জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
মিঠুর পুকুরে সে তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প চাষ করে, আর বাড়ির বাগানে পেঁপে ও আনারস লাগিয়েছে। তার জীববিজ্ঞান শিক্ষক বললেন, ‘এই জীবগুলো আমাদের দেশের নিজস্ব নয়।’ এরপর তিনি বললেন, পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে এক সময় পাওয়া যেত এমন একটি সরীসৃপ প্রাণী ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের এন্ডেমিক। জেলেদের জালে আটকে মারা পড়ায় এখন বাংলাদেশে প্রায় বিলুপ্ত।
- ক)(1)
Exotic প্রাণী কাকে বলে?
- খ)(2)
এন্ডেমিক ও এক্সোটিক জীবের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের জীবগুলোকে এন্ডেমিক ও এক্সোটিক এ দুই ভাগে ভাগ করে কারণসহ লেখ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শিক্ষকের উল্লিখিত সরীসৃপ প্রাণীটি বাংলাদেশে প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার কারণ ও সংরক্ষণের উপায় বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এক ভৌগোলিক অঞ্চল (দেশ) থেকে অন্য ভৌগোলিক অঞ্চলে (দেশে) প্রবর্তিত উদ্ভিদ বা প্রাণীকে আগত অঞ্চলের Exotic উদ্ভিদ/প্রাণী বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১. এন্ডেমিক জীব কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে এবং ওই অঞ্চলের বাইরে অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। অন্যদিকে এক্সোটিক জীব অন্য অঞ্চল বা দেশ থেকে এনে একটি নতুন অঞ্চলে প্রবর্তন করা হয়। ২. এন্ডেমিক জীব ওই অঞ্চলের নিজস্ব জীবসম্পদ, যেমন ঘড়িয়াল ও শ্বেত কাকাতুয়া। এক্সোটিক জীব আগত অঞ্চলের নিজস্ব নয়, যেমন বাংলাদেশে পেঁপে, আনারস, তেলাপিয়া ও সিলভার কার্প।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত জীবগুলো হলো তেলাপিয়া, সিলভার কার্প, পেঁপে, আনারস এবং পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্রের সরীসৃপ প্রাণী ঘড়িয়াল। এক্সোটিক জীব: তেলাপিয়া, সিলভার কার্প, পেঁপে ও আনারস। এগুলো অন্য দেশ বা অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে প্রবর্তিত হয়েছে, বাংলাদেশের নিজস্ব জীব নয়। তাই এগুলো বাংলাদেশের এক্সোটিক (পরদেশী) জীব। এন্ডেমিক জীব: ঘড়িয়াল (Gavialis gangeticus)। এটি ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় সীমাবদ্ধ সরীসৃপ, যার উল্লেখযোগ্য এন্ডেমিক ফনা তালিকায় নাম রয়েছে। তাই ঘড়িয়ালকে এন্ডেমিক প্রাণী বলা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত সরীসৃপ প্রাণীটি হলো ঘড়িয়াল (Gavialis gangeticus), যা বাংলাদেশে অতি বিপদাপন্ন সরীসৃপ। বিলুপ্তির কারণ: ১. জেলেদের মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে এদের জীবনাবসান ঘটে, যা বিলুপ্তির একটি বড় কারণ। ২. এরা গভীর ও দ্রুত প্রবাহমান পানিতে বাস করে এবং বালুতে গর্ত করে ৩০-৫০টি ডিম পাড়ে। নদীর পরিবেশ নষ্ট হলে প্রজনন ব্যাহত হয়। ৩. এদের প্রধান খাদ্য মাছ; মাছ কমে গেলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। ৪. বাংলাদেশে এদের সংখ্যা এত কম যে এরা প্রায় বিলুপ্ত, উজান থেকে আসা ঘড়িয়ালই কদাচিৎ দেখা যায়। সংরক্ষণের উপায়: ১. জেলেদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে, যাতে জালে ধরা পড়লে ঘড়িয়ালকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ২. পদ্মা ও ব্রহ্মপুত্রের প্রজননক্ষেত্র ও বালুচর সুরক্ষিত রাখতে হবে। ৩. নদীতে মাছের পর্যাপ্ততা বজায় রাখতে হবে। ৪. বন্য পরিবেশে ইন-সিটু এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রজননের মাধ্যমে এক্স-সিটু সংরক্ষণ করে সংখ্যা বাড়াতে হবে। এভাবে ঘড়িয়ালকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও