বাংলা ১ম পত্র • অভাগীর স্বর্গ

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

নদীর ধারে নিজের উঠানে পূর্বপুরুষের লাগানো একটি কড়ই গাছ কেটে বৃদ্ধ হাশেম মিয়া নাতনির বিয়ের জন্য খাট বানাতে চেয়েছিলেন। খবর পেয়ে এলাকার প্রভাবশালী ইজারাদারের লোক এসে তাঁকে চড় মারে এবং করাত কেড়ে নেয়। ইজারাদারের ম্যানেজারের কাছে গিয়ে অনুনয় করলে তিনি ধমক দিয়ে বলেন, “গাছের দাম না দিলে এক পাতাও ছোঁবি না।” অসহায় হাশেম মিয়া কিছুই করতে পারেননি।

  1. ক)

    জমিদারের গোমস্তার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “হায় রে অনভিজ্ঞ! বাংলাদেশের জমিদার ও তাহার কর্মচারীকে সে চিনিত না।”— কথাটি কেন বলা হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হাশেম মিয়ার ঘটনা ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কোন ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক ও ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পে ক্ষমতাবানদের অন্যায় আচরণের ধরন ও তার ফল পর্যালোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জমিদারের গোমস্তার নাম অধর রায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মায়ের মৃত্যুর পর বেলগাছ কাটতে গেলে জমিদারের দারোয়ান কাঙালীর বাবাকে চড় মারে। বালক কাঙালী ভেবেছিল, কাছারিতে কর্তার কাছে অভিযোগ করলে এর প্রতিকার হবে। কিন্তু সে জানত না যে জমিদার ও তাঁর কর্মচারীরা গরিবের প্রতি সহানুভূতিশীল নয়, বরং শোষণ ও নির্যাতনেই অভ্যস্ত। গোমস্তা অধর রায় তাকে উল্টো অপমান করেন ও গলাধাক্কা দেন। তাই লেখক তাকে অনভিজ্ঞ বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের হাশেম মিয়ার ঘটনা ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পে কাঙালীর বাবা রসিকের নিজের উঠানের বেলগাছ কাটতে যাওয়া ও জমিদারের দারোয়ানের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়। গল্পে অভাগীর মৃত্যুর পর শবদাহের কাঠের জন্য রসিক নিজেদের উঠানের গাছে কুড়ুল দিলে দারোয়ান ছুটে এসে তার গালে চড় মারে এবং কুড়ুল কেড়ে নেয়। উদ্দীপকে হাশেম মিয়াও নিজের উঠানের গাছ কাটতে গেলে ইজারাদারের লোক তাঁকে চড় মারে ও করাত কেড়ে নেয়। উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষমতাবানদের অন্যায় হস্তক্ষেপ এবং গরিবের অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপক ও ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্প দুটিতেই ক্ষমতাবানরা অসহায় মানুষের ওপর অন্যায় আচরণ করেছে, তবে এর ধরন ও ফল ভিন্ন।
    ১. অন্যায়ের ধরন (সাদৃশ্য): উদ্দীপকে ইজারাদারের লোক বৃদ্ধ হাশেম মিয়াকে চড় মারে, করাত কেড়ে নেয় এবং ম্যানেজার গাছের দাম দাবি করে। গল্পেও দারোয়ান রসিককে চড় মারে ও কুড়ুল কেড়ে নেয়, গোমস্তা অধর রায় গাছের দাম বাবদ পাঁচ টাকা চান।
    ২. অন্যায়ের মাত্রা (পার্থক্য): উদ্দীপকে অন্যায়ের শিকার একজন বৃদ্ধ, যিনি নাতনির বিয়ের জন্য গাছ কাটতে চান। গল্পে অন্যায় আরও নির্মম; কারণ এটি এক মৃত মায়ের সৎকারের কাঠের প্রশ্নে ঘটে। অধর রায় কাঙালীকে ‘দুলে’ বলে গোবরজল ছিটানোর নির্দেশ দেন এবং গলাধাক্কা দেওয়ান। এখানে জাতিভেদের ঘৃণাও যুক্ত হয়েছে।
    ৩. ফল: উদ্দীপকে হাশেম মিয়া অসহায় থেকে যান, তাঁর ক্ষতি কেবল আর্থিক ও মানসিক। গল্পে ফল আরও করুণ; অভাগীর দাহ হয় না, নদীর চরে খড়ের আঁটির আগুনে তাকে মাটি চাপা দেওয়া হয় এবং কাঙালীর হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়।
    অতএব দুই ক্ষেত্রেই ক্ষমতার অপব্যবহার এক হলেও গল্পে তার নিষ্ঠুরতা ও পরিণতি অনেক গভীর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও