সাহিত্য পাঠ • ঐকতান

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

একাদশ শ্রেণির ছাত্র নাসিফ কক্সবাজারের বাইরে কখনো যায়নি। অথচ সুন্দরবন, সাজেক, হিমালয় কিংবা আমাজন নিয়ে তার আগ্রহের শেষ নেই। সে নিয়মিত ভ্রমণকাহিনি পড়ে, তথ্যচিত্র দেখে এবং নোটখাতায় নতুন নতুন জায়গার বর্ণনা টুকে রাখে। নাসিফ বলে, “নিজে সব দেখা তো সম্ভব নয়, তাই অন্যের চোখ দিয়েই দেখে নিই।” তবু তার মনে একটা ক্ষোভ রয়ে গেছে যে পৃথিবীর কত কিছুই তার অজানা।

  1. ক)

    কবি কোন ধরনের গ্রন্থ পাঠ করেন?

    (1)
  2. খ)

    “জ্ঞানের দীনতা এই আপনার মনে পূরণ করিয়া লই যত পারি ভিক্ষালব্ধ ধনে।”— ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নাসিফের জ্ঞান আহরণের পদ্ধতির সঙ্গে ‘ঐকতান’ কবিতার কবির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “নাসিফের জ্ঞান আহরণ কবির ‘ভিক্ষালব্ধ ধন’-এর মতো, কিন্তু এতে কবির প্রত্যাশিত পূর্ণতা আসে না।”— ‘ঐকতান’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি ভ্রমণবৃত্তান্ত সংবলিত গ্রন্থ পাঠ করেন, যেখানে চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী পাওয়া যায়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি অনুভব করেন, বিপুলা পৃথিবীর অতি সামান্য অংশই তিনি জানেন। নিজের জ্ঞানের এই দীনতা বা অভাব তিনি অন্যের লেখা ভ্রমণবৃত্তান্ত পাঠ করে পূরণ করার চেষ্টা করেন। অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া এই জ্ঞানকে তিনি ‘ভিক্ষালব্ধ ধন’ বলেছেন, কারণ তা নিজে অর্জন করা নয়, অন্যের কাছ থেকে নেওয়া। এভাবে কবি যতটা সম্ভব নিজের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে নেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নাসিফ ও ‘ঐকতান’ কবিতার কবি উভয়েই অন্যের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের অজানা জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করেন। কবিতায় কবি বলেছেন, বিশাল বিশ্বের সামান্য অংশই তাঁর মনে জায়গা পেয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকে তিনি অক্ষয় উৎসাহে ভ্রমণবৃত্তান্ত পড়েন এবং চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী কুড়িয়ে আনেন। উদ্দীপকে নাসিফও নিজে সব জায়গায় যেতে না পেরে ভ্রমণকাহিনি পড়ে ও তথ্যচিত্র দেখে নতুন জায়গার বর্ণনা সংগ্রহ করে। তার মনেও অজানার জন্য ক্ষোভ রয়েছে। এভাবে আহরণের পদ্ধতি ও মানসিকতার দিক থেকে উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য স্পষ্ট।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। নাসিফ অন্যের লেখা ও তথ্যচিত্র থেকে জ্ঞান নেয়, যা কবির ভিক্ষালব্ধ ধনের মতো। ‘ঐকতান’ কবিতায় কবি জ্ঞানের দীনতা পূরণের জন্য ভ্রমণবৃত্তান্ত পাঠ করেছেন, কিন্তু এতেই তিনি তৃপ্ত নন। তিনি স্বীকার করেছেন, তাঁর স্বরসাধনায় বহুতর ডাক পৌঁছায়নি এবং ফাঁক রয়ে গেছে। কারণ পরের চোখে দেখা জগৎ আর নিজের জীবনের সঙ্গে জীবন যোগ করে জানা জগৎ এক নয়। কবির মতে, জীবনে জীবন যোগ না করলে সৃষ্টি কৃত্রিম পণ্যে পরিণত হয়। উদ্দীপকে নাসিফও কেবল পাঠ ও দর্শনের মাধ্যমে জানে, প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তার নেই; তাই তার মনে ক্ষোভ রয়ে গেছে। অর্থাৎ ভিক্ষালব্ধ জ্ঞান অভাব কিছুটা মেটালেও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার পূর্ণতা দিতে পারে না। এদিক থেকে কবির উপলব্ধির সঙ্গে নাসিফের অবস্থা সংগতিপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও