বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • সৌরজগৎ ও ভূমণ্ডল

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

মংলা বন্দরের কাছে নদীর মোহনায় একটি বড় পণ্যবাহী জাহাজ কয়েক ঘণ্টা নোঙর করে অপেক্ষা করছে। সোমবার ভোর ৬টায় সেখানে মুখ্য জোয়ার ছিল। জাহাজের ক্যাপ্টেন জানেন, জোয়ারের সময় নদীর গভীরতা বাড়লে জাহাজ বন্দরে ঢুকতে পারবে। সেদিন ছিল পূর্ণিমা। স্থানীয় একজন জেলে বললেন, পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় পানি অন্যদিনের চেয়ে অনেক বেশি ফুলে ওঠে, আবার কখনো কখনো নদীতে প্রবল বান আসে।

  1. ক)

    মরা কটাল কোন তিথিতে হয়?

    (1)
  2. খ)

    পৃথিবীর ওপর সূর্যের আকর্ষণের চেয়ে চন্দ্রের আকর্ষণ বেশি কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের স্থানটিতে সোমবার ভোর ৬টায় মুখ্য জোয়ার হলে গৌণ জোয়ার কখন হবে এবং পরবর্তী মুখ্য জোয়ার কখন হবে, নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জোয়ার-ভাটা মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলে? মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করলে মরা কটাল হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা অনেক গুণ বড়, তাই তার আকর্ষণ শক্তিও বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু মহাকর্ষ শক্তি দূরত্ব বাড়লে কমে যায়। সূর্য পৃথিবী থেকে চন্দ্রের তুলনায় অনেক বেশি দূরে অবস্থিত। চন্দ্র পৃথিবীর অনেক কাছে থাকায় পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ সূর্যের প্রায় দ্বিগুণ হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো স্থানে মুখ্য জোয়ার হওয়ার ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পর গৌণ জোয়ার হয় এবং ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট পর আবার মুখ্য জোয়ার হয়।

    গৌণ জোয়ার: সোমবার ভোর ৬টা + ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট = সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিট।

    পরবর্তী মুখ্য জোয়ার: সোমবার ভোর ৬টা + ২৪ ঘণ্টা ৫২ মিনিট = মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫২ মিনিট।

    (কারণ: চন্দ্র ২৭ দিনে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে বলে প্রতিদিন প্রায় ১৩° পথ এগিয়ে যায়। পৃথিবীর এই ১৩° অতিক্রম করতে আরও ১৩ × ৪ = ৫২ মিনিট লাগে। তাই ২৪ ঘণ্টা + ৫২ মিনিট ব্যবধান হয়।)

    উত্তর: গৌণ জোয়ার সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২৬ মিনিটে এবং পরবর্তী মুখ্য জোয়ার মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫২ মিনিটে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জোয়ার-ভাটা মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পরিবেশের ওপর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই ফেলে।

    ইতিবাচক প্রভাব: উদ্দীপকের জাহাজের মতো সমুদ্রগামী বড় জাহাজ জোয়ারের সময় নদীর গভীরতা বাড়লে অনায়াসে বন্দরে প্রবেশ করে এবং ভাটার টানে সমুদ্রে ফিরে যায়। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে এভাবেই ব্যবসা-বাণিজ্য চলে। দৈনিক দুবার জোয়ার-ভাটা হওয়ায় নদীর আবর্জনা পরিষ্কার হয়, পানি নির্মল থাকে এবং মোহনায় পলি জমে মুখ বন্ধ হতে পারে না। নদীখাত গভীর হয়। জোয়ারের পানি আটকে খাল দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া যায়, সমুদ্রের পানি আবদ্ধ করে লবণ তৈরি করা হয় এবং ভাটার স্রোত কাজে লাগিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, যেমন ফ্রান্সের ল্যারান্স বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

    নেতিবাচক প্রভাব: উদ্দীপকে বর্ণিত পূর্ণিমা-অমাবস্যায় ভরা কটালের সময় সমুদ্রের পানি প্রবল তরঙ্গে মোহনা দিয়ে স্থলভাগে ঢুকে বান বা বন্যা সৃষ্টি করে। বানের পানি ৩-৪ ফুট থেকে প্রায় ৪০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এতে নৌকা, স্টিমার, জাহাজসহ জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

    সুতরাং ক্ষতির দিক থাকলেও জোয়ার-ভাটা নৌ-পরিবহন, কৃষি, লবণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে, তাই এর সামগ্রিক প্রভাব মানুষের অর্থনীতির জন্য বেশি সহায়ক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও