বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

নবম শ্রেণির ছাত্রী ত্রিশা তার স্কুলের একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানের জন্য একটি সূচি তৈরি করেছে। সূচিতে আছে চারটি জিনিস: (১) কারাগারে বসে লেখা একটি নাটক, (২) ১৯৫২ সালের ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে রচিত প্রথম কবিতা, (৩) ১৯৬৯ সালে লেখা একটি উপন্যাস, (৪) ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি। অনুষ্ঠান শেষে ত্রিশার শিক্ষক বললেন, ‘এই রচনাগুলো শুধু শিল্প নয়, একটি জাতির চেতনার দলিলও।’

  1. ক)

    ‘স্মৃতির মিনার’ কবিতাটি কে রচনা করেন?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৫২ সালের পরের পঞ্চাশের দশককে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকাল’ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    ত্রিশার সূচির (১), (২), (৩) ও (৪) নম্বরে উল্লিখিত রচনাগুলো কী এবং এগুলোর রচয়িতা কে কে? ঘটনার সঙ্গে সম্পর্ক উল্লেখপূর্বক ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    শিক্ষকের মন্তব্য ‘এই রচনাগুলো একটি জাতির চেতনার দলিলও’—ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা কীভাবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনাকে মূলধারার রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত করেছিল, তা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘স্মৃতির মিনার’ কবিতাটি তরুণ কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচনা করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে নিজের ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আত্মপ্রত্যয় দেয়। এ আন্দোলন মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে এবং পরবর্তী সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হয়। এই সময়ে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনসহ নানা সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালি ধীরে ধীরে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত হতে থাকে। তাই পঞ্চাশের দশককে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকাল বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর (১) কারাগারে বসে লেখা নাটকটি ‘কবর’। এর রচয়িতা মুনীর চৌধুরী; তিনি জেলে বসে এটি রচনা করেন।
    (২) চট্টগ্রামে রচিত প্রথম কবিতাটি ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’। এর রচয়িতা কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী। ঢাকায় ২১শে ফেব্রুয়ারির ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে তিনি এটি লেখেন।
    (৩) ১৯৬৯ সালে লেখা উপন্যাসটি ‘আরেক ফাল্গুন’, যার রচয়িতা জহির রায়হান।
    (৪) গানটির রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী। ২১শে ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় এটি রচিত হয়।

    এই চারটি রচনাই ভাষা আন্দোলন ও ১৯৫২ সালের ছাত্রহত্যার অভিঘাতে জন্ম নিয়েছে। সূচির প্রতিটি রচনা সেই সময়ের জনগণের ক্ষোভ ও মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার শৈল্পিক প্রকাশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ত্রিশার সূচির রচনাগুলো ভাষা আন্দোলনের পরে সৃষ্ট সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। ২১শে ফেব্রুয়ারির ছাত্রহত্যা পূর্ববাংলার জনগণের মনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। মানুষের মধ্যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি ঘৃণা জন্মায়।

    এই ক্ষোভ শিল্প-সাহিত্যে নানা রূপে প্রকাশ পায়। মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী প্রতিবাদী কবিতা লেখেন, তরুণ কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ ‘স্মৃতির মিনার’ রচনা করেন, আবদুল গাফফার চৌধুরী ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ লেখেন, আবদুল লতিফ ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’-এর মতো গান রচনা ও সুর করেন, মুনীর চৌধুরী জেলে বসে ‘কবর’ নাটক লেখেন এবং জহির রায়হান পরে ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস রচনা করেন।

    এসব রচনা সাধারণ মানুষের কাছে গান, কবিতা, নাটক ও উপন্যাসের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বার্তা ও ত্যাগের কাহিনি পৌঁছে দেয়। ফলে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে। পূর্ববাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

    এভাবে ভাষা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের চেতনা মানুষের মনে গভীরভাবে গেঁথে যায় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ মূলধারার রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়। তাই শিক্ষকের মন্তব্য যথার্থ: এই রচনাগুলো জাতির চেতনা গড়ে তোলার ও ধারণ করার দলিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও