সাহিত্য পাঠ • ঐকতান
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
জামালপুরের তাঁতপল্লিতে শত শত তাঁতি দিনরাত শাড়ি বোনে। তাদের হাতের শাড়ি পরে শহরের নারীরা অনুষ্ঠানে যান, কিন্তু তাঁতিদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে কোনো গান বা কবিতা প্রায় নেই। তরুণ কবি শামীম একবার তাঁতপল্লির সামনে দিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু ভেতরে ঢুকে তাদের সঙ্গে মিশতে পারেননি। পরে তিনি কয়েক মাস তাঁতিদের সঙ্গে থেকে ‘তাঁতির গান’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। বইটি পড়ে সাহিত্যপাঠকেরা নতুন এক জগতের সন্ধান পান।
- ক)(1)
চাষি খেতে কী চালাইছে?
- খ)(2)
“তারি পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার”— কথাটি বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
তাঁতপল্লির সামনে দিয়ে গিয়েও শামীমের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারার ঘটনাটি ‘ঐকতান’ কবিতার কবির কোন অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
“অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরুভূমি রসে পূর্ণ করি দাও তুমি।”— উদ্দীপকের আলোকে চরণটির তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর চাষি খেতে হাল চালাইছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর চাষি, তাঁতি, জেলে প্রভৃতি শ্রমজীবী মানুষ নানা কর্মে নিয়োজিত। চাষি ফসল ফলায়, তাঁতি কাপড় বোনে, জেলে মাছ ধরে। এই বিচিত্র ও বহুদূর প্রসারিত কর্মভারের ওপর নির্ভর করেই মানুষের সমগ্র সংসার ও সমাজ টিকে আছে। কবি এভাবে শ্রমজীবী মানুষের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরেছেন, যদিও সমাজে তারা যথাযথ সম্মান পায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শামীমের এই ঘটনা ‘ঐকতান’ কবিতার কবির “মাঝে মাঝে গেছি আমি ও পাড়ার প্রান্তের ধারে, ভিতরে প্রবেশ করি সে শক্তি ছিল না একেবারে”— এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। কবিতায় কবি স্বীকার করেছেন, সমাজের উচ্চ মঞ্চে বসে তিনি ব্রাত্য মানুষের পাড়ায় ক্ষণিকের জন্য উঁকি দিয়েছেন মাত্র, কিন্তু তাদের জীবনের গভীরে প্রবেশ করতে পারেননি। উদ্দীপকে তরুণ কবি শামীমও তাঁতপল্লির প্রান্ত ঘেঁষে গেছেন, ভেতরে ঢুকে তাদের সঙ্গে মিশতে পারেননি। দুজনের ক্ষেত্রেই শ্রমজীবী মানুষের জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগের অভাব ছিল। এর ফলে তাদের জীবনের বাস্তবতা তাঁদের সৃষ্টিতে ধরা পড়ার সুযোগ হয়নি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোচ্য চরণে কবি ভবিষ্যতের কবিকে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি উপেক্ষিত মানুষের জীবনকে সাহিত্যে স্থান দিয়ে সাহিত্যের ঊষর ভুবনকে রসে পূর্ণ করেন। কবির মতে, জেলে, তাঁতি, চাষির মতো শ্রমজীবী মানুষ অবজ্ঞার কারণে সাহিত্যের বিষয়সভায় স্থান পায়নি। ফলে সাহিত্যের জগৎ আনন্দহীন মরুভূমির মতো শুষ্ক হয়ে আছে। উদ্দীপকে তাঁতিদের জীবনসংগ্রাম নিয়ে কোনো গান বা কবিতা না থাকা সেই অবজ্ঞারই প্রকাশ। শামীম কয়েক মাস তাঁতিদের সঙ্গে থেকে ‘তাঁতির গান’ রচনা করে সাহিত্যে সেই শূন্যতা পূরণ করেছেন। পাঠকেরা যে নতুন জগতের সন্ধান পেয়েছেন, তা কবির কাঙ্ক্ষিত রস সৃষ্টিরই ফল। তবে একটি কাব্যগ্রন্থই সমগ্র শ্রমজীবী সমাজকে সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত করে না; কবি যে ঐকতানের কথা বলেছেন, তার জন্য এমন প্রয়াস ধারাবাহিক হওয়া দরকার। সব মিলিয়ে চরণটির তাৎপর্য উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও