‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • জনমত ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

'ক' রাষ্ট্রে সেনাপ্রধান জেনারেল আলতাফ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী ও বৈধ করার জন্য তিনি এক প্রশ্নের ভোট আয়োজন করেন: 'আপনি কি জেনারেল আলতাফের নীতি ও কর্মসূচিতে আস্থাশীল?' ভোটারদের শুধু 'হ্যাঁ' বা 'না' বলার সুযোগ ছিল। 'খ' রাষ্ট্রে সরকার সংবিধানের একটি মৌল ধারা পরিবর্তনের আগে সব নাগরিকের মতামত নিতে একটি সার্বজনীন ভোটের আয়োজন করে এবং ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।

  1. ক)

    গণভোট কী?

    (1)
  2. খ)

    নির্বাচন কীভাবে জনমত পরিমাপের পদ্ধতি হিসেবে কাজ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে জনমত যাচাইয়ের জন্য যে পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রের জনমত যাচাইয়ের পদ্ধতিটি 'ক' রাষ্ট্রের পদ্ধতির চেয়ে অধিক গণতান্ত্রিক—মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে পদ্ধতিতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয় বা সংবিধানের মৌল পরিবর্তন সম্পর্কে সরাসরি জনগণের মতামত যাচাই করা হয়, তাকে গণভোট বা রেফারেন্ডাম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচন জনমত পরিমাপের অন্যতম পদ্ধতি। নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের দল ও প্রার্থীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে। ফলাফলে যে দলের প্রতি জনমত আস্থা জ্ঞাপন করে, সে দলই সরকার গঠন করে। এভাবে নির্বাচনের ফলাফল দেখে জনগণের মনোভাব ও জনমতের গতিপ্রকৃতি বোঝা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে জনমত যাচাইয়ের জন্য হ্যাঁ-না ভোট পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে। এ পদ্ধতিতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে ভোটারদের কেবল 'হ্যাঁ' বা 'না' বলে মত দিতে হয়। সাধারণত সামরিক শাসকরা রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর নিজেদের শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী ও বৈধ করার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। উদ্দীপকে সেনাপ্রধান জেনারেল আলতাফ ক্ষমতা দখলের পর নিজের নীতি ও কর্মসূচির প্রতি আস্থা আছে কি না তা জানতে ভোটারদের কাছে শুধু 'হ্যাঁ' বা 'না' উত্তর চেয়েছেন। এখানে ভোটারদের বিকল্প মত প্রকাশের সুযোগ নেই। তাই এটি হ্যাঁ-না ভোট পদ্ধতির উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের 'খ' রাষ্ট্রে গণভোট এবং 'ক' রাষ্ট্রে হ্যাঁ-না ভোট ব্যবহৃত হয়েছে। আমার মতে 'খ' রাষ্ট্রের পদ্ধতিটি অধিক গণতান্ত্রিক। কারণসমূহ: ১. উদ্দেশ্যের পার্থক্য: গণভোটের মাধ্যমে সরকার নীতি প্রণয়ন বা সংবিধানের মৌল পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রকৃত মত জানতে চায়। অন্যদিকে হ্যাঁ-না ভোটে শাসক নিজের ক্ষমতাকে বৈধতা দিতে চান। ২. ফলাফলের প্রতি মর্যাদা: 'খ' রাষ্ট্রে ফলাফল অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়, যা জনমতের প্রতি শ্রদ্ধার প্রমাণ। 'ক' রাষ্ট্রে ভোটের ফলাফল শাসকের স্বার্থেই ব্যবহৃত হয়। ৩. মত প্রকাশের সুযোগ: গণভোটে জনগণ একটি সুনির্দিষ্ট নীতির পক্ষে-বিপক্ষে স্বাধীনভাবে ভেবে মত দিতে পারে, কিন্তু হ্যাঁ-না ভোটে প্রশ্নটি শাসকের পক্ষে সাজানো থাকে এবং বিকল্প আলোচনার সুযোগ কম থাকে। ৪. বৈধতা: হ্যাঁ-না ভোটকে অনেকে ভ্রান্ত পদ্ধতি বলেছেন, কারণ এতে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে না। উপসংহার: সুতরাং জনগণের প্রকৃত ইচ্ছা প্রকাশ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দিক থেকে 'খ' রাষ্ট্রের গণভোট পদ্ধতিটি অধিক গণতান্ত্রিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও