম্পিউটার থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। তিনি প্রস্তাব করেন শত শত পৃষ্ঠা একবারে ডাউনলোড না করিয়ে প্রতিটি পৃষ্ঠা আলাদাভাবে সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে এবং এক পৃষ্ঠায় অন্য দরকারি পৃষ্ঠার লিঙ্ক দেওয়া থাকবে, যাতে প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠাই শুধু ডাউনলোড করা যায়। ১৯৯০ সালে সহকর্মীদের সহায়তায় তিনি ধারণাটি আরও সুগঠিত করে পুনরায় প্রস্তাব করেন এবং পেজ দেখার জন্য একটি ব্রাউজার সফটওয়্যারও তৈরি করেন। উদ্দীপকের ব্যবস্থাটি এই ধারণারই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ব্যবস্থাটি ওয়েব ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে চারটি উপাদানের ভূমিকা আলাদা।
হাইপারটেক্সট: ইন্টারনেটে পাঠানো লিখিত তথ্যকে হাইপারটেক্সট বলে। উদ্দীপকে প্রতিবেদনের প্রতিটি পৃষ্ঠার লিখিত অংশ হাইপারটেক্সট, যা আলাদাভাবে সংগ্রহ করা যায়।
হাইপারলিঙ্ক: হাইপারটেক্সটগুলো যে নেটওয়ার্ক ঠিকানায় পাওয়া যায় তার নাম হাইপারলিঙ্ক। উদ্দীপকে এক পৃষ্ঠা থেকে অন্য পৃষ্ঠায় যাওয়ার সংযোগগুলোই হাইপারলিঙ্ক। এর মাধ্যমে পাঠক মাউস ক্লিক করেই দরকারি পৃষ্ঠায় পৌঁছান, তাই পুরো ৩০০ পৃষ্ঠা ডাউনলোডের প্রয়োজন হয় না।
হাইপারমিডিয়া: লিখিত তথ্যের বাইরে ছবি, অডিও ও ভিডিওকে হাইপারমিডিয়া বলে। উদ্দীপকে কিছু পৃষ্ঠায় যুক্ত ছবি ও ভিডিও হাইপারমিডিয়া, যা প্রতিবেদনকে আরও বোধগম্য করে।
ওয়েব ব্রাউজার: ওয়েবের তথ্য নিজের কম্পিউটারে দেখার জন্য ব্রাউজার সফটওয়্যার (যেমন ক্রোম, ফায়ারফক্স) লাগে। ব্রাউজার ছাড়া পাঠক এসব পৃষ্ঠা, লিঙ্ক বা ভিডিও দেখতে পারতেন না।
সুতরাং হাইপারটেক্সট তথ্য বহন করে, হাইপারলিঙ্ক সংযোগ তৈরি করে, হাইপারমিডিয়া বিষয়বস্তুকে সমৃদ্ধ করে এবং ব্রাউজার তা ব্যবহারকারীর সামনে প্রদর্শন করে। চারটির সমন্বয়েই উদ্দীপকের ব্যবস্থাটি সফলভাবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও