জীববিজ্ঞান • জীবে পরিবহন
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
প্রবল জ্বরে আক্রান্ত দশম শ্রেণির ছাত্র তানভীরের রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট নিচে দেওয়া হলো। চিকিৎসক জানালেন, তার দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া সহজে থামছে না এবং সে খুব দুর্বল বোধ করছে।
| উপাদান | তানভীরের রিপোর্ট | সাধারণ মান (প্রতি ঘনমিলিমিটারে) |
|---|---|---|
| লোহিত রক্তকোষ | ৩০ লক্ষ | প্রায় ৫০ লক্ষ |
| শ্বেত রক্তকোষ | ৭,০০০ | ৪,০০০ – ১০,০০০ |
| অণুচক্রিকা | ৪০,০০০ | প্রায় আড়াই লাখ |
- ক)(1)
অণুচক্রিকার গড় আয়ু কত?
- খ)(2)
অণুচক্রিকাকে অনেকে সম্পূর্ণ কোষ বলেন না কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রিপোর্ট অনুযায়ী তানভীরের মাড়ি থেকে রক্ত পড়া থামছে না কেন? রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াসহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রিপোর্টে তানভীরের রক্তের কোন কোন উপাদান স্বাভাবিক নেই? এর ফলে তার দেহে কী কী সমস্যা হতে পারে— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অণুচক্রিকার গড় আয়ু ৫-১০ দিন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অণুচক্রিকার সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং এতে মাইটোকন্ড্রিয়া ও গলজি বস্তুর মতো অঙ্গাণু থাকলেও নিউক্লিয়াস থাকে না। অনেকের মতে এগুলো অস্থিমজ্জার বৃহদাকার কোষের ছিন্ন অংশ। নিউক্লিয়াসবিহীন হওয়া এবং কোষের ছিন্ন অংশ হিসেবে উৎপন্ন হওয়ার কারণে এদের সম্পূর্ণ কোষ বলা হয় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানভীরের রিপোর্টে অণুচক্রিকার সংখ্যা ৪০,০০০, যা সাধারণ মান প্রায় আড়াই লাখের চেয়ে অনেক কম। অণুচক্রিকা রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে। তাই রক্তে এর পরিমাণ কম থাকায় রক্ত জমাট বাঁধতে পারছে না এবং রক্তপাত সহজে বন্ধ হচ্ছে না।
রক্ত তঞ্চনের ধাপ:
১. রক্তবাহিকা কেটে গেলে সেখানকার অণুচক্রিকা সক্রিয় হয়ে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাস্টিন তৈরি করে।
২. থ্রম্বোপ্লাস্টিন রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনকে থ্রম্বিনে পরিণত করে।
৩. থ্রম্বিন রক্তরসের ফাইব্রিনোজেনকে অদ্রবণীয় ফাইব্রিন সুতায় রূপান্তর করে।
৪. ফাইব্রিন সুতার জালিকা ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বাঁধায় ও রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।
এ প্রক্রিয়ায় ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম আয়নও প্রয়োজন হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রিপোর্ট অনুযায়ী তানভীরের শ্বেত রক্তকোষ ৭,০০০ যা ৪,০০০–১০,০০০ এর স্বাভাবিক সীমার মধ্যে আছে। কিন্তু লোহিত রক্তকোষ (৩০ লক্ষ) ও অণুচক্রিকা (৪০,০০০) স্বাভাবিকের চেয়ে কম।
লোহিত রক্তকোষ কম হওয়ার ফল: লোহিত রক্তকোষের হিমোগ্লোবিন অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে। কোষের সংখ্যা কমলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায় এবং রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। তখন দেহকোষে অক্সিজেন কম পৌঁছায়, ফলে শ্বসন ও শক্তি উৎপাদন কমে গিয়ে তানভীর দুর্বল বোধ করে। এটি উদ্দীপকের দুর্বলতার সাথে মিলে যায়।
অণুচক্রিকা কম হওয়ার ফল: অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে। এর সংখ্যা কমলে ক্ষতস্থানে ফাইব্রিন জালিকা সহজে তৈরি হয় না, ফলে রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না। এজন্য মাড়ি থেকে রক্ত পড়া থামছে না। এভাবে চলতে থাকলে অনেক সময় রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।
শ্বেত রক্তকোষ স্বাভাবিক থাকায় ফ্যাগোসাইটোসিস ও অ্যান্টিবডির মাধ্যমে জীবাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় আছে বলে ধরা যায়। তবে তানভীরের অক্সিজেন পরিবহন ও রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা দুটোই ব্যাহত হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসা ও প্রয়োজনে রক্ত সঞ্চালন জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও