সাহিত্য পাঠ • সাহিত্যে খেলা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া কলেজের দেয়াল পত্রিকা ‘নবপত্র’-এর সম্পাদক। সে লেখকদের বলেছে, ভারী ও বইয়ের ভাষা বাদ দিয়ে মুখের কথার মতো সহজ ভাষায় লিখতে হবে। সম্পাদকীয়তে সে লিখেছে, “আমরা গম্ভীর মুখে জ্ঞান ঝাড়ব না; হেসে হেসেই সত্যি কথা বলব। ভাষা হবে মুখের মতো সহজ, কিন্তু যুক্তি হবে ছুরির মতো ধারালো।” নতুন ধারার লেখার জন্য পত্রিকাটি কলেজে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

  1. ক)

    ‘সাহিত্যের খেলা’ প্রবন্ধটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    প্রমথ চৌধুরীকে বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    প্রমথ চৌধুরীর গদ্যরচনার কোন কোন বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের সম্পাদকীয় অংশে ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাদিয়ার উদ্যোগ ও প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ভূমিকার মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সাহিত্যের খেলা’ প্রবন্ধটি প্রথম ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রমথ চৌধুরী ১৯১৪ সাল থেকে ‘সবুজপত্র’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। এ পত্রিকার মাধ্যমে তিনি সাধু ভাষার পরিবর্তে মুখের ভাষার কাছাকাছি চলিত গদ্যরীতি প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নিজের রচনাও এ রীতিতে লেখা এবং বাক্চাতুর্য ও বুদ্ধির দীপ্তিতে সমৃদ্ধ। সবুজপত্র চলিত গদ্যরীতির বাহন হয়ে ওঠায় তিনি এর প্রবর্তক হিসেবে কীর্তিত হন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রমথ চৌধুরীর গদ্যরচনা মার্জিত নাগরিক রুচি, প্রখর বুদ্ধির দীপ্তি, বাক্চাতুর্য ও স্মিত হাস্যরসে সমৃদ্ধ, এবং তিনি চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। উদ্দীপকের সাদিয়ার সম্পাদকীয়তে এসব বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন দেখা যায়। সে লেখকদের ভারী ভাষা বাদ দিয়ে মুখের কথার মতো সহজ ভাষায় লিখতে বলেছে, যা চলিত গদ্যরীতির প্রতিফলন। “হেসে হেসেই সত্যি কথা বলব”— অংশে স্মিত হাস্যরসের ছোঁয়া আছে। আর “যুক্তি হবে ছুরির মতো ধারালো”— বাক্যে প্রখর বুদ্ধির দীপ্তি ও বাক্চাতুর্য প্রকাশ পেয়েছে। এভাবে সম্পাদকীয়টিতে প্রমথ চৌধুরীর গদ্যশৈলীর উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সাদিয়ার উদ্যোগ ও প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ভূমিকার মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য দুটোই আছে। সাদৃশ্যের দিক হলো, দুজনেই একটি পত্রিকাকে নতুন ভাষারীতির বাহন করেছেন। প্রমথ চৌধুরী ১৯১৪ সাল থেকে সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার মাধ্যমে চলিত গদ্যরীতি চালু করেন; সাদিয়াও ‘নবপত্র’ পত্রিকায় মুখের ভাষার মতো সহজ রীতিতে লেখার আহ্বান জানিয়েছে। উভয়ের লেখাতেই গাম্ভীর্যের বদলে হাস্যরস ও বুদ্ধির ধার প্রাধান্য পেয়েছে। দুজনের উদ্যোগই পাঠকমহলে সাড়া জাগিয়েছে। বৈসাদৃশ্যের দিক হলো, সাদিয়ার উদ্যোগ একটি কলেজের দেয়াল পত্রিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, আর প্রমথ চৌধুরীর প্রয়াস সমগ্র বাংলা সাহিত্যকে প্রভাবিত করে চলিত গদ্যরীতিকে সাহিত্যের প্রধান ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাছাড়া প্রমথ চৌধুরী দর্শন ও ইংরেজি সাহিত্যে সুশিক্ষিত একজন মননশীল প্রাবন্ধিক ছিলেন, যাঁর রচনা প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা— বহু ক্ষেত্রে বিস্তৃত। সাদিয়ার প্রচেষ্টা সেখানে সম্পাদনার একটি সীমিত পরিসরে সীমাবদ্ধ। সুতরাং সাদিয়ার উদ্যোগ প্রমথ চৌধুরীর ভূমিকার ক্ষুদ্র প্রতিফলন মাত্র।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও