জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানবদেহের প্রতিরক্ষা (ইমিউনিটি)

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

রাফির বয়স দশ বছর। স্কুল থেকে ফেরার পর তার শরীর কাঁপতে থাকে এবং থার্মোমিটারে দেহের তাপমাত্রা ১০২°F ওঠে। মা ভয় পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে জ্বর নামানোর ওষুধ দিতে চাইলে দাদি বললেন, "এই জ্বর দেহের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং দেহ তার নিজের উপায়ে লড়াই করছে।"

  1. ক)

    পাইরোজেন কী?

    (1)
  2. খ)

    জ্বরকে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তরের শেষ অস্ত্র বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রাফির দেহে জ্বর আসার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মায়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্বর নামানোর সিদ্ধান্ত কি যুক্তিযুক্ত? দাদির মন্তব্যের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ম্যাক্রোফেজ যখন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা বহিরাগত কণাকে আক্রমণ করে, তখন শ্বেতকোষ থেকে ক্ষরিত যে পলিপেপটাইড মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে কাজ করে দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তাকে পাইরোজেন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর দেহে জীবাণু প্রবেশ করলে ত্বক, লালা ইত্যাদি প্রথম স্তর এবং ফ্যাগোসাইট, NK-কোষ, প্রদাহ, কমপ্লিমেন্ট ও ইন্টারফেরনের মতো দ্বিতীয় স্তরের অন্যান্য ব্যবস্থা কাজ করে। এগুলো দিয়ে সংক্রমণ ঠেকানো না গেলে ম্যাক্রোফেজ পাইরোজেন ক্ষরণ করে দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। উচ্চ তাপমাত্রায় জীবাণু সুবিধা পায় না এবং দেহের বিপাক হার ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়ে। দ্বিতীয় স্তরের নন-স্পেসিফিক ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ কার্যকর হয় বলে একে শেষ অস্ত্র বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাফির দেহে কোনো জীবাণু (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) প্রবেশ করেছে। জ্বর আসার প্রক্রিয়া নিম্নরূপ: ১. দেহে প্রবিষ্ট জীবাণুকে ম্যাক্রোফেজ শনাক্ত করে আক্রমণ করে। ২. তখন শ্বেতকোষগুলো থেকে পাইরোজেন নামক পলিপেপটাইড ক্ষরিত হয়। ৩. পাইরোজেন রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে পৌঁছে সেখানে বিপাকীয় পরিবর্তন ঘটায় এবং দেহের তাপমাত্রার নির্ধারিত মাত্রা স্বাভাবিকের (97–99°F) চেয়ে উঁচুতে তুলে দেয়। ৪. নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে দেহ কেঁপে ওঠে, ফলে তাপমাত্রা বেড়ে জ্বর আসে। রাফির শরীর কাঁপা ও ১০২°F তাপমাত্রা এ প্রক্রিয়ারই ফল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাফির জ্বর ১০২°F, যা কম বা মাঝারি ধরনের জ্বরের (১০২–১০৪°F) সীমার মধ্যে পড়ে। এ ধরনের জ্বর দেহের জন্য উপকারী, তাই মায়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্বর নামানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত নয় এবং দাদির মন্তব্য সঠিক। কারণ: ১. উচ্চ তাপমাত্রায় দেহের ভিতরে জীবাণু তেমন সুবিধা পায় না, তাদের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ২. জ্বরে দেহকোষের বিপাকীয় হার বেড়ে যায়, ফলে প্রতিরক্ষা পদ্ধতি দ্রুত ও সক্রিয়ভাবে কাজ করে। ৩. ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর ক্ষয়পূরণ দ্রুততর হয়। ৪. সংক্রমণ দমন হলে ম্যাক্রোফেজ পাইরোজেন ক্ষরণ বন্ধ করে দেয় এবং তাপমাত্রা আপনা-আপনি স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে জ্বর দুই দিনের বেশি স্থায়ী হলে বা অত্যধিক বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতএব প্রথম দিনেই ওষুধ দিয়ে জ্বর নামানোর চেয়ে রাফির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও