ভূগোল ১ম পত্র • প্রাকৃতিক ভূগোল

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

ফাহিমের দেশটি ছোট ও ঘনবসতিপূর্ণ। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে খাদ্য ও জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে, অথচ স্থলভাগের গ্যাস ও খনিজ সম্পদ দ্রুত কমছে। তাই সরকার সাগরের তলদেশে গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, গভীর সাগরে মাছ আহরণ এবং সাগরের পানি থেকে লবণ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কাজের জন্য সাগরের গভীরতা, স্রোত, পানির লবণাক্ততা এবং সামুদ্রিক জীবের তথ্য প্রয়োজন।

  1. ক)

    সমুদ্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে আলোচনার সুবিধার্থে কয়টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়?

    (1)
  2. খ)

    রাসায়নিক সমুদ্রবিজ্ঞান বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের দেশটি সমুদ্রসম্পদের দিকে ঝুঁকছে কেন? প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যয়নের গুরুত্বের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত তথ্যগুলো সংগ্রহে সমুদ্রবিজ্ঞানের তিনটি ভাগের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সমুদ্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো ভৌত সমুদ্রবিজ্ঞান, রাসায়নিক সমুদ্রবিজ্ঞান ও জৈবিক সমুদ্রবিজ্ঞান।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সমুদ্রবিজ্ঞানের যে ভাগে সমুদ্রের পানির রাসায়নিক গঠন ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে রাসায়নিক সমুদ্রবিজ্ঞান বলে। এখানে সমুদ্রের পানি এবং এর লবণ-বৃদ্ধির কারণ প্রভৃতি বিষয় বিশ্লেষণ করা হয়। সমুদ্রের পানির লবণাক্ততা, রাসায়নিক পদার্থের পরিমাণ ও তার বণ্টন জানতে এই শাখার জ্ঞান প্রয়োজন হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের দেশটি সমুদ্রসম্পদের দিকে ঝুঁকছে, কারণ স্থলভাগের সম্পদ দিয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
    ১. জনসংখ্যা বৃদ্ধি: পৃথিবীর জনসংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে, ফলে আরও বেশি খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য উপকরণ প্রয়োজন হচ্ছে।
    ২. স্থলভাগের সীমাবদ্ধতা: পৃথিবীর স্থলভাগের সামান্য এলাকা বর্তমান জনসংখ্যার প্রয়োজন মেটাতে অক্ষম।
    ৩. সম্পদের নিঃশেষ: স্থলভাগের বহু অঞ্চলের অনবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শক্তি সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
    ৪. আধুনিক জীবনযাত্রা: আধুনিক জীবনযাত্রার জন্য পূর্বের তুলনায় বেশি জ্বালানি ও উপকরণের প্রয়োজন হচ্ছে।
    এসব কারণে মানুষ সমুদ্রসম্পদের অনুসন্ধান ও আহরণের দিকে হাত বাড়াচ্ছে। প্রাকৃতিক ভূগোলের সমুদ্রবিজ্ঞানে এই অনুসন্ধান ও আহরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাই এ জ্ঞান অর্জন গুরুত্বপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সরকার সাগরের গভীরতা, স্রোত, লবণাক্ততা ও সামুদ্রিক জীবের তথ্য চায়। এই তথ্যগুলো সমুদ্রবিজ্ঞানের তিনটি ভাগ থেকে পাওয়া যায়। ভাগগুলোর ভূমিকা নিচে মূল্যায়ন করা হলো।
    ১. ভৌত সমুদ্রবিজ্ঞান: এই ভাগে সমুদ্রের প্রাকৃতিক বিষয়, যেমন জলরাশি, সমুদ্রস্রোত, তরঙ্গ, জোয়ার-ভাটা ও তলদেশের ভূপ্রকৃতি বর্ণনা ও বিশ্লেষণ করা হয়। গভীর সাগরে গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে গভীরতা ও তলদেশের গঠনের তথ্য এবং জাহাজ ও মাছ আহরণে স্রোতের তথ্য এই ভাগ থেকে পাওয়া যায়।
    ২. রাসায়নিক সমুদ্রবিজ্ঞান: এই ভাগ সমুদ্রের পানির রাসায়নিক গঠন ও লবণ-বৃদ্ধির কারণ আলোচনা করে। সাগরের পানি থেকে লবণ উৎপাদনের উদ্যোগের জন্য লবণাক্ততা ও পানির উপাদানের তথ্য এখান থেকেই আসে।
    ৩. জৈবিক সমুদ্রবিজ্ঞান: এই ভাগে সমুদ্রের পানিতে বসবাসকারী উদ্ভিদ ও প্রাণীর বণ্টন এবং জীবনচক্র আলোচিত হয়। মাছ আহরণের এলাকা বাছাই এবং সামুদ্রিক জীবসম্পদ টিকিয়ে রাখার পরিকল্পনা এ ভাগের ওপর নির্ভর করে।
    মূল্যায়ন: তিনটি ভাগের প্রতিটি আলাদা তথ্য জোগায় এবং কোনো ভাগকেই বাদ দেওয়া যায় না। যেমন, মাছ ধরার এলাকা ঠিক করতে স্রোতের তথ্য (ভৌত) ও মাছের বণ্টনের তথ্য (জৈবিক) দুটিই লাগে। তাই উদ্দীপকের টেকসই সমুদ্রসম্পদ আহরণের উদ্যোগের জন্য সমুদ্রবিজ্ঞানের তিনটি ভাগই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও