ইতিহাস ২য় পত্র • শিল্পবিপ্লব
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
মেঘনা অঞ্চল ছিল বিশটির বেশি ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত এক কৃষিপ্রধান ভূখণ্ড। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব মুদ্রা ও আলাদা শুল্কহার থাকায় এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্য পাঠানো ছিল কঠিন। কোনো উপনিবেশ না থাকায় শিল্প উৎপাদনের প্রেরণাও ছিল কম। পরে কয়েকটি রাজ্যের ব্যবসায়ীরা একটি শুল্ক জোট গঠন করেন এবং রেলপথ নির্মাণে বেসরকারি মূলধন বিনিয়োগ করেন। কয়েক দশকের মধ্যে অঞ্চলটি অন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।
- ক)(1)
জার্মানিতে সর্বপ্রথম শুল্ক সংঘ কত খ্রিস্টাব্দে গঠিত হয়?
- খ)(2)
কেইন্স জার্মানির ঐক্য ও প্রাধান্য সম্পর্কে কী বলেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মেঘনা অঞ্চলের শুরুর সমস্যাগুলো জার্মানিতে শিল্প গঠনের কোন অন্তরায়গুলোকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অন্তরায় সত্ত্বেও জার্মানি এক শতকের মধ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছিল— উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে এর কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জার্মানিতে ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে ১৮টি রাজ্য নিয়ে সর্বপ্রথম শুল্ক সংঘ গঠিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অর্থনীতিবিদ কেইন্স বলেন, রক্ত ও লৌহের দ্বারা নয়, কয়লা ও লৌহের দ্বারাই জার্মানির ঐক্য ও প্রাধান্য অর্জিত হয়েছে। এর অর্থ হলো বিসমার্কের সামরিক নীতির চেয়ে জার্মানির ঐক্য ও শক্তির মূলে শিল্পশক্তি বেশি কার্যকর ছিল। কয়লা ও লোহা উৎপাদনে জার্মানি ব্রিটেনের প্রায় সমকক্ষ হয়ে উঠলে তার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও রাজনৈতিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মেঘনা অঞ্চলের সমস্যাগুলো ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে জার্মানিতে শিল্প গঠনের অন্তরায়গুলোকে নির্দেশ করে। তখন জার্মানি ছিল ৩৮টি রাজ্যে বিভক্ত অনগ্রসর কৃষিপ্রধান দেশ। কেন্দ্রীয় কোনো শুল্কনীতি না থাকায় বিভিন্ন রাজ্যে শুল্কহার ছিল অসমান, যা উদ্দীপকের আলাদা শুল্কহারের অনুরূপ। কেন্দ্রীয় মুদ্রা না থাকায় এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পণ্য রপ্তানিতে সমস্যা দেখা দিত। উদ্দীপকে ভিন্ন মুদ্রার কারণে পণ্য পাঠানোর অসুবিধার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জার্মানির কোনো উপনিবেশ ছিল না, ফলে শিল্প উৎপাদনের প্রেরণা জার্মানদের মধ্যে দেখা দেয়নি। উদ্দীপকেও উপনিবেশহীনতার কথা আছে। এভাবে রাজনৈতিক বিভাজন, শুল্ক ও মুদ্রার অসমতা এবং উপনিবেশের অভাব জার্মানির শিল্পায়নকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মেঘনা অঞ্চলের মতোই জার্মানি অনেক অন্তরায় সত্ত্বেও ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের প্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পশক্তিতে পরিণত হয়েছিল। এর কারণগুলো নিম্নরূপ।
১. শুল্ক সংঘ গঠন: ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে ১৮টি রাজ্য নিয়ে শুল্ক সংঘ গঠিত হলে বিভিন্ন রাজ্যে পণ্য পরিবহন সহজ হয়। উদ্দীপকেও শুল্ক জোট গঠিত হয়েছে।
২. রেলপথ নির্মাণ: রেলপথ ছিল জার্মানির শিল্পায়নের প্রধান বাহন। এর ফলে অর্ধ-গ্রামীণ নগরগুলো সংযুক্ত হয় এবং জার্মানির সংহতি ও অর্থনৈতিক ঐক্য স্থাপিত হয়। ঐক্যবদ্ধ জার্মানিতে ৬,০০০ মাইল রেলপথ নির্মিত হয়।
৩. বেসরকারি মূলধন ও ব্যাংক: শিল্প প্রসারে বেসরকারি মূলধন মুখ্য ভূমিকা নেয় এবং ব্যাংকগুলো শিল্পে বিনিয়োগ করে। উদ্দীপকেও বেসরকারি মূলধনে রেলপথ গড়ে ওঠে।
৪. শিল্প ও প্রযুক্তির অগ্রগতি: ট্রাস্ট, কম্বাইন ও কার্টেল গঠনে উৎসাহ দেওয়া হয়, ক্রপ কোং স্থাপিত হয়, ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে টেলিগ্রাফ চালু হয় এবং রসায়নশিল্পে জার্মানি বিশ্বসেরা হয়।
৫. জাতীয়তাবাদ ও কর্মদক্ষতা: ঐক্যবদ্ধ জার্মানির জাতীয়তাবাদ, ইউরোপে সেরা জাতি হওয়ার বাসনা এবং জার্মানদের কর্মদক্ষতা শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
উপসংহার: এসব কারণের সমন্বয়েই জার্মানি অনগ্রসর কৃষিপ্রধান অঞ্চল থেকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের প্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পশক্তিতে রূপান্তরিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও