সাহিত্য পাঠ • সুখ
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
বন্যায় সিরাজগঞ্জের বহু গ্রাম তলিয়ে গেলে একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাকিব তার বন্ধুদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী দল গড়ে। ঈদের কেনাকাটার জন্য জমানো টাকায় তারা চাল, ডাল ও কাপড় কিনে বন্যার্তদের মাঝে বিলি করে। ফেরার পথে রাকিব বন্ধুদের বলে, “নতুন পোশাক কিনলে এত তৃপ্তি পেতাম না, যতটা আজ পেলাম।”
- ক)(1)
কবি কায়কোবাদ কত বছর বয়সে ‘বিরহবিলাপ’ কাব্য রচনা করেন?
- খ)(2)
“তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে”—কবি কেন এ কথা বলেছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাকিবের মনোভাবের সঙ্গে ‘সুখ’ কবিতার সাদৃশ্য নিরূপণ করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকে ‘সুখ’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশিত হয়নি।”—মন্তব্যটির পক্ষে অথবা বিপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি কায়কোবাদ মাত্র বারো বছর বয়সে ‘বিরহবিলাপ’ কাব্য রচনা করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি মনে করেন, ধন-সম্পদের মতো বাহ্যিক উপকরণে প্রকৃত সুখ নেই, সুখ নিহিত মানুষের অন্তরে। যে মানুষ অহংকার ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে অন্যের অশ্রু মোছায় এবং দুঃখ ঘোচায়, সে এক ধরনের আত্মিক প্রশান্তি লাভ করে। এই প্রশান্তিই প্রকৃত সুখ, যা কোনো বস্তু দিয়ে কেনা যায় না। তাই কবি আত্মার ভিতরেই সুখ পাওয়ার কথা বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রাকিবের মনোভাবের সঙ্গে ‘সুখ’ কবিতার পরহিতে সুখ লাভের ভাবনার সাদৃশ্য রয়েছে। কবিতায় কায়কোবাদ বলেছেন, সুখ পর-উপকারে নিহিত; নিজের সুখ ভুলে পরের কথা ভাবলে এবং দীনদুঃখীর ব্যথা ঘোচালে মানুষ আত্মার ভিতরে সুখ পায়। উদ্দীপকে রাকিব ঈদের কেনাকাটার জন্য জমানো নিজের টাকা বন্যার্তদের জন্য ব্যয় করেছে। নিজের আনন্দের চেয়ে অন্যের কষ্ট লাঘবকে সে বড় করে দেখেছে। কাজ শেষে সে যে গভীর তৃপ্তি অনুভব করেছে, তা কবির বর্ণিত আত্মিক সুখেরই প্রকাশ। এভাবে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে পরের উপকার করা এবং তাতে প্রশান্তি লাভ—এই দিক থেকে উদ্দীপক ও কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “উদ্দীপকে ‘সুখ’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশিত হয়নি”—মন্তব্যটির পক্ষে আমি যুক্তি দিচ্ছি। উদ্দীপকে রাকিব ও তার বন্ধুরা নিজেদের কেনাকাটার অর্থে বন্যার্তদের সাহায্য করে তৃপ্তি লাভ করেছে। এখানে পরহিত ও স্বার্থত্যাগের মাধ্যমে আত্মিক সুখের দিকটি এসেছে। কিন্তু কায়কোবাদের ‘সুখ’ কবিতার পরিধি আরও ব্যাপক। কবিতায় প্রথমে দেখানো হয়েছে যে ধন-রত্ন ও সুখৈশ্বর্যে সুখ নেই; এই বিশ্ব মরুভূমির মতো এবং সুখ মরীচিকার মতো ছলনাময়। উদ্দীপকে বস্তুগত সম্পদের এই অসারতার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। এছাড়া কবি ‘আমিত্ব’কে বলি দেওয়ার কথা বলেছেন এবং সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা—অর্থাৎ নিরবধি পরের দুঃখ ঘোচানোর আহ্বান জানিয়েছেন। রাকিবের কাজ একটি বিশেষ ঘটনায় সীমাবদ্ধ, সারাজীবনের ব্রত হিসেবে আসেনি। কবিতার শেষে ‘যা রোপিবে তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি’ বলে কর্মফলের যে দর্শন আছে, তাও উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সুতরাং উদ্দীপকে কবিতার আংশিক ভাব ধরা পড়লেও সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশিত হয়নি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও