ভূগোল ২য় পত্র • পরিবহন ও যোগাযোগ

ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন

কামাল বরিশাল থেকে রাতের লঞ্চে ঢাকা যাচ্ছিলেন। লঞ্চের গতি ছিল ধীর এবং নদীর কিছু অংশে চর জেগে থাকায় লঞ্চটিকে ঘুরে যেতে হয়। রাতে নদীপথে কোনো সংকেত ছিল না। চালকও ছিলেন অদক্ষ, ফলে লঞ্চটি ঘাটে ভিড়তে গিয়ে অন্য একটি নৌযানের সাথে ধাক্কা খায়। ঘাটে যাত্রীদের বসার কোনো বিশ্রামাগারও ছিল না।

  1. ক)

    নৌ পরিবহনের নিরাপত্তার জন্য নৌযানে কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা উচিত?

    (1)
  2. খ)

    নদী ভরাট নৌ পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি করে- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের নৌ পরিবহনের কোন কোন সমস্যা ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তোমার সুপারিশ উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নৌ পরিবহনের নিরাপত্তার জন্য ছোট-বড় সব নৌযানে বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা উচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের নদীগুলোতে প্রতি বছর পলিমাটি জমে তলদেশ ভরাট হয়ে যায়। এর ফলে নদীতে চর সৃষ্টি হয় এবং নদীর গভীরতা কমে যায়। গভীরতা কম হলে বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়, যেমন পদ্মা নদীতে দেখা যায়। এভাবে নদী ভরাট নৌ পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাংলাদেশের নৌ পরিবহনের বেশ কয়েকটি সমস্যা ফুটে উঠেছে।
    ১. নদী ভরাট: নদীতে চর জেগে ওঠায় লঞ্চকে ঘুরে যেতে হয়েছে। পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হওয়া নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।
    ২. ধীরগতির জলযান: আধুনিক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের অভাবে জলযান ধীরগতির হয়, ফলে যাত্রা ও পণ্য পরিবহনে বেশি সময় লাগে।
    ৩. সংকেত ব্যবস্থার অভাব: নদীপথে প্রয়োজনীয় সংকেত ব্যবস্থা না থাকায় রাতে নৌযান চলাচলে সমস্যা হয়।
    ৪. দক্ষ চালকের অভাব: অদক্ষ চালকের কারণে লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে।
    ৫. যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার অভাব: ঘাটে বিশ্রামাগারের অভাবে রোদ-বৃষ্টিতে যাত্রীদের ভোগান্তি হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে নদী ভরাট, সংকেতের অভাব, অদক্ষ চালক, ধীরগতির যান ও যাত্রী সুবিধার অভাবের মতো সমস্যা দেখা যায়। এগুলো সমাধানে নিচের সুপারিশগুলো করা যায়।
    ১. ড্রেজিং: শুকনো মৌসুমে নদীর চ্যানেল ঠিক রাখতে যথাযথ ড্রেজিং করতে হবে। একই গভীরতায় ড্রেজিং করা এবং ড্রেজ করা বালু এমনভাবে ফেলা যেন তা আবার নদীতে ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
    ২. সংকেত ও বেতার ব্যবস্থা: নদীপথে রাতে চলাচলের উপযোগী সংকেত বসাতে হবে এবং সব নৌযানে বেতার যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এতে দুর্ঘটনা কমবে।
    ৩. দক্ষ চালক তৈরি: চালক ও নাবিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে এবং লাইসেন্স প্রদানে কঠোরতা আনতে হবে।
    ৪. নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ: অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই বন্ধ করতে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ করতে হবে এবং রাতে নৌযানে ও ঘাটে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।
    ৫. আধুনিক নৌযান ও সুবিধা: আধুনিক ও দ্রুতগতির ইঞ্জিনযুক্ত নৌযান নির্মাণ ও মেরামতের কারখানা গড়ে তুলতে হবে এবং ঘাটে যাত্রী বিশ্রামাগার ও গুদাম নির্মাণ করতে হবে।
    এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে নৌ পরিবহন নিরাপদ, দ্রুত ও আরামদায়ক হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও