সাহিত্য পাঠ • ফুল্লরার বারোমাস্যা
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
চরের বাসিন্দা সুফিয়া বেওয়ার একচালা টিনের ঘরের খুঁটি বাঁশের তৈরি। প্রতি বছর বর্ষায় নদীর পানি বেড়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। ঝড় এলে চালের টিন উড়ে যায়, তাই বর্ষার আগেই সে ঘর মেরামতের চিন্তায় অস্থির থাকে। স্বামী নদীতে মাছ ধরে যা পায় তাতে সংসার চলে না। সুফিয়া ভাবে, ঝড়বৃষ্টি না থাকলেও তাদের দুঃখ কমত না, কারণ টাকার অভাবই আসল শত্রু।
- ক)(1)
‘ভেরাঙা’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“ভেরাঙার খাম তার আছে মধ্য ঘরে।”— কথাটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুফিয়ার ঘরের সঙ্গে ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র ফুল্লরার ঘরের তুলনামূলক বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
“সুফিয়ার ভাবনা ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র মূল সুরকে প্রতিফলিত করে।”— মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘ভেরাঙা’ শব্দের অর্থ রেড়িগাছ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফুল্লরার ঘরটি ভাঙা কুঁড়েঘর, যার ছাউনি পাতার তৈরি। সেই ঘরের মাঝখানে একটিমাত্র খুঁটি আছে, যা রেড়িগাছের তৈরি। রেড়িগাছের কাঠ দুর্বল ও ঠুনকো বলে সামান্য ঝড়েই ঘর ভেঙে পড়ার ভয় থাকে। এ বর্ণনার মধ্য দিয়ে ফুল্লরার ঘরের জীর্ণ দশা ও চরম দারিদ্র্য প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সুফিয়ার ঘর ও ফুল্লরার ঘর উভয়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে অসহায়। সুফিয়ার ঘর বাঁশের খুঁটির একচালা টিনের ঘর। ঝড়ে তার চালের টিন উড়ে যায় এবং বর্ষায় ঘরে পানি ঢোকে। ‘ফুল্লরার বারোমাসী’তে ফুল্লরার ঘর ভাঙা কুঁড়েঘর, যার ছাউনি পাতার এবং খুঁটি রেড়িগাছের। বৈশাখ মাসে প্রতিদিন ঝড়ে তার ঘর ভেঙে পড়ে, শ্রাবণ-ভাদ্রের বর্ষণে চারদিক জলে একাকার হয়ে যায়। দুই ঘরের উপকরণ আলাদা হলেও দুটিই দুর্বল, ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এবং মেরামতের সামর্থ্যহীন মানুষের আশ্রয়। তাই বলা যায়, দারিদ্র্যের কারণে দুজনের ঘরই নিরাপদ আশ্রয় হয়ে উঠতে পারেনি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সুফিয়ার ভাবনা ‘ফুল্লরার বারোমাসী’র মূল সুরকে প্রতিফলিত করে— মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে সুফিয়া ভাবে, ঝড়বৃষ্টি না থাকলেও তাদের দুঃখ কমত না, কারণ অর্থের অভাবই আসল সমস্যা। ‘ফুল্লরার বারোমাসী’তে বারো মাসের প্রকৃতি ফুল্লরার দুঃখের পটভূমি হলেও দুঃখের মূল কারণ তার দারিদ্র্য। আষাঢ়ে বৃষ্টিতে গৃহস্থের সম্বল ফুরিয়ে যায়, ফুল্লরা মাংসের পসরা নিয়ে ঘরে ঘরে ঘুরেও পায় সামান্য খুদ-কুড়া, যাতে পেট ভরে না। আশ্বিনে অন্যরা দুর্গাপূজায় ভালো কাপড় পরে, কিন্তু ফুল্লরা পেটের চিন্তায় অস্থির। কার্তিকে অন্যদের কাপড় থাকলেও সে পরে হরিণের ছাল। চৈত্রে চাল পাওয়ার জন্য সে মাটির পাত্র বন্ধক রাখে। অর্থাৎ ঋতু বদলালেও তার অভাব বদলায় না; প্রকৃতি কেবল সেই অভাবকে আরও কষ্টদায়ক করে তোলে। সুফিয়ার উপলব্ধিও এই সত্যের কাছাকাছি। তবে উদ্দীপকে সুফিয়ার দুঃখের বর্ণনা সীমিত কয়েকটি ঘটনায়, আর কবিতায় প্রতিটি মাসের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র আছে। তবু মূল সুর অভিন্ন বলে মন্তব্যটি সঠিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও