সাহিত্য পাঠ • ঋতু বর্ণন

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

চৈত্রের তীব্র গরমে ফরিদপুরের এক গ্রামের মাঠে দুপুরে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। কৃষক রহিম মিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা বটগাছের ছায়ায় আশ্রয় নেন। বিকেলে ঝিরঝিরে দখিনা বাতাস বইলে সবার মনে স্বস্তি ফিরে আসে। সন্ধ্যায় উঠোনে বেলিফুলের গন্ধে পরিবারের সবাই প্রফুল্ল হয়ে ওঠে।

  1. ক)

    ‘নিদাঘ’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “সতত দম্পতি সঙ্গে ব্যাপিত মদন।”— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার গ্রীষ্ম ঋতুর কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ঋতুর পরিবর্তনে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মনেরও রূপ বদলায়।”— উদ্দীপক ও ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার আলোকে মন্তব্যটির যৌক্তিকতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নিদাঘ’ শব্দের অর্থ গ্রীষ্মকাল বা উত্তাপ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর গ্রীষ্মে প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও চন্দন, চম্পক ফুলের মালা এবং স্নিগ্ধ দখিনা বাতাসের পরিবেশে দম্পতিদের মনে প্রেম জেগে ওঠে। ‘মদন’ প্রেমের দেবতা, আর ‘ব্যাপিত’ অর্থ ব্যাপ্ত বা আচ্ছন্ন। পঙক্তিটিতে বোঝানো হয়েছে, এ সময় দম্পতিরা সবসময় একে অপরের সঙ্গে প্রেমের আবেশে মগ্ন থাকে। এভাবে কবি গ্রীষ্ম ঋতুর সঙ্গে মানবমনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতার গ্রীষ্ম ঋতুর প্রচণ্ড রৌদ্রতাপ ও ছায়া আশ্রয় করার দিকটি ফুটে উঠেছে। কবিতায় কবি বলেছেন, ‘নিদাঘ সমএ অতি প্রচণ্ড তপন। রৌদ্র ত্রাসে রহে ছায়া চরণে সরণ॥’ অর্থাৎ গ্রীষ্মে সূর্যের তাপ এত প্রখর যে মানুষ রৌদ্রের ভয়ে ছায়ার আশ্রয় নেয়। উদ্দীপকেও চৈত্রের তীব্র গরমে মাঠের কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং রহিম মিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা বটগাছের ছায়ায় আশ্রয় নেন। এছাড়া কবিতায় ‘মলয়া পবন’ ও চন্দন-চম্পকের কথা আছে, উদ্দীপকে দখিনা বাতাস ও বেলিফুলের গন্ধ আছে। এভাবে প্রচণ্ড তাপ, ছায়ার আশ্রয় ও স্নিগ্ধ বাতাসের দিক থেকে উদ্দীপক ও কবিতা সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক। আলাওল ‘ঋতু বর্ণন’ কবিতায় ঋতু বর্ণনা করতে গিয়ে প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। বসন্তে ভ্রমরের ঝংকার ও কোকিলের কলরব শুনে যুবকের মনে অনুভব জাগে এবং মানুষ ফুলের মালা গলায় আনন্দিত হয়। গ্রীষ্মে প্রচণ্ড রোদের ভয়ে মানুষ ছায়ায় আশ্রয় নেয়, আবার মলয়া পবন ও চন্দন-চম্পকের পরিবেশে দম্পতিরা প্রেমে মগ্ন থাকে। বর্ষায় ঘন গর্জন, ময়ূরী ও ব্যাঙের রবে যুবকচিত্ত হরষিত ও শঙ্কিত হয়। শরতে দম্পতির মনে সুখ আসে, হেমন্তে পুষ্পতুল্য তাম্বুলের সুখ হয়, শীতে রাত দীর্ঘ ও সুখময় হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, গ্রীষ্মের তাপে রহিম মিয়ারা ছায়ায় আশ্রয় নেন, কিন্তু বিকেলের দখিনা বাতাসে তাঁদের মনে স্বস্তি ফেরে এবং বেলিফুলের গন্ধে সবাই প্রফুল্ল হয়। অর্থাৎ ঋতুর রূপ ও পরিবেশ বদলের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মনোভাবও বদলে যায়। সুতরাং কবিতা ও উদ্দীপক উভয়ের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও