জীববিজ্ঞান • গ্যাসীয় বিনিময়

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

ফাহিম পরিবারের সাথে ভাত খেতে খেতে হঠাৎ কথা বলায় তার খাবারের কিছু অংশ শ্বাসনালির দিকে যাওয়ার উপক্রম হলো, কিন্তু সে সামলে নিল। ফাহিমের বড় ভাই সাঁতার প্রশিক্ষণে বক্ষ ভরে গভীর শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন করে। শরীরের একটি পেশিবহুল পর্দা সংকুচিত হয়ে নিচে নামার ফলে তার বক্ষগহ্বর প্রসারিত হয় ও বাইরের বায়ু ফুসফুসে প্রবেশ করে।

  1. ক)

    উপজিহ্বা কী?

    (1)
  2. খ)

    খাবার গ্রহণের সময় খাদ্য শ্বাসনালিতে প্রবেশ করে না কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    ফাহিমের বড় ভাইয়ের শ্বাস গ্রহণের সময় উদ্দীপকে উল্লিখিত পর্দার ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ফাহিমের বড় ভাইয়ের গভীর শ্বাসের সময় নাক দিয়ে গৃহীত বায়ু ফুসফুসের বায়ুধলি পর্যন্ত পৌঁছানোর পথে শ্বসনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ কীভাবে ফুসফুসের জন্য বায়ুকে উপযোগী করে তোলে এবং গ্যাসীয় বিনিময় নিশ্চিত করে—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্বরযন্ত্রের উপরে অবস্থিত জিহ্বা আকৃতির যে ঢাকনা খাদ্য গ্রহণের সময় স্বরযন্ত্রের মুখ ঢেকে দেয়, তাকে উপজিহ্বা (Epiglottis) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার সময় উপজিহ্বা খোলা থাকে, ফলে বাতাস ফুসফুসে যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু খাওয়ার সময় উপজিহ্বা স্বরযন্ত্রের মুখ ঢেকে দেয়। এর ফলে খাদ্য শ্বাসনালিতে না গিয়ে সরাসরি খাদ্যনালিতে প্রবেশ করে। এছাড়া গলাধঃকরণের সময় আলজিহ্বা নাসাপথের পশ্চাৎপথ বন্ধ করে দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত পর্দাটি হলো মধ্যচ্ছদা, যা বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরকে পৃথক করে।
    স্নায়ুবিক উত্তেজনায় মধ্যচ্ছদা ও পিঞ্জরাস্থির মাংসপেশি সংকুচিত হয়। ফলে মধ্যচ্ছদা নিচের দিকে নেমে যায় এবং বক্ষগহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায়। আয়তন বাড়ায় ফুসফুসের ভেতরের বায়ুর চাপ বাইরের বায়ুর চাপের চেয়ে কমে যায়। চাপের সমতা রক্ষার জন্য বাইরের বায়ু নাসাপথ দিয়ে সহজে ফুসফুসের ভেতর প্রবেশ করে। এভাবে মধ্যচ্ছদা প্রশ্বাস গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাসারন্ধ্র থেকে বায়ুধলি পর্যন্ত শ্বসনতন্ত্রের প্রতিটি অংশ বায়ুকে উপযোগী করা ও গ্যাসীয় বিনিময়ে নির্দিষ্ট ভূমিকা রাখে।
    ১. নাসাপথ: এর সামনের অংশের লোম এবং পেছনের অংশের শ্লেষ্মাযুক্ত পর্দায় ধূলিকণা, রোগজীবাণু আটকে যায়। বায়ু কিছুটা উষ্ণ ও আর্দ্র হয়, ফলে হঠাৎ ঠান্ডা বায়ু ফুসফুসের ক্ষতি করে না।
    ২. গলবিল ও স্বরযন্ত্র: গলবিল নাসাপথের পরে বায়ু চলাচলের পথ তৈরি করে। স্বরযন্ত্র এর নিচে অবস্থিত এবং উপজিহ্বা খোলা থাকায় বায়ু ফুসফুসে যেতে পারে।
    ৩. শ্বাসনালি: এর প্রাচীর অসম্পূর্ণ বলায়াকার তরুণাস্থি দিয়ে গঠিত বলে সবসময় খোলা থাকে। অন্তর্গাত্রের সূক্ষ্ম লোম অপ্রয়োজনীয় কণাকে শ্লেষ্মার সাথে বাইরে ঠেলে দেয়।
    ৪. ব্রঙ্কাস ও ব্রঙ্কিওল: শ্বাসনালি দুটি ব্রঙ্কাসে বিভক্ত হয়ে দুই ফুসফুসে প্রবেশ করে, পরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্রঙ্কিওলে ভাগ হয়ে বায়ুকে সব বায়ুধলিতে পৌঁছে দেয়।
    ৫. অ্যালভিওলাস: এগুলোর পাতলা প্রাচীর কৈশিকনালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকায় এখানে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় O₂ রক্তে প্রবেশ করে ও CO₂ বায়ুধলিতে আসে।
    এভাবে পর্যায়ক্রমে বায়ু পরিশোধিত হয়ে বায়ুধলিতে পৌঁছায় এবং গ্যাসীয় বিনিময় সম্পন্ন হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও