বাংলা ১ম পত্র • অভাগীর স্বর্গ

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

চেয়ারম্যান আবদুল মান্নানের মা মারা গেলে জানাজায় হাজার মানুষ জমায়েত হয়। দামি কাফন, আতর-গোলাপজল ও বিশাল ভোজের আয়োজন হয়; শহর থেকে আত্মীয়-স্বজন ছুটে আসেন। অথচ একই গ্রামের দিনমজুর ছমির মিয়ার স্ত্রী মারা গেলে কাফনের কাপড় কেনার টাকাও তার ছিল না। কয়েকজন প্রতিবেশী চাঁদা তুলে কোনোমতে ব্যবস্থা করে দিলেও বেশির ভাগ মানুষ দূর থেকে দেখে সরে পড়ে। ছমির নীরবে চোখের জল ফেলতে ফেলতে স্ত্রীকে কবর দেয়।

  1. ক)

    ঠাকুরদাস মুখুয্যে কিসের কারবারে অতিশয় সঙ্গতিপন্ন ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    “এ যেন বড়বাড়ির গৃহিণী পঞ্চাশ বর্ষ পরে আর একবার নূতন করিয়া তাঁহার স্বামীগৃহে যাত্রা করিতেছেন”— কেন বলা হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মায়ের মৃত্যুর আয়োজন ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের যে ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, তা অভাগীর মনে কী প্রভাব ফেলেছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ধনী ও দরিদ্রের মৃত্যুর প্রতি সমাজের আচরণে যে বৈষম্য ফুটে উঠেছে, ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পেও তা প্রতিফলিত হয়েছে।”— বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ঠাকুরদাস মুখুয্যে ধানের কারবারে অতিশয় সঙ্গতিপন্ন ছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুখুয্যে-গিন্নির শবযাত্রা ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। মেয়েরা মায়ের পায়ে গাঢ় আলতা ও মাথায় ঘন সিঁদুর পরিয়ে দিয়েছিল, বধূরা কপালে চন্দন লেপে বহুমূল্য বস্ত্রে দেহ ঢেকে দিয়েছিল। ফুল, পাতা, গন্ধ, মালা ও কোলাহলে পুরো পরিবেশ উৎসবের মতো হয়ে উঠেছিল। এ কারণে সেটিকে শোকের ব্যাপার মনে হয়নি, বরং মনে হয়েছে নববধূর মতো সেজে গৃহিণী আবার স্বামীর ঘরে যাচ্ছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের মায়ের জাঁকজমকপূর্ণ সৎকার ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পের ঠাকুরদাস মুখুয্যের স্ত্রীর ধুমধামের শবযাত্রা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে স্মরণ করিয়ে দেয়। গল্পে মুখুয্যে-গিন্নির মৃত্যুতে আলতা, সিঁদুর, চন্দন, ঘৃত, মধু ও হরিধ্বনির আয়োজন হয়েছিল এবং ছেলের হাতে মুখাগ্নি দেওয়া হয়েছিল। দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে কাঙালীর মা অভাগী গভীরভাবে অভিভূত হয়। সে মনে করে, ছেলের হাতের আগুন পেলেই মানুষ রথে চড়ে স্বর্গে যায়। তাই সে মনে মনে প্রার্থনা করে, তার মৃত্যুতেও যেন কাঙালীর হাতের আগুন পাওয়া যায়। এই দৃশ্যই তার মনে নিজের মৃত্যু ও সৎকার নিয়ে তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলে, যা পরবর্তী ঘটনার সূত্রপাত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। ‘অভাগীর স্বর্গ’ গল্পে ধনী ও গরিবের মৃত্যুর প্রতি সমাজের আচরণের বৈষম্য স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে।
    ১. ধনীর মৃত্যুতে সমারোহ: উদ্দীপকে চেয়ারম্যানের মায়ের জানাজায় হাজার মানুষ আসে, দামি কাফন ও ভোজের ব্যবস্থা হয়। গল্পেও ঠাকুরদাস মুখুয্যের স্ত্রীর মৃত্যুতে সারা গ্রাম ভেঙে পড়ে, প্রচুর কাঠ, চন্দনের টুকরা, ঘৃত ও মধুসহ বিপুল আয়োজনে শবদাহ হয়।
    ২. গরিবের মৃত্যুতে অবহেলা: উদ্দীপকে ছমিরের স্ত্রীর কাফনের টাকাও ছিল না, বেশির ভাগ মানুষ দূর থেকে দেখে সরে যায়। গল্পে অভাগীর মৃত্যুতে দাহ করার কাঠ জোটে না। জমিদারের গোমস্তা পাঁচ টাকা গাছের দাম চায়, মুখুয্যে মশাই কাঠ দিতে অস্বীকার করেন, ভট্টাচার্য বলেন নদীর চরে মাটি দিতে। শেষে খড়ের আঁটির আগুনে নদীর চরে অভাগীকে মাটি চাপা দেওয়া হয়।
    ৩. পার্থক্য: উদ্দীপকে কিছু প্রতিবেশী চাঁদা তুলে সহায়তা করে, কিন্তু গল্পে ছোটজাত ও দরিদ্র বলে অভাগীর প্রতি সমাজের নিষ্ঠুরতা আরও কঠিন; এখানে জাতিভেদ ও জমিদারি শোষণ যুক্ত হয়েছে।
    সুতরাং বৈষম্যের মূল সুর উভয়ত্র এক হলেও গল্পে তা আরও গভীর ও নির্মম রূপে প্রকাশ পেয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও