সাহিত্য পাঠ • মৌসুম

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ইলা ছুটিতে শহর থেকে দাদুর গ্রামের বাড়িতে এসেছে। দীর্ঘ খরায় মাঠ ফেটে চৌচির, চাষিরা মাঠে দল বেঁধে মোনাজাত করছে, মানত করছে। ইলা তা দেখে হাসে আর বলে, ‘বৃষ্টি হলেই তো কাদা, এই তো বেশ আছি।’ তার দাদু অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মজিদ সাহেব নাতনিকে বোঝান, কৃষকের কাছে বৃষ্টি মানে বেঁচে থাকা। তিনি নিজের জমানো টাকায় অভাবী চাষিদের জন্য বীজধান কিনে দেন।

  1. ক)

    ‘মেঘমল্লার’ কী?

    (1)
  2. খ)

    “তাদের সর্বনাশেই তো ওদের পৌষমাস।”—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ইলার মনোভাবের সঙ্গে ‘মৌসুম’ গল্পের অনসূয়ার মনোভাবের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের মজিদ সাহেবের মতো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ‘মৌসুম’ গল্পের জমিদার পরিবারে অনুপস্থিত।”—মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘মেঘমল্লার’ হলো সংগীতের একপ্রকার রাগ, যা বর্ষা ঋতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রচলিত প্রবাদ ‘কারো পৌষমাস, কারো সর্বনাশ’-এর ভাব এখানে প্রকাশ পেয়েছে। ‘মৌসুম’ গল্পে অনাবৃষ্টিতে কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তারা সর্বনাশের মুখে পড়ে। অথচ জমিদারকন্যা অনসূয়া সেই খরাতেই ছুটোছুটি করে আনন্দ করে বেড়ায়। জমিদার শ্রেণির সুখ-দুঃখের সঙ্গে প্রজাদের সুখ-দুঃখের আসমান-জমিন ফারাক বোঝাতেই কথাটি বলা হয়েছে। একই ঘটনা একপক্ষের জন্য বিপর্যয়, অন্যপক্ষের জন্য আনন্দের কারণ হওয়ার বৈপরীত্যই এখানে ফুটে উঠেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ইলা ও ‘মৌসুম’ গল্পের অনসূয়া—দুজনেই কৃষকের দুর্দশা সম্পর্কে উদাসীন এবং নিজেদের আনন্দেই মগ্ন।

    ‘মৌসুম’ গল্পে জমিদার দ্বারিকানাথ দত্ত চৌধুরীর মেয়ে অনসূয়া দীর্ঘ খরায় চাষিদের মানত, সিন্নি ও মিলাদ দেখে হাসে। সে বলে, ‘জল নামলেই তো কাদা। হোক গরম, তবু এই-ই বেশ আছি।’ পাঁচ বছর বয়সে গ্রাম ছাড়ার পর আঠারো বছর বাদে গ্রামে এসে সে ভাই-বোনদের নিয়ে মাঠে ছুটোছুটি ও লুকোচুরি খেলে আনন্দ করে। উদ্দীপকেও শহরে বড় হওয়া ইলা গ্রামে এসে চাষিদের মোনাজাত দেখে হাসে এবং বৃষ্টিতে কাদা হওয়ার কথা বলে নিজের সুবিধার কথাই ভাবে। দুজনের কেউই বোঝে না যে বৃষ্টি না হলে কৃষকের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হয়। এভাবে শহুরে ও সুবিধাভোগী মানুষের কৃষকের বাস্তবতা না বোঝার মনোভাবটি উদ্দীপক ও গল্পে সাদৃশ্যপূর্ণভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকের মজিদ সাহেবের মতো মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ‘মৌসুম’ গল্পের জমিদার পরিবারে অনুপস্থিত”—মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে মজিদ সাহেব কৃষকের কাছে বৃষ্টির গুরুত্ব বোঝেন এবং নাতনিকেও তা বোঝান। শুধু কথায় নয়, নিজের টাকায় অভাবী চাষিদের বীজধান কিনে দিয়ে তিনি কৃষকের পাশে দাঁড়ান। অর্থাৎ তাঁর সহমর্মিতা কাজের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

    ‘মৌসুম’ গল্পে জমিদার পরিবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনসূয়া খরায় চাষির কান্না নিয়ে উপহাস করে, আরও কিছুকাল খরা থাকলে জামাইবাবু ও দিদি এলে মজা করা যাবে—এমন কথাও বলে। সখানাথ তাকে সতর্ক করলে সে একে অভদ্রতা মনে করে। জমিদার দ্বারিকানাথ তো কৃষকের সংকটে সাহায্য করা দূরে থাক, আকালের সময় চাল শহরে নিয়ে ব্যবসা করেছেন। এবারও চাল মজুত করে দাম বাড়িয়ে প্রজাদের জব্দ করার পরিকল্পনা করেন এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে চান যে কোনো অভাব নেই। তাঁদের আচরণে কৃষকের প্রতি সহানুভূতি বা সহায়তার কোনো চিহ্নই নেই।

    সুতরাং কৃষকের প্রতি যে সহমর্মিতা ও সক্রিয় সহায়তা মজিদ সাহেবের মধ্যে রয়েছে, গল্পের জমিদার পরিবারে তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও