সহপাঠ • ১৯৭১
সহপাঠ প্রশ্ন
ডাকাতদল গ্রামে ঢুকছে শুনে ছমির মিয়া মাঝপথে বাজারের যাওয়া থামিয়ে ফিরে এসে এক পুকুরের কচুরিপানার আড়ালে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে বসে রইল। সে নিজেকে সান্ত্বনা দিল, 'ওরাও আল্লাহর বান্দা, বিনা কারণে মানুষ মারবে কেন? এসব গুজব।' কিছুক্ষণ পর গ্রামের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলির শব্দ ভেসে এলে তার সান্ত্বনা ভেঙে পড়ল।
- ক)(1)
বদিউজ্জামান কোথায় যাওয়ার জন্য ছুটছিল?
- খ)(2)
বদিউজ্জামান মাঝপথে মত বদলে নীলগঞ্জের দিকে ফিরে এলো কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছমির মিয়ার সান্ত্বনা বদিউজ্জামানের কোন মানসিকতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'মিলিটারি সম্পর্কে বদিউজ্জামানের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ছিল'- উপন্যাসাংশের ঘটনার আলোকে মন্তব্যটি যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বদিউজ্জামান মধুবন বাজারে যাওয়ার জন্য ছুটছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বদিউজ্জামান শুরুতে মধুবন বাজারে পৌঁছানোর জন্য দ্রুত যাচ্ছিল। কিন্তু মাঝপথে সে ভাবল, এই বিপদের সময় বাড়ি ছেড়ে বের হওয়া ঠিক নয়। পরিবারের লোকজনের কাছে থাকাই নিরাপদ মনে করে সে মত বদলায়। তাই সে নীলগঞ্জের দিকে ফিরে চলল। এতে তার পারিবারিক দায়বোধ ও আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ছমির মিয়ার সান্ত্বনা বদিউজ্জামানের নিজেকে মিথ্যা প্রবোধ দেওয়ার মানসিকতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। উপন্যাসে বদিউজ্জামান জঙ্গলা মাঠের কাছে একটি নিচু গর্তে এক-কোমর পানিতে লুকিয়ে ছিল। সেখানে বসে সে ভাবে, মিলিটারির নামে শোনা গল্প সব গুজব, তারা আল্লাহর বান্দা, শুধু রক্ত একটু গরম। ভয়ংকর বাস্তবতা মেনে নিতে না পারায় সে নিজেকে এভাবে বোঝায়। ছমির মিয়াও ডাকাতদের 'আল্লাহর বান্দা' বলে একই সান্ত্বনা খুঁজেছে। দুজনেরই ভয় ও অবিশ্বাসের দ্বন্দ্ব এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। বদিউজ্জামান মনে করেছিল মিলিটারি অকারণে মানুষ মারে না, এসব কেবল গুজব। কিন্তু উপন্যাসের পরবর্তী ঘটনাগুলো তার এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে। ১. নীলু সেনের হত্যা: মিলিটারির ডাকে নিচে নেমে এসে বিনীত ভঙ্গিতে 'আদাব' বলার পরপরই, তাঁর কথা শেষ হওয়ার আগে, চার-পাঁচটি গুলিতে নীলু সেন নিহত হন। তিনি কোনো অপরাধ করেননি, অথচ নিস্পন্দ মৃত্যু ঘটে। ২. ইমাম সাহেবের নির্যাতন: ইমাম সাহেবের নাক-মুখ ফুলে যায়, ঠোঁট কেটে যায় এবং সাদা পাঞ্জাবিতে রক্তের ছোপ লাগে। ৩. সুপরিকল্পিত ভীতি সৃষ্টি: মেজর সাহেব আজিজ মাস্টারকে জেরা করে গ্রামের খবর বের করার চেষ্টা করেন এবং পরে মনা ও শিশু বিরুকে শাস্তি দিয়ে গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত করার পরিকল্পনা করেন। ৪. গুলির শব্দ: বদিউজ্জামান নিজেই নীলগঞ্জের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলির শব্দ শুনতে পায়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে মিলিটারি নির্বিচারে মানুষ হত্যা ও নিপীড়ন করেছে। তাই বদিউজ্জামানের ধারণা ছিল ভ্রান্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও