বাংলা ১ম পত্র • অভাগীর স্বর্গ
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
গ্রামের বৃদ্ধা সখিনা কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। ছেলে জাহিদ পাঁচ মাইল দূরের ডাক্তারের কাছে গিয়ে অনেক অনুনয় করেও তাঁকে আনতে পারেনি; ডাক্তার আগে ফি না পেলে আসবেন না বলে জানিয়ে দেন। জাহিদ ঘরের হাঁস বিক্রি করে ওষুধ নিয়ে এলে সখিনা রাগ করে বলেন, “আমার জন্য এত খরচ করলি কেন? আমরা গরিব মানুষ, আল্লাহ চাইলে এমনিই সেরে যাব।” তিনি ওষুধ খেতে চান না।
- ক)(1)
কাঙালী কবিরাজকে কত টাকা প্রণামী দিয়েছিল?
- খ)(2)
“কেন তুই আমাকে না বলে ঘটি বাঁধা দিতে গেলি বাবা!”— অভাগী একথা কেন বলেছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ডাক্তারের আচরণ ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কোন চরিত্রের আচরণের সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“বাগদি-দুলের ঘরে কেউ কখনো ওষুধ খেয়ে বাঁচে না”— অভাগীর এই মনোভাবের কারণ উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কাঙালী কবিরাজকে এক টাকা প্রণামী দিয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অভাগীর জ্বর হলে কাঙালী কবিরাজের কাছে গিয়ে ঘটি বাঁধা দিয়ে এক টাকা প্রণামী দিয়েছিল। ঘটি ছিল তাদের সামান্য সম্বলের একটি। ছেলে অভাবের মধ্যেও মায়ের জন্য এমন ক্ষতি স্বীকার করেছে জেনে অভাগী কষ্ট পায়। তা ছাড়া সে জানত, এতে কোনো লাভ হবে না। ছেলের প্রতি গভীর মমতা থেকেই সে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ডাক্তারের আচরণ ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের কবিরাজের আচরণের সাদৃশ্যপূর্ণ। গল্পে কাঙালী কবিরাজের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি করে, হাতে-পায়ে ধরে এবং ঘটি বাঁধা দিয়ে এক টাকা প্রণামী দেয়। তবু কবিরাজ অসুস্থ অভাগীকে দেখতে আসেননি, শুধু চারটি বড়ি দিয়ে বিদায় করেছেন। উদ্দীপকেও জাহিদ অনুনয় করেও ডাক্তারকে আনতে পারেনি; ডাক্তার ফি ছাড়া আসতে রাজি নন। দুজনেই দরিদ্র রোগীর প্রতি সহানুভূতিহীন এবং অর্থ ছাড়া সেবা দিতে অনিচ্ছুক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অভাগীর এই মনোভাবের মূলে রয়েছে দারিদ্র্য, সামাজিক বঞ্চনা ও আজন্ম লালিত হতাশা। উদ্দীপকে সখিনার আচরণেও একই মনোভাব দেখা যায়।
১. চিকিৎসার সুযোগের অভাব: গল্পে গ্রামে কবিরাজ নেই, ভিন্ন গ্রামের কবিরাজ টাকা নিয়েও আসেননি। উদ্দীপকে ডাক্তারও ফি ছাড়া আসেন না। দরিদ্রদের কাছে চিকিৎসা প্রায় অনায়ত্ত, তাই তারা ওষুধের ওপর ভরসা হারিয়ে ফেলে।
২. সন্তানকে ক্ষতি থেকে বাঁচানোর মমতা: অভাগী ঘটি বাঁধা দেওয়ার জন্য ছেলের ওপর রাগ করে। উদ্দীপকে সখিনাও হাঁস বিক্রির জন্য ছেলেকে ভর্ৎসনা করেন। দুজনেই নিজের জীবনের চেয়ে সন্তানের সামান্য সম্পদকে বড় মনে করেন।
৩. অদৃষ্টবাদী মানসিকতা: সখিনা ‘আল্লাহ চাইলে সেরে যাব’ বলে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেন। অভাগীও বড়ি উনানে ফেলে দিয়ে বলে ‘ভালো হই ত এতেই হবো’। অভাব ও বঞ্চনার জীবন তাদের অদৃষ্টনির্ভর করে তুলেছে।
৪. পার্থক্য: অভাগীর মনোভাবের পেছনে ছোটজাত বলে সামাজিক অবজ্ঞাও কাজ করেছে; যা উদ্দীপকে স্পষ্ট নয়।
এভাবে দেখা যায়, অভাগী ও সখিনা উভয়ের মনোভাবের কারণ দারিদ্র্য, সুচিকিৎসার অভাব ও সন্তানের প্রতি মমতা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও