বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
কাল্পনিক দেশ সোনাডাঙ্গার তথ্য:
| বছর | মোট জাতীয় আয় (কোটি মার্কিন ডলার) | জনসংখ্যা (কোটি) |
|---|---|---|
| ২০২১ | ৫,০০০ | ১০ |
| ২০২২ | ৬,৬০০ | ১১ |
২০২২ সালে দেশটির সরকার ঘোষণা দিল, জনগণের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। কিন্তু এ সময়ে দ্রব্যমূল্যস্তর ২০% বেড়েছে। এছাড়া দেশটির মোট আয়ের ৬০% ভোগ করে মাত্র ১০% মানুষ।
- ক)(1)
মাথাপিছু আয় কাকে বলে?
- খ)(2)
মাথাপিছু আয়কে একটি গড় মান বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ ও ২০২২ সালে সোনাডাঙ্গার মাথাপিছু আয় নির্ণয় করো এবং মাথাপিছু আয় শতকরা কত বেড়েছে তা বের করো।
- ঘ)(4)
সরকারের ঘোষণা কতটা যুক্তিযুক্ত? উদ্দীপকের তথ্য ও মাথাপিছু আয়ের সীমাবদ্ধতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকদের গড় আয়কে মাথাপিছু আয় বলে। মোট জাতীয় আয়কে মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করে এটি পাওয়া যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাথাপিছু আয় মোট জাতীয় আয়কে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে পাওয়া যায়, তাই এটি একটি গড় সংখ্যা। কোনো দেশে একটি ক্ষুদ্র অংশের আয় অনেক বেশি এবং বহু মানুষের আয় অনেক কম হলেও গড় করলে মাথাপিছু আয় বেশি দেখাতে পারে। এতে প্রত্যেক ব্যক্তির প্রকৃত আয় বোঝা যায় না। তাই মাথাপিছু আয় একটি গড় মান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয় ÷ মোট জনসংখ্যা।
২০২১ সালে মাথাপিছু আয় = ৫,০০০ কোটি ÷ ১০ কোটি = ৫০০ মার্কিন ডলার।
২০২২ সালে মাথাপিছু আয় = ৬,৬০০ কোটি ÷ ১১ কোটি = ৬০০ মার্কিন ডলার।মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি = ৬০০ − ৫০০ = ১০০ ডলার।
শতকরা বৃদ্ধি = (১০০ ÷ ৫০০) × ১০০ = ২০%।অতএব ২০২১ সালে মাথাপিছু আয় ৫০০ ডলার, ২০২২ সালে ৬০০ ডলার এবং বৃদ্ধির হার ২০%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী মাথাপিছু আয় ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার, অর্থাৎ ২০% বেড়েছে। কিন্তু জীবনযাত্রার মান শুধু আর্থিক আয়ের ওপর নয়, আয়ের ক্রয়ক্ষমতার ওপরও নির্ভর করে।
প্রথমত, একই সময়ে দ্রব্যমূল্যস্তর ২০% বেড়েছে। ফলে ৬০০ ডলারের ক্রয়ক্ষমতা আগের বছরের ৬০০ ÷ ১.২ = ৫০০ ডলারের সমান। অর্থাৎ প্রকৃত আয় বাড়েনি। আর্থিক আয় ও দ্রব্যমূল্য একই হারে বাড়লে জীবনযাত্রার মান একই থাকে। পাঠ্যবইয়ের ধারণা অনুযায়ী মূল্যস্তর অপরিবর্তিত থেকে মাথাপিছু আয় বাড়লেই কেবল জীবনযাত্রার মান বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, মোট আয়ের ৬০% ভোগ করে মাত্র ১০% মানুষ। ৯০% মানুষ পায় ৪০%। ফলে ১০% মানুষের মাথাপিছু আয় গড়ের চেয়ে অনেক বেশি, কিন্তু বাকি ৯০% মানুষের আয় গড় (৬০০ ডলার)-এর অনেক নিচে। আয়বণ্টন অসম হলে মাথাপিছু আয় বাড়লেও অধিকাংশ মানুষের জীবনমান উন্নত হয় না।
অতএব সরকারের ঘোষণা যুক্তিযুক্ত নয়। মূল্যবৃদ্ধি ও অসম বণ্টনের কারণে বেশিরভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়েনি, বরং অপরিবর্তিত বা নিম্নগামী থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও