বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
রুবিনা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার গ্রামের সাত্তার সাহেবের ছয় সন্তান। তিনি কম বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন, কারণ পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই। বড়ো ছেলে কোনো কারিগরি প্রশিক্ষণ না নেওয়ায় বছরের বেশিরভাগ সময় বেকার। সম্প্রতি সে কিছু বখাটে বন্ধুর সাথে মিশে নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে।
- ক)(1)
আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে সামাজিক অবকাঠামোগত সবচেয়ে বড়ো সমস্যা কোনটি?
- খ)(2)
শিক্ষিত জনগণও দেশের উন্নয়নে আশানুরূপ অবদান রাখতে পারে না কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সাত্তার সাহেবের বড়ো ছেলের অবস্থা থেকে সমাজে কী কী সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাত্তার সাহেবের পরিবারে নারীর অবস্থান ও সন্তানসংখ্যার মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে দেখাও যে, এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সামাজিক অবকাঠামোগত সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হলো দেশের ব্যাপক জনগণের নিরক্ষরতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আমাদের দেশের শিক্ষা অনেকটাই পুঁথিগত ও জ্ঞানভিত্তিক। শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের জন্য পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে তাদের উৎপাদনশীলতা কম থাকে। ফলে শিক্ষিত হলেও তারা অর্থনৈতিক কাজে আশানুরূপ অবদান রাখতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সাত্তার সাহেবের বড়ো ছেলে কারিগরি প্রশিক্ষণের অভাবে বেকার এবং পরে অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। এটি জনসংখ্যা সমস্যা থেকে সৃষ্ট বেকারত্বের একটি উদাহরণ।
পাঠ্যবই অনুযায়ী বেকারত্ব অনেক সামাজিক সমস্যার জন্ম দেয়:
১. সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি: বেকার কিশোর ও তরুণেরা সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, যেমন উদ্দীপকের ছেলেটি পড়েছে।
২. আইনশৃঙ্খলার অবনতি: অপরাধ বাড়লে সমাজজীবন পর্যুদস্ত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩. অর্থনৈতিক ক্ষতি: বেকারত্বের কারণে মাথাপিছু আয় কম হয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার নিম্ন থাকে এবং নতুন শিল্প স্থাপনের হারও কমে যায়।
সুতরাং একজন বেকার তরুণ পরিবারের ও সমাজের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক উভয় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে পারিবারিক সিদ্ধান্তে নারীর মতামতের গুরুত্ব না থাকা, কম বয়সে মেয়ের বিয়ে এবং ছয় সন্তানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
পাঠ্যবই অনুযায়ী সরকারের নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও সমাজের সকল ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারী এখনও অনগ্রসর। পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা খুব কম। এর ফলে ব্যাপকভাবে বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সহিংসতা ও অধিক সংখ্যক সন্তানের জন্মদানের ঘটনা ঘটছে। উদ্দীপকের পরিবারটিতে এই সম্পর্কটিই দেখা যায়।
এর প্রভাব অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিম্নরূপে পড়ে:
১. জনসংখ্যাধিক্য: অধিক সন্তানের ফলে জনসংখ্যা বাড়ে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রে সরকারকে বাড়তি চাপ মোকাবিলা করতে হয়।
২. বেকারত্ব: জনসংখ্যা বাড়লে বেকারত্ব বাড়ে। বেকারত্বের কারণে মাথাপিছু আয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ কমে যায় এবং নতুন শিল্প স্থাপনের হার হ্রাস পায়।
৩. মানবসম্পদের অপচয়: দেশের অর্ধেক জনগণ নারী। তাদের পিছিয়ে রাখলে কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ কমে এবং বিপুল জনশক্তি উৎপাদনে অবদান রাখতে পারে না।
৪. সামাজিক সমস্যা: বাল্যবিবাহ ও পারিবারিক সহিংসতা সমাজজীবনকে অস্থিতিশীল করে।
এসব কারণে নারীর অনগ্রসরতা ও অধিক সন্তান জন্মদানের প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি বড়ো আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও