বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে সুমি আক্তার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। গ্রামে থাকতে তাঁর পরিবার ছিল যৌথ। কারখানার আয়ে তাঁর সংসারের অভাব কিছুটা কমেছে। কারখানার কাছে ভাড়া বাসার খরচ বেশি ও মজুরি কম হওয়ায় তিনি শুধু স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে থাকেন। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে সহকর্মীদের সঙ্গে এবং ছেলেকে ঠিকভাবে সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। গ্রামে বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি একা থাকেন।

  1. ক)

    নগরায়ণ কী?

    (1)
  2. খ)

    শিল্পায়নের ফলে কীভাবে শিল্পনগরীর সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সুমি আক্তারের পরিবার কাঠামো পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "শিল্পায়ন একদিকে আশীর্বাদ, অন্যদিকে অভিশাপ"— উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে গ্রামীণ জীবন ছেড়ে নগরজীবন পদ্ধতি গ্রহণের প্রক্রিয়াকে নগরায়ণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিল্পায়নের ফলে কোনো এলাকায় কারখানা গড়ে ওঠে এবং শিল্পের স্থানীয়করণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। কর্মসংস্থানের আশায় দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক গ্রাম ছেড়ে সেখানে আসে এবং বসবাস শুরু করে। এতে ওই এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাসস্থান ও বাজার গড়ে ওঠে। এভাবে খুলনার খালিশপুর, চট্টগ্রামের বাড়বকুন্ড, সিলেটের ছাতকের মতো শিল্পনগরী সৃষ্টি হয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সুমি আক্তারের পরিবার যৌথ পরিবার থেকে একক পরিবারে রূপান্তরিত হয়েছে। এর কারণ শিল্পায়ন ও নগরায়ণ।

    শিল্পায়নের ফলে গ্রামের অনেক মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য শিল্পনগরীতে আসে। শিল্পনগরীতে বাসস্থানের সমস্যা এবং স্বল্প মজুরির কারণে পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করা সম্ভব হয় না। উদ্দীপকে সুমি আক্তার ভাড়া বেশি ও মজুরি কম হওয়ায় শুধু স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে থাকেন এবং শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রামে রয়ে গেছেন। ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার সৃষ্টি হয়েছে।

    অতএব শিল্পায়ন ও নগরায়ণের প্রভাবে বাসস্থানের সংকট ও স্বল্প আয়ই তাঁর পরিবার কাঠামো পরিবর্তনের কারণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিল্পায়ন হলো এমন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক সমাজ ও অর্থনীতি শিল্পভিত্তিক ও উৎপাদনমুখী সমাজ ও অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হয়। উদ্দীপকে সুমি আক্তারের জীবনে এর দুটি দিকই স্পষ্ট।

    আশীর্বাদের দিক: শিল্পায়নের ফলে কর্মসংস্থান বাড়ে এবং গ্রামের দক্ষ-অদক্ষ মানুষ বেকারত্ব ঘুচিয়ে কাজের সুযোগ পায়। উদ্দীপকে পোশাক কারখানায় কাজ করে সুমি আক্তারের আয় হচ্ছে এবং সংসারের অভাব কমেছে। পাশাপাশি নারী-পুরুষ একসঙ্গে কাজ করায় নারীর ভূমিকা ও মর্যাদার পরিবর্তন ঘটছে।

    অভিশাপের দিক: শিল্পনগরীতে বাসস্থানের সমস্যা ও স্বল্প মজুরির কারণে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার সৃষ্টি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে বেশি সময় দেওয়ায় সুমি আক্তার ছেলেকে সময় দিতে পারেন না, ফলে শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে সমস্যা হচ্ছে। গ্রামে শ্বশুর-শাশুড়ি একা থাকায় প্রবীণদের নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভৌগোলিক দূরত্ব কমলেও সামাজিক ও আর্থিক দূরত্ব বেড়েছে।

    সুতরাং শিল্পায়ন সুমি আক্তারের মতো মানুষের আয়ের পথ খুলে দিলেও পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে নানা সংকট সৃষ্টি করেছে। তাই এটি একদিকে আশীর্বাদ, অন্যদিকে অভিশাপ। তবে সমন্বিত প্রচেষ্টায় অভিশাপ দূর করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও