সাহিত্য পাঠ • কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

আমেনা বেগম প্রতি সন্ধ্যায় নাতি-নাতনিদের গল্প শোনান। যৌবনে নদী সাঁতরে পার হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে তিনি মাঝপথে ঘটনার সুতো হারিয়ে ফেলেন এবং নিজের মতো করে বানিয়ে বলেন। ছেলে-বউরা তাঁকে ‘ভীমরতি’ ভেবে উপেক্ষা করে, কিন্তু শিশুরা মুগ্ধ হয়ে শোনে এবং বারবার জানতে চায়, ‘তারপর কী হলো দাদি?’

  1. ক)

    কপিলদাসের কিশোরকালের সঙ্গী কালো কুকুরটিকে শেষ পর্যন্ত কে খেয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    “তখন গল্পটা সে বানাতে আরম্ভ করে।”—কপিলদাস গল্প বানাতে শুরু করে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আমেনা বেগম ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ গল্পের কোন ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “বড়দের অবজ্ঞার বিপরীতে শিশুদের আগ্রহই কপিলদাসের চরিত্রে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।”—উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কপিলদাসের কিশোরকালের সঙ্গী কালো রঙের কুকুরটিকে শেষ পর্যন্ত বাঘে খেয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কপিলদাস নাতিদের বাঘ শিকারের গল্প শোনাচ্ছিল। তির খেয়ে বাঘটি চিৎকার করার পর কী হয়েছিল, তা সে কোনোভাবেই মনে করতে পারছিল না। অথচ নাতিরা ‘তারপর কী হলো’ বলে জানতে চাইছিল। শিশুদের কৌতূহল মেটাতে এবং গল্পের খেই ধরে রাখতে বৃদ্ধ বয়সের স্মৃতিভ্রংশ ঢাকতে সে মনগড়া ঘটনা জুড়ে দিয়ে গল্পটি বানাতে শুরু করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আমেনা বেগম গল্পে কপিলদাসের নাতিদের বাঘ শিকারের গল্প শোনানোর ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়। উদ্দীপকে দাদি যৌবনের সাঁতারের গল্প বলতে গিয়ে খেই হারিয়ে বানিয়ে বলেন, বড়রা তাঁকে উপেক্ষা করলেও শিশুরা মুগ্ধ হয়ে শোনে। গল্পেও কপিলদাস রাতে নাতিদের কাছে কৈশোরে তির দিয়ে বাঘ গাঁথার গল্প বলে। বাঘটার পরিণতি মনে করতে না পেরে সে গল্প বানাতে থাকে এবং ল্যাজ ধরে টেনে আনার ব্যাপারটা রঙ চড়িয়ে বলে। মেয়েরা তাকে ভীমরতিগ্রস্ত ভাবে, কিন্তু বাচ্চারা সমস্বরে জানতে চায় ‘তারপর কী হল?’। এভাবে স্মৃতি-কল্পনার মিশ্রণ এবং শিশুদের আগ্রহের দিক থেকে উদ্দীপকটি গল্পের ঘটনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি গল্পের গতিমুখের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। উদ্দীপকে আমেনা বেগমকে ছেলে-বউরা উপেক্ষা করলেও শিশুদের আগ্রহ তাঁকে আনন্দ ও প্রেরণা জোগায়। গল্পে কপিলদাসের প্রতি বড়দের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, ‘তুই বুড়া মানুষ হে মড়ল, তুই কিছু করিবা পারিস না।’ ছেলে মহিন্দরও তাকে ধমকে সরিয়ে দেয়। ফলে সে কয়েক পা পিছিয়ে এসে ‘শুধুই মেনে নেওয়ার’ অনুভূতিতে ভোগে। কিন্তু নাতিরা তার গল্প শুনতে চায়, তির শান দেওয়া আর ধনুকের ছিলা পরানো দেখতে ভিড় করে। এই উৎসাহ তাকে নতুন চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। সে বাঁশি বাজায়, গান গায়, কাঁপা হাতে ধনুকে ছিলা পরায় এবং কিশোরকালে ফিরে যায়। এই জাগরণই শেষ পর্যন্ত তাকে তির ছোড়ার সাহস ও অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। উদ্দীপকে এমন পরিণতি নেই, কেবল শিশুদের আগ্রহে বৃদ্ধার আত্মতৃপ্তি আছে। তবু শিশুদের নির্মল আগ্রহই যে বার্ধক্যের জড়তা কাটিয়ে প্রেরণা জোগায়, সেটি উভয় ক্ষেত্রে স্পষ্ট। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও