ভূগোল ২য় পত্র • বাণিজ্য

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের সারণিতে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানিকারক কয়েকটি দেশের তথ্য দেওয়া হলো।

দেশআমদানিকৃত শ্রমিক (জন)
সৌদি আরব৫,৫১,৩০৮
মালয়েশিয়া৯৯,৭৮৭
ওমান৮৯,০৭৪
কাতার৮২,০১২
কুয়েত৪৯,৬০৪
সিঙ্গাপুর৪০,৪০১

সম্প্রতি ‘ক’ দেশটি ব্যয় ও বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণে শ্রমিক নেওয়া কমিয়েছে। অন্যদিকে ‘খ’ নামের একটি ইউরোপীয় দেশ পরীক্ষামূলকভাবে কিছু বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়েছে।

  1. ক)

    BMET-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশে জনশক্তির প্রাপ্যতা অধিক হওয়াকে জনশক্তি আমদানিকারক দেশগুলো কীভাবে সুযোগ হিসেবে নেয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সারণিতে শীর্ষ স্থানে থাকা দেশটির বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি না হলে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়তে পারে’—উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর BMET-এর পূর্ণরূপ হলো Bureau of Manpower, Employment and Training (জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি এবং এই বিপুল জনসংখ্যার অনেকেই দেশে কাজ পায় না। এই সহজলভ্যতা বিবেচনা করে বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানি করে। জনবহুল হওয়ায় শ্রমিকেরা স্বল্প মূল্যে বিদেশে যেতে রাজি হয়। আমদানিকারক দেশ এই সুযোগে সস্তায় শ্রমিক পেয়ে নিজেদের উৎপাদন ব্যয় কমায় ও শিল্প সম্প্রসারণ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সারণিতে শীর্ষ স্থানে রয়েছে সৌদি আরব, যেখানে ২০১৭ সালে ৫,৫১,৩০৮ জন বাংলাদেশি শ্রমিক গেছে।

    সৌদি আরবের বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানির কারণগুলো হলো: প্রথমত, বাংলাদেশের সাথে দেশটির রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সুসম্পর্কের কারণে শ্রমিক পাঠানো ও নেওয়া সহজ হয়। দ্বিতীয়ত, দেশটির শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রচুর শ্রমের প্রয়োজন, যা স্থানীয়ভাবে মেটে না। তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জনশক্তি সহজলভ্য ও স্বল্প মূল্যে পাওয়া যায়। চতুর্থত, বাংলাদেশি শ্রমিকেরা দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে, ফলে উৎপাদন বাড়ে। তাই সৌদি আরব সবচেয়ে বেশি শ্রমিক আমদানি করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকের সারণি অনুযায়ী ২০১৭ সালে ছয়টি দেশের মোট শ্রমিকের (৫,৫১,৩০৮ + ৯৯,৭৮৭ + ৮৯,০৭৪ + ৮২,০১২ + ৪৯,৬০৪ + ৪০,৪০১ = ৯,১২,১৮৬ জন) মধ্যে একা সৌদি আরবই নিয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এ থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি কয়েকটি দেশের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, দেশের শ্রম রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক।

    এই নির্ভরশীলতার ঝুঁকি স্পষ্ট। উদ্দীপকের ‘ক’ দেশটি ব্যয় ও বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণে শ্রমিক নেওয়া কমিয়েছে। বাস্তবে সৌদি আরবে বেকারত্ব বৃদ্ধি, আরব আমিরাতের বাজার শুধু গৃহখাতে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়া এবং সরকার পরিবর্তনের কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমিক আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে শ্রম রপ্তানির হার কমেছে। একটি বাজার সংকুচিত হলে রেমিট্যান্স আয় ও কর্মসংস্থান দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    এ ঝুঁকি কমানোর পথ হলো নতুন বাজার খোঁজা। উদ্দীপকের ‘খ’ ইউরোপীয় দেশটির মতো রুমানিয়া ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সুদান ও লিবিয়া বাংলাদেশি জনশক্তি আমদানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সুতরাং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি ও সম্প্রসারণ না হলে প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও