তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • মাল্টিমিডিয়া ও গ্রাফিক্স
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
নুসরাত একটি গল্পের বইয়ের প্রচ্ছদ তৈরি করছে। প্রথমে সে ফটোশপে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু নকশা ও লেখার কাজে সীমাবদ্ধতা অনুভব করায় এখন এডোবি ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করছে। সে টুলবক্স থেকে একটি টুল সিলেক্ট করে পর্দার ফাঁকা জায়গায় ক্লিক করে বইয়ের নাম টাইপ করল। এরপর ডাইরেক্ট সিলেকশন টুল দিয়ে লেখার ওপর ক্লিক করায় লেখার নিচে একটি রেখা দেখা গেল। সে লেখার রং ও আকার পরিবর্তন করতে চায়।
- ক)(1)
বেজলাইন কী?
- খ)(2)
ডাইরেক্ট সিলেকশন টুল দিয়ে লেখার মধ্যে ক্লিক করলে কী ঘটে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
নুসরাতের ব্যবহৃত লেখা বিন্যাসের পদ্ধতিটির নাম কী? পদ্ধতিটি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নুসরাতের জন্য কেন ফটোশপের চেয়ে ইলাস্ট্রেটর প্রচ্ছদ তৈরিতে বেশি উপযোগী? লেখার রং ও আকার পরিবর্তনের পদ্ধতিসহ যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সিলেকশন টুল বা ডাইরেক্ট সিলেকশন টুল দিয়ে লেখার অক্ষরের ওপর ক্লিক করলে লেখাগুলোর নিচে যে রেখাটি দেখা যায়, তাকে বেজলাইন (Baseline) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ডাইরেক্ট সিলেকশন টুল দিয়ে লেখার মধ্যে ক্লিক করলে একবারে টাইপ করা সবটুকু অংশ, অর্থাৎ একই বেজলাইন বিশিষ্ট পুরো লেখা সিলেক্ট হয়। এ ক্ষেত্রে অক্ষরগুলো হাইলাইটেড হয় না, শুধু অক্ষরের নিচ দিয়ে বেজলাইন দেখা যায়। ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের মতো কোনো একটি অক্ষর বা শব্দ আলাদাভাবে সিলেক্ট করতে হলে টাইপ টুল ব্যবহার করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নুসরাত টাইপ টুল সিলেক্ট করে পর্দার ফাঁকা জায়গায় ক্লিক করে লিখেছে। এটি পয়েন্ট টেক্সট (Point Text) পদ্ধতি।
ধাপসমূহ:
১. টুলবক্স থেকে টাইপ টুল (Type Tool) সিলেক্ট করতে হবে।
২. পর্দার যেকোনো ফাঁকা জায়গায় ক্লিক করতে হবে।
৩. বাংলায় লেখার জন্য কিবোর্ডকে বাংলা কিবোর্ডে রূপান্তর করতে হবে।
৪. রিবনে ক্যারেক্টার (Character) লেখার ওপর ক্লিক করলে ক্যারেক্টার প্যালেট পাওয়া যাবে। সেই প্যালেটের ফন্ট পপ-আপ মেনু থেকে কাঙ্ক্ষিত ফন্ট সিলেক্ট করতে হবে।
৫. এরপর ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের নিয়মে বইয়ের নাম টাইপ করতে হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এডোবি ইলাস্ট্রেটর মূলত ছবি আঁকা, নকশা প্রণয়ন, লোগো তৈরি এবং অন্যান্য ডিজাইন তৈরির প্রোগ্রাম। ফটোশপে ডিজাইনের কাজ করার সুযোগ খুবই সীমিত, তেমনি ইলাস্ট্রেটরে ছবি সম্পাদনার সুযোগ প্রায় নেই। নুসরাতের কাজ প্রচ্ছদের নকশা ও লেখা, যা অঙ্কন শিল্পের কাজ, তাই ইলাস্ট্রেটর তার জন্য বেশি উপযোগী।
আরও যুক্তি:
১. গল্প, কবিতা, উপন্যাস ইত্যাদির প্রচ্ছদ তৈরিতে শিল্পীরা এখন রং-তুলির বদলে ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার করেন। পোস্টার, ব্যানার, বিজ্ঞাপন, আমন্ত্রণপত্রের কাজও এতে সহজ।
২. এতে কিবোর্ডের পাশাপাশি তুলি দিয়ে লেখার মতো করেও লেখা যায় এবং লেখার পরে অক্ষরের আকার ও আকৃতি ইচ্ছামতো বদলানো যায়।
৩. কাজের সুবিধা ও বৈচিত্র্যের কারণে এর চাহিদা বেশি।লেখার রং পরিবর্তন: লেখা বা অক্ষর সিলেক্ট করে কালার প্যালেটের বার-এ বা সোয়াচ প্যালেটে কাঙ্ক্ষিত রঙে ক্লিক করলে সিলেক্ট করা লেখায় সেই রং আরোপিত হবে।
লেখার আকার পরিবর্তন: অক্ষর বা শব্দ সিলেক্ট থাকা অবস্থায় ক্যারেক্টার প্যালেটের ফন্ট সাইজ ঘরের ডানে নিম্নমুখী তীরে ক্লিক করে তালিকা থেকে মাপ বেছে নিতে হবে। তালিকায় কাঙ্ক্ষিত মাপ না থাকলে ফন্ট সাইজ ঘরে ক্লিক করে বিদ্যমান সংখ্যা Backspace দিয়ে মুছে নতুন সংখ্যা টাইপ করে Enter চাপলে সিলেক্ট করা অক্ষর ঐ মাপে ছোটো-বড়ো হয়ে যাবে।
সুতরাং, নকশা ও লেখার বৈচিত্র্যময় কাজের জন্য নুসরাতের ইলাস্ট্রেটর ব্যবহার সঠিক সিদ্ধান্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও